ভবানীপুর নিয়ে মমতার হুঁশিয়ারি!
দোলের রঙিন মঞ্চে রাজনৈতিক বার্তা। কলকাতার Netaji Indoor Stadium-এ হোলি ও দোল উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় সরব হলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee। তাঁর অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রায় ৬০ হাজার ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। তবে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানালেন, “এক ভোটে হলেও আমি ভবানীপুর থেকে জিতব।”
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “আমি স্তম্ভিত। অমানবিক ও প্রতিহিংসাপরায়ণ কাজ হচ্ছে। জেনেশুনে নাম কাটা হয়েছে।” তাঁর অভিযোগের তির নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রের শাসক দল Bharatiya Janata Party-র দিকে। তিনি দাবি করেন, ভবানীপুর ছোট কেন্দ্র হলেও সেখানে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়া ভবিষ্যৎ নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রথম দফার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর তৃণমূলের তরফে জানানো হয়েছে, প্রায় ৪৭ হাজারের বেশি ভোটারের নাম ইতিমধ্যে বাদ গেছে এবং আরও প্রায় ১৪ হাজারের নাম ‘বিবেচনাধীন’। ২০২১ সালের উপনির্বাচনে ভবানীপুর থেকেই বড় ব্যবধানে জিতেছিলেন মমতা। সেই কেন্দ্রেই এত বড় পরিবর্তন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
মমতা বলেন, “আমার বিশ্বাস আছে ভগবানে, বিশ্বাস আছে মানুষের উপর। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ— সবার সমর্থন আছে। আমি ধর্নায় বসব, মানুষ মোরাল সাপোর্ট দেবেন।” তাঁর দাবি, সারা বাংলায় ১ কোটিরও বেশি মানুষ ভোটাধিকার হারানোর মুখে। “বিয়ের পর স্বামীর বাড়িতে গিয়েছেন, নাম কেটে গেছে— এমন অভিযোগ আসছে। সব তথ্য দেওয়ার পরেও নাম বাদ পড়ছে,” বলেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, “ভেরিফিকেশন ছাড়াই লক্ষ লক্ষ নাম কাটা হয়েছে। মাইক্রো অবজ়ারভাররা বিজেপির মতো আচরণ করছে।” যদিও এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটার তালিকার এই পরিবর্তন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে ভবানীপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা কমে যাওয়া এবং বহু নাম বিচারাধীন থাকা প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক— দুই দিক থেকেই গুরুত্ব বহন করে।
এ দিন রাজনৈতিক বার্তার পাশাপাশি সম্প্রীতির কথাও শোনান মুখ্যমন্ত্রী। দোলের উৎসব শান্তিপূর্ণ ভাবে পালনের আবেদন জানান তিনি। নিউটাউনে জৈন মন্দির তৈরির জন্য জমি দেওয়ার ঘোষণাও করেন, বিশ্ব বাংলা গেটের পাশে জমি বরাদ্দের কথা উল্লেখ করে।
রঙের উৎসবের দিনেও তাই রাজনৈতিক উত্তাপ কমেনি। ভবানীপুর নিয়ে মমতার এই চ্যালেঞ্জ স্পষ্ট বার্তা দিল— ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্ক যতই থাকুক, লড়াই থেকে সরে দাঁড়াতে রাজি নন তিনি। এখন দেখার, নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয় এবং বাদ পড়া ভোটারদের ভবিষ্যৎ কী দাঁড়ায়। রাজনৈতিক অঙ্ক যত জটিলই হোক, ভবানীপুর যে আবারও রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে, তা স্পষ্ট।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?