চিনা প্রযুক্তিতে ভরসা হারিয়ে বার্লিনের দ্বারস্থ ইসলামাবাদ!
ভারতের সুপারসনিক ক্রুজ় ক্ষেপণাস্ত্র ‘ব্রহ্মস’ যেন পাকিস্তানের জন্য পরিণত হয়েছে দুঃস্বপ্নে। সম্প্রতি ভারতীয় সেনার চালানো ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ পাকিস্তানের ১১টি বিমানঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় কার্যত স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে ইসলামাবাদ। এই হামলায় ব্যবহৃত ব্রহ্মস মিসাইল এড়াতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয় পাকিস্তানের চিনা প্রযুক্তিভিত্তিক HQ-9P এবং HQ-16 আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ফলে এবার জার্মানির তৈরি অত্যাধুনিক ‘বার্লিনের বর্ম’ বা IRIS-T SLM সিস্টেম কিনতে মরিয়া হয়ে উঠেছে পাক সেনাবাহিনী।
জার্মানির তৈরি এই আধুনিক সারফেস-টু-এয়ার সিস্টেম ইতিমধ্যেই ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার একাধিক ক্ষেপণাস্ত্রকে মাঝ আকাশেই ধ্বংস করেছে। প্রতিটি ইউনিটে রয়েছে ৪০ কিমি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, সর্বাধুনিক রাডার ও অপারেশন সেন্টার। বিশ্লেষকদের মতে, এটি একসঙ্গে ৬০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে সক্ষম। এরই মধ্যে পাকিস্তান চেষ্টা করছে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আমদানি করার।
তবে এই চুক্তির বাস্তবায়ন এখনও অনিশ্চিত। কারণ—
- জার্মানির ডাইহল ডিফেন্স ও থাইসেনক্রুপ ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পে বহু বিনিয়োগ করেছে। বিশেষ করে ‘সেভেন্টিফাইভ-আই’ সাবমেরিন প্রকল্পে ভারতের সঙ্গে ৭০,০০০ কোটি টাকার চুক্তি রয়েছে।
- ভারতের আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গে ডাইহলের ‘ভলক্যানো’ কামান গোলা উৎপাদনের চুক্তিও রয়েছে, যার মাধ্যমে ভারতে উৎপাদন করে রফতানি করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্বে পাকিস্তানকে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করে বার্লিন ভারত-জার্মানি কূটনৈতিক সম্পর্কে ধাক্কা দিতে চাইবে না।
পাশাপাশি, পাকিস্তানের আর্থিক দৈন্যদশাও বড় বাধা। IMF ও ADB থেকে নেওয়া ঋণের টাকায় রাষ্ট্র পরিচালনা করছে শাহবাজ শরিফের সরকার। গত বছর মাত্র ৬টি IRIS-T ইউনিট কিনতেই জার্মানির খরচ হয়েছিল প্রায় ৯৭ কোটি মার্কিন ডলার। পাকিস্তানের সেই অর্থের সংস্থান করা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।
এর মধ্যেই ইসলামাবাদ তাদের প্রতিরক্ষা বাজেট ২০% বৃদ্ধি করেছে, উন্নয়ন খাতে ব্যয় কমিয়ে দিয়েছে, এবং একাধিক প্রকল্প বাতিল করেছে সেনা চাপে। সেই সঙ্গে ওয়াশিংটনের সাহায্যে অস্ত্র কেনার দিকেও ঝুঁকছে। বলা হচ্ছে, আমেরিকার সামরিক দিবসে পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির অংশ নিতে পারেন এবং সেখানেই অস্ত্রচুক্তির বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।
এদিকে ভারতের তরফে সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিতের সিদ্ধান্ত ও প্রতিরোধমূলক হামলা পাকিস্তানকে আরও চাপে ফেলেছে। রাওয়ালপিন্ডি এখন মরিয়া ভাবে পরমাণু যুদ্ধ নয়, প্রযুক্তি প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করতে চাইছে। কিন্তু একাধিক পর্বে চিনা প্রযুক্তির ব্যর্থতা, ইজ়রায়েলি ড্রোন দ্বারা HQ-9 ধ্বংস হওয়া, সব মিলিয়ে ইসলামাবাদ কার্যত দিশেহারা।
সব শেষে প্রশ্ন একটাই— জার্মান কবচ পেলেও কি ‘ব্রহ্মস’-এর মতো হাইপারসোনিক ক্ষেপণাস্ত্র থামানো সম্ভব? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা প্রায় অসম্ভব।
চল্লিশের পর ফিটনেস মানে শুধু ঘাম নয়, সচেতনতা! লিসা রে জানালেন কোন ব্যায়াম থেকে দূরে থাকবেন