ব্রহ্মোস না জ্যাসম? আধুনিক যুদ্ধের ময়দানে কোন ক্ষেপণাস্ত্র বেশি ধ্বংসাত্মক?

ব্রহ্মোস না জ্যাসম? আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ক্ষেপণাস্ত্র এখন আর শুধু আকাশে উড়ে গিয়ে লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার হাতিয়ার নয়—এটি একটি দেশের প্রতিরক্ষা কৌশলের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। ভারতের গর্ব ‘ব্রহ্মোস’ এবং আমেরিকার অত্যাধুনিক…

July 23, 2025
1 min read

ব্রহ্মোস না জ্যাসম?

আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ক্ষেপণাস্ত্র এখন আর শুধু আকাশে উড়ে গিয়ে লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার হাতিয়ার নয়—এটি একটি দেশের প্রতিরক্ষা কৌশলের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। ভারতের গর্ব ‘ব্রহ্মোস’ এবং আমেরিকার অত্যাধুনিক ‘জ্যাসম’ (JASSM)—এই দুটি ক্ষেপণাস্ত্রকে ঘিরে সামরিক বিশ্লেষকদের মধ্যে চর্চা তুঙ্গে। প্রশ্ন উঠছে, এই দুটি অস্ত্রের মধ্যে কে বেশি শক্তিশালী? কে আধুনিক যুদ্ধের দুনিয়ায় বদল আনতে পারে?

ব্রহ্মোস: ভারতের গর্ব

ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে তৈরি হওয়া এই সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল ব্রহ্মোসকে বলা হয় বিশ্বের দ্রুততম ক্ষেপণাস্ত্রগুলির অন্যতম। শব্দের চেয়ে প্রায় তিন গুণ গতিতে (Mach 2.8 থেকে 3.0) ছুটে যেতে পারে এটি। জল, স্থল এবং আকাশ—তিন জায়গা থেকেই উৎক্ষেপণ সম্ভব হওয়ায় ব্রহ্মোসকে ‘ত্রিবিধ ধ্বংসাস্ত্র’ও বলা যায়।

এর পাল্লা বর্তমানে প্রায় 450 কিমি, তবে ভবিষ্যতে তা 800 কিমি পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এক টন ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম ব্রহ্মোস মূলত শত্রুর যুদ্ধজাহাজ, স্থল ঘাঁটি এবং রাডার ধ্বংসে ব্যবহৃত হয়।

জ্যাসম: আমেরিকার নিঃশব্দ আতঙ্ক

অন্যদিকে, লকহিড মার্টিনের তৈরি JASSM (Joint Air-to-Surface Standoff Missile) মূলত স্টেলথ প্রযুক্তির উপর ভিত্তি করে তৈরি—মানে, এটি রাডারে ধরা পড়ে না সহজে। শব্দের চেয়ে কম গতিতে চললেও (subsonic), এর পাল্লা ভয়ানক—প্রায় 1000 কিমি থেকে 1800 কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত।

JASSM মূলত এয়ারফোর্সের বিমান থেকে নিক্ষেপযোগ্য। এর নিখুঁত নিশানা, উন্নত গাইডেন্স সিস্টেম ও স্টেলথ ডিজাইন একে প্রতিপক্ষের ঘাঁটিতে নিঃশব্দে বিপুল ক্ষয়ক্ষতির জন্য আদর্শ করে তুলেছে।

তুলনামূলক বিচার: ব্রহ্মোস বনাম জ্যাসম

বৈশিষ্ট্যব্রহ্মোসজ্যাসম (JASSM)
উৎপত্তিভারত-রাশিয়া যৌথ উদ্যোগআমেরিকা
গতিMach 2.8–3.0 (সুপারসনিক)Subsonic (ধীর কিন্তু গোপন)
পাল্লা450–800 কিমি (পরিকল্পনায়)1000–1800 কিমি
উৎক্ষেপণ পদ্ধতিজল, স্থল, আকাশকেবল আকাশ (ফাইটার জেট)
স্টেলথ ক্ষমতাসীমিতউচ্চ, রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম
মূল ভূমিকাযুদ্ধজাহাজ ও স্থলঘাঁটি ধ্বংসগভীর শত্রু এলাকায় নিঃশব্দ হামলা

কে এগিয়ে?

দুটি ক্ষেপণাস্ত্রই আলাদা উদ্দেশ্যে তৈরি। ব্রহ্মোস যেখানে গতির দিক থেকে শ্রেষ্ঠ এবং রণক্ষেত্রে তাত্ক্ষণিক ধ্বংসের জন্য উপযোগী, সেখানে জ্যাসম-এর মূল শক্তি তার স্টেলথ এবং দূরপাল্লার লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত আঘাত। একটিকে বলা যেতে পারে তলোয়ার, অন্যটি নিঃশব্দ ছুরি।

যদি সামরিক মঞ্চে দ্রুত, কার্যকর, এবং বহুমুখী ব্যবহার বিচার্য হয়, ব্রহ্মোস নিঃসন্দেহে শ্রেষ্ঠ। আবার, শত্রুর চোখ ফাঁকি দিয়ে ভিতরে ঢুকে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য ধ্বংস করতে চাইলে, জ্যাসম এক ভয়ঙ্কর অস্ত্র।

উপসংহার

একজন সৈনিক যেমন বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধে নামে, তেমনই এক দেশকেও নানা ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রাখতে হয়। ব্রহ্মোস এবং জ্যাসম—উভয়ই আধুনিক যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা মেটাতে সক্ষম, এবং এই প্রতিযোগিতা সামরিক প্রযুক্তির উন্নয়নেরই প্রতিফলন। কে সেরা, তা নির্ভর করবে পরিস্থিতি ও ব্যবহারের উপর। তবে নিশ্চিত, এই প্রতিযোগিতা বিশ্বকে আরও শক্তিশালী, আবার আরও সতর্ক করে তুলছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভালোবাসার ছবি, খোলাখুলি রোম্যান্সে মশগুল সোনাক্ষী-জহির

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *