৮ এপ্রিল মনোনয়ন ঘিরে প্রস্তুতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়!
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মঞ্চে আবারও চর্চার কেন্দ্র হয়ে উঠছে ভবানীপুর। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্র ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে, আর সেই আবহেই ৮ এপ্রিল মনোনয়ন জমা দিতে পারেন তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় সূত্রে খবর, ওই দিন কালীঘাটের নিজের বাড়ি থেকে মিছিল করে মনোনয়ন জমা দিতে যাবেন তিনি।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, কালীঘাট থেকে শুরু হবে এই মিছিল, যা পৌঁছবে গোপালনগরের সার্ভে বিল্ডিংয়ে। সেখানেই আনুষ্ঠানিক ভাবে মনোনয়নপত্র জমা দেবেন মুখ্যমন্ত্রী। এই মিছিল শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং তা হতে চলেছে শক্তি প্রদর্শনের এক বড় রাজনৈতিক বার্তা।
দলীয় নেতৃত্বও এই কর্মসূচিকে ঘিরে প্রস্তুত। মিছিলে উপস্থিত থাকতে পারেন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী, কলকাতার মেয়র ও পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম (ববি), এবং দক্ষিণ কলকাতার তৃণমূল সভাপতি দেবাশিস কুমার। পাশাপাশি ভবানীপুরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদেরও এই মিছিলে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ বার ভবানীপুরের লড়াই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, ভারতীয় জনতা পার্টি এই কেন্দ্রে প্রার্থী করেছে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-কে। ফলে ২০২১ সালের নন্দীগ্রামের পর আবার মুখোমুখি হতে চলেছেন দুই রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী। এই হাই-ভোল্টেজ লড়াইয়ে নজর থাকবে গোটা রাজ্যের।
অন্যদিকে, এই কেন্দ্রে ত্রিমুখী লড়াইয়ের ইঙ্গিতও স্পষ্ট। বামফ্রন্টের তরফে প্রার্থী হয়েছেন শ্রীজীব বিশ্বাস, ফলে ভোটের সমীকরণ আরও জটিল হতে পারে।
যদিও শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই প্রচার শুরু করে দিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত ভবানীপুরে সরাসরি প্রচারে নামেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে দলীয় সূত্র বলছে, মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর থেকেই জোরকদমে প্রচারে নামবে তৃণমূল। ওয়ার্ডভিত্তিক সভা, মিছিল ও প্রচার কর্মসূচির মাধ্যমে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডকে। ১৪ এপ্রিল, বি. আর. অম্বেদকর-এর জন্মদিনে এই ওয়ার্ড থেকেই প্রথম বড় সভা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর ধাপে ধাপে গোটা কেন্দ্র জুড়েই প্রচার চালানো হবে।
উল্লেখ্য, রাজ্যে এ বার দুই দফায় ভোটগ্রহণ হবে। প্রথম দফা ২৩ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফা ২৯ এপ্রিল। ভবানীপুরে ভোট হবে দ্বিতীয় দফায়। ২ এপ্রিল বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার পর থেকেই মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে, যার শেষ দিন ৯ এপ্রিল।
সব মিলিয়ে, ভবানীপুর এখন শুধুই একটি কেন্দ্র নয়—এটি হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রতীক। আর ৮ এপ্রিলের মনোনয়ন ঘিরে সেই লড়াইয়ের আনুষ্ঠানিক সূচনা হতে চলেছে।
শেষ লড়াইয়ের গল্প: জল থেকে তোলার পরও বেঁচে ছিলেন রাহুল, তবু বাঁচানো গেল না