ভারত-পাকিস্তান টানাপোড়েনে জয়পুর স্টেডিয়াম থেকে সরানো হলো পাক ক্রিকেটার দানিশ কানেরিয়ার ছবি

জয়পুর স্টেডিয়াম থেকে সরানো হলো পাক ক্রিকেটার দানিশ কানেরিয়ার ছবি! ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের টানাপোড়েন থামার নাম নিচ্ছে না। এমন এক উত্তেজনার মধ্যেই জয়পুরের সওয়াই মানসিংহ স্টেডিয়াম থেকে পাকিস্তানের প্রাক্তন ক্রিকেটার দানিশ…

May 20, 2025
1 min read

জয়পুর স্টেডিয়াম থেকে সরানো হলো পাক ক্রিকেটার দানিশ কানেরিয়ার ছবি!

ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের টানাপোড়েন থামার নাম নিচ্ছে না। এমন এক উত্তেজনার মধ্যেই জয়পুরের সওয়াই মানসিংহ স্টেডিয়াম থেকে পাকিস্তানের প্রাক্তন ক্রিকেটার দানিশ কানেরিয়ার ছবি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে মাঠ কর্তৃপক্ষ কোনো অফিসিয়াল কারণ জানাননি। তবে জানা গেছে, এই স্টেডিয়ামে গত কয়েকদিনে দু’বার বোমাতঙ্কের হুমকিসহ বিভিন্ন হুমকি মেল এসেছে। এর প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তার দিক বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

দানিশ কানেরিয়া পাকিস্তানের একজন স্বনামধন্য ক্রিকেটার। ভারতের মাটিতে ছয়টি টেস্ট ও দু’টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন তিনি। তবে কখনো জয়পুরে খেলেননি। তাই কেমন করে তাঁর ছবি সেখানে ছিল, আর কেন তা সরানো হলো, তা নিয়েই চলছে নানা জল্পনা।

দানিশ কানেরিয়া শুধু মাঠের খেলোয়াড়ই নন, তিনি বেশ কিছুবার ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক নিয়ে সাহসিক মন্তব্যও করেছেন। বিশেষ করে ২০১৯ সালে পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পর পাকিস্তান সরকারের নীরবতা ও সামরিক বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে কানেরিয়া তীব্র সমালোচনা করেন। একবার সামাজিক মাধ্যমে তিনি লেখেন,
“যদি পহেলগাঁও হামলায় পাকিস্তানের কোনো জড়িত না থাকে, তাহলে কেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এখনও নিন্দা করেননি? কেন সেনাবাহিনী হঠাৎ জেগে উঠেছে? আসলে আপনারাই ভিতরে ভিতরে সত্যিটা জানেন—জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছেন, লালনপালন করছেন। লজ্জা হওয়া উচিত।”

পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী তথা বিদেশমন্ত্রী মহম্মদ ইশাক দার পহেলগাঁও হামলার জঙ্গিদের ‘স্বাধীনতা সংগ্রামী’ বলে সমর্থন জানিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছিলেন। সেটাও কানেরিয়া মেনে নিতে পারেননি। তিনি বলেন,
“যখন রাষ্ট্রের উপপ্রধানমন্ত্রী জঙ্গিদের ‘স্বাধীনতা সংগ্রামী’ বলে ডাকে, তখন সেটি শুধু অসম্মানের বিষয় নয়, রাষ্ট্র সন্ত্রাসবাদকেও উৎসাহ দেয়।”

দানিশ কানেরিয়ার কথায়, পাকিস্তানের প্রাক্তন ক্রিকেটার শাহিদ আফ্রিদি পর্যটকদের ওপর জঙ্গি হামলার দায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর ওপর চাপানোর বিষয়টি ভীষণভাবে নিন্দনীয়। আফ্রিদির এমন মনোভাবের জন্য কানেরিয়া তাঁকে ‘চরমপন্থী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি আরও বলেছেন,
“আফ্রিদি সব সময় চরমপন্থী মনোভাব নিয়ে চলেন। আমার মতে, তাঁকে ভারতীয় টেলিভিশনে বা অন্য কোনো মঞ্চে সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। এঁর আচরণ আমার কাছে অপমানজনক ছিল। এমনকি ইসলাম ধর্ম গ্রহণের জন্য তিনি আমার ওপর চাপ প্রয়োগ করতেন, এমনকি খাবার ভাগ করতেও রাজি ছিলেন না।”

সত্যি বলতে, কানেরিয়া শুধু ক্রিকেটার নন, তিনি দুই দেশের মধ্যে শান্তি ও যুক্তিসঙ্গত সংলাপের পক্ষপাতী এক কণ্ঠস্বর। তাই হয়তো এমন উত্তেজনার সময়ে তাঁর ছবি সরিয়ে নেওয়া নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন।

যাই হোক, ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট ও রাজনীতির এই টানাপোড়েন যে চলতেই থাকবে, তা স্পষ্ট। জয়পুরের স্টেডিয়ামে পাকিস্তানি ক্রিকেটারের ছবি সরানোর ঘটনা তারই একটা দৃষ্টান্ত মাত্র। দু’দেশের মৈত্রী এখনও দূর স্বপ্ন, আর ক্রিকেট মাঠগুলো যেন এই দ্বন্দ্বের অদৃশ্য মঞ্চ।

“শাহরুখ আসলে খুবই মধ্যবিত্ত মানুষ” — বলিউডের বাদশাহর এমন গুণ দেখে মুগ্ধ পরিচালক অনুভব সিন্‌হা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *