বাবুয়ানির বোঝা বইতে না পেরে পিছু হটছে ইসলামাবাদ!
এক সময় আমেরিকার মাটিতে বিলাসবহুল হোটেলের মালিক হওয়াকে জাতীয় গর্বের প্রতীক ভেবেছিল পাকিস্তান। কিন্তু সেই গর্বই আজ গলার কাঁটা। নিউ ইয়র্কের ঐতিহ্যবাহী রুজ়ভেল্ট হোটেল এখন আর অহংকার নয়, বরং চরম আর্থিক সংকট থেকে বাঁচার শেষ ভরসা। ভয়াবহ লোকসান আর আন্তর্জাতিক ঋণের চাপ সামলাতে গিয়ে অবশেষে এই বিদেশি সম্পত্তি বিক্রির পথেই হাঁটছে ইসলামাবাদ।
রুজ়ভেল্ট হোটেলের ইতিহাস কম রোমাঞ্চকর নয়। ১৯২৪ সালে নিউ ইয়র্কের প্রাণকেন্দ্র ম্যাডিসন অ্যাভিনিউয়ের কাছে যাত্রা শুরু করা এই হোটেল এক সময় ছিল বিলাসিতা আর আভিজাত্যের প্রতীক। গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল, ফিফ্থ অ্যাভিনিউ, টাইমস স্কোয়ার— সবই ছিল ঢিল ছোড়ার দূরত্বে। প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুইট, রাজকীয় ঘর, এমনকি অতিথিকক্ষে প্রথম টেলিভিশন বসানোর নজিরও ছিল এই হোটেলের দখলে। হলিউড তারকা থেকে রাজনীতিক— কার পা পড়েনি এখানে!
কিন্তু এই স্বপ্নের হোটেল পাকিস্তানের হাতে আসে অনেক পরে। ১৯৭৮ সালে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের বিনিয়োগকারী সংস্থা পিআইএ ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড রুজ়ভেল্টকে লিজ়ে নেয়। তখন ইসলামাবাদের ধারণা ছিল— আমেরিকার মাটিতে এমন ঐতিহ্যবাহী সম্পত্তি থাকলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে মর্যাদা বাড়বে, এমনকি ভারতকে ‘টেক্কা’ দেওয়াও সম্ভব হবে। সেই ভাবনাতেই ১৯৯৮ সালে প্রায় ৩ কোটি ৬৫ লক্ষ ডলার দিয়ে হোটেলটি পুরোপুরি কিনে নেয় পাকিস্তান।
কিন্তু বাস্তবতা ছিল অন্য রকম। পুরনো গৌরব তখনই অনেকটাই হারিয়েছিল রুজ়ভেল্ট। সংস্কারে কোটি কোটি ডলার ঢাললেও লাভের মুখ আর দেখা যায়নি। তার উপর আইনি জটিলতা, পরিচালন খরচ আর পরে কোভিড অতিমারী— সব মিলিয়ে হোটেলটি কার্যত ‘লোকসানের খনি’তে পরিণত হয়। ২০২০ সালে দরজা বন্ধ করতে বাধ্য হয় পাকিস্তান। পরে কিছু সময় অভিবাসীদের আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে সাময়িক আয় হলেও তা নিয়েও আমেরিকার রাজনীতিতে বিতর্ক তৈরি হয়।
এখন পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, আইএমএফের ঋণ পেতে রাষ্ট্রায়ত্ত সম্পত্তি বেসরকারিকরণের শর্ত মানতেই হচ্ছে ইসলামাবাদকে। সেই তালিকায় প্রথম সারিতে রুজ়ভেল্ট হোটেল। পাক প্রশাসনের হিসাব, হোটেলটিকে নতুন করে দাঁড় করাতে অন্তত ১০০ কোটি ডলার দরকার, আর সম্পূর্ণ আধুনিক বহুতলে বদলাতে গেলে খরচ ৩০০–৪০০ কোটি ডলার। এই বিপুল অঙ্কের টাকা জোগাড় করা সরকারের পক্ষে অসম্ভব।
তাই মুখ বাঁচাতে এখন ‘অংশীদারি’ বা বিক্রির রাস্তা খোলা রাখছে শাহবাজ় শরিফ সরকার। লক্ষ্য— নিউ ইয়র্কের রিয়্যাল এস্টেট দুনিয়ার ধনকুবেরদের টেনে এনে অন্তত ১০০ কোটি ডলার তোলা। এক সময় বাবুয়ানি দেখানোর জন্য কেনা এই হোটেলই আজ পাকিস্তানের আর্থিক দুরবস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
গর্বের সম্পত্তি থেকে বোঝা— রুজ়ভেল্ট হোটেলের এই যাত্রাপথ যেন পাকিস্তানের অর্থনীতিরই প্রতিচ্ছবি।
প্রোটিন শেক নয়, ‘ঘরোয়া খিচুড়ি’ই ভরসা: শরীরচর্চার পরে হৃতিক রোশন যা খান, জানলে চমক লাগবেই