ভারত-পাক সীমান্তের কাছে বিদ্যুৎ প্রকল্পের অনুমতি!
ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের মাত্র এক কিলোমিটার দূরত্বে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণের অনুমোদনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এই বিষয়টি এবার সংসদের মধ্যেও উত্তপ্ত আলোচনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কংগ্রেস সাংসদরা জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রয়োজনীয় সমস্ত ছাড়পত্র পাওয়ার পরেই প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়েছে।
সংসদে বিতর্কের ঝড়
বুধবার লোকসভায় কংগ্রেস সাংসদ মণীশ তিওয়ারি প্রশ্ন তোলেন, “জাতীয় নিরাপত্তা ও বিদ্যুৎ খাতের নিরাপত্তা পরস্পর সম্পর্কিত হওয়া উচিত। কীভাবে আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে এমন একটি প্রকল্প অনুমোদন পেল?” তিনি উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী, বড় শিল্পকারখানা সীমান্ত থেকে অন্তত ২০ কিলোমিটার দূরে থাকা উচিত। তবে এই প্রকল্পের ক্ষেত্রে কি কোনো বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে?
জবাবে কেন্দ্রীয় নব এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী বলেন, “দেশের পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি উৎপাদনে সরকার আগ্রহী। এই প্রকল্পের অনুমোদনের আগে কেন্দ্র, রাজ্য সরকার এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার অনুমতি নেওয়া হয়েছে।” কিন্তু এই জবাবে কংগ্রেস সাংসদরা সন্তুষ্ট হননি।
সংসদ বয়কট করলেন কংগ্রেস ও ডিএমকে সাংসদরা
মন্ত্রী প্রহ্লাদের বক্তব্যের পর কংগ্রেস সাংসদরা জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, যার ফলে কংগ্রেস ও ডিএমকে সাংসদরা সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন। পরে সংসদের বাইরে মণীশ তিওয়ারি বলেন, “বিদ্যুৎ খাতের নিরাপত্তা ও জাতীয় নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য রাখা প্রয়োজন। গুজরাতের খাভড়ায় তৈরি হওয়া এই বিদ্যুৎ প্রকল্পটি সীমান্তের মাত্র এক কিলোমিটার দূরে। নিয়ম অনুযায়ী, সীমান্তের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো বড় শিল্প স্থাপন করা যায় না। অথচ আমরা এই বিষয়ে পরিষ্কার উত্তর পেলাম না। তাই আমরা প্রতিবাদ স্বরূপ সংসদ বয়কট করেছি।”
সরকারপক্ষের অবস্থান
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই প্রকল্পে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো আপস করা হয়নি। কেন্দ্রের বক্তব্য, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর অনুমোদনও মিলেছে। তবে কংগ্রেসের দাবি, এই প্রকল্পের মাধ্যমে আদানি গোষ্ঠী বিশেষ সুবিধা পেয়েছে। লোকসভায় কংগ্রেসের উপদলনেতা গৌরব গগৈ বলেন, “আমরা জানতে চেয়েছিলাম, আদানি গোষ্ঠী কি জাতীয় নিরাপত্তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ?” কিন্তু সরকারের কাছ থেকে কোনও সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া যায়নি।
বিতর্কের সূত্রপাত
এই বিতর্কের সূত্রপাত গত ১২ ফেব্রুয়ারি, যখন ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয় যে, ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের কাছে বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য নিরাপত্তা বিধি শিথিল করা হয়েছে। এতে আদানি গোষ্ঠী সুবিধা পেয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই কংগ্রেস কেন্দ্রীয় সরকারকে একের পর এক আক্রমণ করে চলেছে।
জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন কতটা গুরুতর?
দেশের জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদন গুরুত্বপূর্ণ, তবে তার সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি অবহেলা করা যায় না। সীমান্তের এত কাছে কোনো বড় প্রকল্পের অনুমোদন ভবিষ্যতে নিরাপত্তার দিক থেকে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের মত। বিরোধীদের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারকে এই প্রকল্প নিয়ে আরও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে এবং জনগণের সামনে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরতে হবে।
ভারতের বদলার জয়: ২৫ বছর পর নিউ জিল্যান্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি রোহিতদের হাতে