ভাত খেয়েই ১৮ কেজি ওজন কমালেন ফিটনেস কোচ!
অনেকে ভাবেন ওজন কমাতে গেলে ভাত-রুটি ছেড়ে দিয়ে ওটস, কিনোয়া বা প্রোটিন বারে ভরসা করতে হবে। কিন্তু বাস্তবে সুস্থ ও টেকসই ওজন কমানোর চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে সঠিক পরিমাণ খাওয়া এবং পুষ্টি নির্বাচনে। ফিটনেস প্রশিক্ষক অম্বিকা জৈন সেই বাস্তব উদাহরণ। তিনি নিজেই জানিয়েছেন, প্রতিদিন ভাত খেয়েই কমিয়েছেন ১৮ কেজি ওজন—তাও আবার বাড়তি খরচ বা অদ্ভুত সব ডায়েট ছাড়াই।
কীভাবে ভাত খেয়েই কমল ওজন?
অম্বিকার মতে, ভাত খাওয়া একেবারে বাদ না দিয়ে বরং পরিমাণ বজায় রেখে খাওয়াটাই মূল চাবিকাঠি। তিনি দিনে ঠিকঠাক মাপমতো ভাত খেয়েছেন, সঙ্গে প্রচুর ফাইবার সমৃদ্ধ সবজি ও সালাদ এবং সঠিক প্রোটিনের সংযোজন রেখেছেন। কখনও ডাল, কখনও ডিম বা পনির—প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় অন্তত একটি প্রোটিন উৎস থাকতই। হজমশক্তি বাড়াতে দই, ঘোল বা লস্যির মতো প্রোবায়োটিকও খেতেন নিয়মিত।
সত্যিই কি এত সহজ?
প্রশ্ন ওঠে, এত সাধারণ খাবার খেয়ে কীভাবে সত্যিই ওজন কমে? কলকাতার পুষ্টিবিদ অনন্যা ভৌমিক ব্যাখ্যা করেছেন, “ভাত খাওয়াটা নিজেই কোনও সমস্যা নয়। বরং কী পরিমাণ খাচ্ছেন এবং সঙ্গে কী খাচ্ছেন, সেটাই আসল।” তিনি বলেন, প্রতিটি মানুষের শারীরিক অবস্থা, লক্ষ্য এবং খাদ্যাভ্যাস ভিন্ন, তাই ডায়েটও আলাদা হওয়া উচিত।
থানের পুষ্টিবিদ গুলনাজ শেখও বলেন, “সাদা ভাত বাদ দিয়ে নতুন নতুন বিদেশি খাবার ডায়েটে আনতে হবে, এমন কোনও কথা নেই। বরং সঠিক ভারসাম্যে পরিচিত খাবারই বেশি কার্যকর।”
কেমন হওয়া উচিত এক দিনের ডায়েট?
ওজন কমাতে হলে দৈনিক ক্যালোরির চাহিদার তুলনায় কিছুটা কম ক্যালোরি গ্রহণ করতে হয়। গুলনাজের মতে, দুপুর বা রাতে প্রায় ১২০–১৫০ গ্রাম সেদ্ধ ভাত খাওয়া যায়, তবে পাতে থাকতে হবে অর্ধেক ফাইবারসমৃদ্ধ সবজি এবং এক-তৃতীয়াংশ প্রোটিন। মাছ, ডাল, ডিম, সয়াবিন বা পনির—যেকোনও একটি রাখলে প্রোটিনের চাহিদা মিটবে। সঙ্গে একটু দই বা ঘোল রাখলে হজমও ভালো হবে।
শাকসবজিতে থাকা ফাইবার শুধু হজমেই সাহায্য করে না, বরং রক্তে শর্করার মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে রাখে। আর বাদাম, বীজ জাতীয় খাবার থেকে আসে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট—যা শরীরের জন্য প্রয়োজনীয়।
সবার ক্ষেত্রে কি এই নিয়ম খাটে?
না, একেকজনের শরীর ও প্রয়োজন একেক রকম। ডায়াবেটিস, পিসিওএস বা অন্য কোনও শারীরিক সমস্যা থাকলে ভাতের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। সেই ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে খাবারের পরিকল্পনা করাই সঠিক। কেউ চাইলে সাদা ভাতের বদলে ব্রাউন রাইস বা মিলেট বেছে নিতে পারেন, যেগুলিতে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স তুলনামূলকভাবে কম।
শেষ কথা
ওজন কমানো মানেই নিজেকে প্রিয় খাবার থেকে বঞ্চিত করা নয়। বরং জানা দরকার কীভাবে সেই খাবারকেই নিজের শরীরের উপকারে লাগানো যায়। ভাত খেয়ে ওজন কমানোর এই উদাহরণ আমাদের দেখিয়ে দেয়, পরিচিত খাবার আর সচেতনতার মিশেলেই সম্ভব সুস্থ ও টেকসই ফিটনেস যাত্রা।
অলিম্পিক্স ক্রিকেটে বাদ পড়ার শঙ্কায় পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ড, আইসিসি নিয়ম নিয়ে দুই দেশের ক্ষোভ