কৃষিতে বড় ধাক্কা
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় ও ক্যানিং এলাকাকে পশ্চিমবঙ্গের সবজি ভাণ্ডার বলা হয়। কলকাতা-সহ গোটা রাজ্যের জন্য সবজি সরবরাহে এই অঞ্চলগুলির অবদান অনেকখানি। তবে সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’-র প্রভাবে এই অঞ্চলগুলির কৃষিতে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছে। জলমগ্ন হয়েছে সবজি ও ধানের মাঠ। প্রবল বৃষ্টিপাতে ধান, লঙ্কা, বেগুন, বাঁধাকপি, পালং শাক-সহ বিভিন্ন সবজি চাষে বড়সড় ক্ষতি হয়েছে, যা নিয়ে কৃষকরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
ভাঙড়-ক্যানিংয়ের গ্রামাঞ্চলে ব্যাপক ক্ষতি
ভাঙড়ের ভগবানপুর, চালতেবাড়ি, শানপুকুর, ভোগালী, ডাবু, সাতমুখী, ও গোলাবাড়ি অঞ্চলজুড়ে এই দুর্যোগের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে। কৃষকরা জানাচ্ছেন, তাদের ক্ষেতের অধিকাংশ সবজি ও ধান জলের তলায়। ফলস্বরূপ, ভাঙড়-ক্যানিংয়ের নানা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার চাষিরা লঙ্কা, সিম, কাঁকরোল, বেগুন, বাঁধাকপি, ফুলকপি, পটল, ও পালং চাষে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
শুধু সবজি চাষ নয়, ক্ষতির মুখে পড়েছে এই অঞ্চলের ধান চাষও। চাষের জমিতে হাঁটুজল জমে আছে, যার ফলে ধান গাছগুলো একপ্রকার জলমগ্ন হয়ে রয়েছে। ফলে একাধিক ক্ষেতের ধান পচনের আশঙ্কা করছে কৃষক সমাজ।

উৎপাদন কমে যাওয়ায় সবজির দামে প্রভাব
ভাঙড় ও ক্যানিং থেকে শুধু কলকাতা নয়, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত ও এমনকি দেশের অন্যান্য শহরেও সবজি সরবরাহ করা হয়। কিন্তু এই ব্যাপক ক্ষতির কারণে চাহিদার তুলনায় উৎপাদন অনেকটাই কমে যাওয়ার সম্ভাবনা। কৃষকরা বলছেন, যেভাবে ক্ষেতগুলিতে জল জমেছে, তাতে ফসল তোলা তো দূরের কথা, অনেক জায়গায় সবজির গাছের মূলে পচন ধরেছে। এই পরিস্থিতিতে বাজারে সবজির ঘাটতি দেখা দেবে, যা আগামী দিনগুলোতে সাধারণ ক্রেতাদের পকেটে চাপ ফেলতে চলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরবরাহ কমে গেলে বাজারে সবজির দাম আকাশছোঁয়া হতে পারে। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী কিনতে সাধারণ মানুষকে চড়া দাম গুনতে হতে পারে।
দ্রুত নিষ্কাশনের দাবি কৃষকদের
এই দুর্যোগের পর ভাঙড় ও ক্যানিংয়ের চাষিরা স্থানীয় প্রশাসনের কাছে জরুরি ভিত্তিতে ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, কংক্রিটের ড্রেন নির্মাণ করা গেলে জমিতে জল জমে থাকার সমস্যার সমাধান হতে পারে। তা না হলে প্রতি বছর বর্ষার সময় এভাবে ফসল নষ্ট হবে এবং অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়তে হবে চাষিদের।
অবিলম্বে জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করলে আরও বড় সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন চাষিরা। একইসাথে কৃষকরা বলছেন, এই ধরণের দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে সরকারের দাঁড়ানো অত্যন্ত জরুরি। সরকারি সাহায্য ও ক্ষতিপূরণ পেলে তারা পরবর্তী চাষের জন্য আবার প্রস্তুত হতে পারবেন।