“ভারতের জল, ভারতের কথায়”—সিন্ধু চুক্তি স্থগিতের পর নদী নীতি নিয়ে মোদীর কড়া বার্তা

সিন্ধু চুক্তি স্থগিতের পর নদী নীতি নিয়ে মোদীর কড়া বার্তা! ভবিষ্যতে ভারতের নদীর জল শুধুই ভারতের প্রয়োজনে বইবে—এই ঘোষণা যেন শুধু একটি বক্তব্য নয়, বরং পাকিস্তানকে উদ্দেশ করে পাঠানো এক…

May 6, 2025
1 min read

সিন্ধু চুক্তি স্থগিতের পর নদী নীতি নিয়ে মোদীর কড়া বার্তা!

ভবিষ্যতে ভারতের নদীর জল শুধুই ভারতের প্রয়োজনে বইবে—এই ঘোষণা যেন শুধু একটি বক্তব্য নয়, বরং পাকিস্তানকে উদ্দেশ করে পাঠানো এক কৌশলী বার্তা।

পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার ঘটনার পর পাকিস্তানের সঙ্গে বহু বছর আগে স্বাক্ষরিত সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি স্থগিত করেছে ভারত। এর ঠিক পরেই দেশের নদী ও জলসম্পদ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর স্পষ্ট বার্তা—”ভারতের জল এখন ভারতের কথায় বইবে, ভারতের কথাতেই থামবে।”

মঙ্গলবার দিল্লির এবিপি নেটওয়ার্ক সামিটে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোদী একদিকে যেমন কূটনৈতিক বার্তা দিয়েছেন, তেমনি দেশের উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরতার বার্তাও তুলে ধরেছেন।

নদীর জল নিয়ে কড়া মনোভাব প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে যৌথভাবে নদী সংযুক্তিকরণ প্রকল্প শুরু করেছি। কেন-বেতোয়া, পার্বতী-কালীসিন্ধ-চম্বলের মতো প্রকল্প এখন কাজের পথে।” তিনি হেসে বলেন, “আজকাল সংবাদমাধ্যমে জল নিয়ে অনেক চর্চা চলছে।” উপস্থিত দর্শকরা হাততালিতে ফেটে পড়লে মোদী হালকা ঠাট্টার ছলে বলেন, “আপনারা তো বিষয়টা দ্রুতই ধরে ফেলেছেন!”

এর পরেই তাঁর দৃঢ় ঘোষণা—“আগে ভারতের জল বাইরে চলে যেত। এখন ভারতের জল, ভারতের কাজে লাগবে।” এই বক্তব্যে শুধু ভারতের নদী সম্পদ নিয়ে আত্মনির্ভরতার বার্তাই নয়, বরং পাকিস্তানের দিকে কূটনৈতিক চাপে রাখার বার্তাও সুস্পষ্ট।

কাশ্মীর উপত্যকায় পাঁচটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে গতি

সিন্ধু চুক্তি স্থগিতের সঙ্গে সঙ্গেই যেসব প্রকল্প এত দিন বাধার মুখে ছিল, সেগুলিকে ফের সচল করতে উঠে পড়ে লেগেছে কেন্দ্র। আপাতত উপত্যকায় মোট পাঁচটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে কাজ শুরু করেছে সরকার। এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে কাশ্মীরের বিদ্যুতের ঘাটতি অনেকটাই মিটে যাবে, এমনটাই আশা করা হচ্ছে। এত দিন সিন্ধু চুক্তির শর্তের জন্য এই সব প্রকল্পে কাজের গতি ছিল সীমিত। কিন্তু এখন আর সেই বাধ্যবাধকতা মানতে রাজি নয় নয়াদিল্লি।

আগের সরকারের সমালোচনা ও নিজের সাফল্যের খতিয়ান

মোদী তাঁর বক্তব্যে আগের সরকারের দিকে আঙুল তুলে বলেন, “ওরা পদক্ষেপ নিত না, ভাবত দুনিয়া কী বলবে, ভোট যাবে না তো?” তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ভরসা করেছে সংস্কার ও সাহসী পদক্ষেপে। এর উদাহরণ হিসাবে তিনি তিন তালাক প্রথা বাতিল এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক সংযুক্তিকরণ-এর কথা উল্লেখ করেন।

আত্মনির্ভর ভারতের রূপরেখা

প্রধানমন্ত্রী জানান, এখন ভারত শুধুই বাজার নয়, বরং প্রতিরক্ষা সামগ্রী নির্মাতা দেশ। আইএনএস বিক্রান্ত বা নীলগিরির মতো আধুনিক যুদ্ধজাহাজ তৈরি করছে ভারত নিজে। মোদীর বক্তব্যে স্পষ্ট, ভারত এখন আর আগের মতো ‘চুপচাপ দেশ’ নয়—এখন সিদ্ধান্ত নেয়, পদক্ষেপ করে এবং প্রয়োজনে জোরে সাড়া দেয়।

এই গোটা বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট, মোদীর বার্তা কেবল দেশবাসীর উদ্দেশে নয়—পাকিস্তান এবং বিশ্বের অন্য শক্তিধর রাষ্ট্রগুলির দিকেও তাৎপর্যপূর্ণ কূটনৈতিক সংকেত।

বিহারের বিধানসভা নির্বাচনে মহাগঠবন্ধন: একসঙ্গে সব আসনে লড়াইয়ের ঘোষণা তেজস্বী যাদবের

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *