বেলজিয়ামের গোলবন্যায় বিদায় নিউজ়িল্যান্ড!
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে একাধিক নাটকীয় ম্যাচের সাক্ষী থাকল ফুটবলপ্রেমীরা। কেভিন ডি ব্রুইন ও রোমেলু লুকাকুর নেতৃত্বে বেলজিয়াম ৫-১ ব্যবধানে উড়িয়ে দিল নিউজ়িল্যান্ডকে। সেই জয়ে গ্রুপ ‘জি’-র শীর্ষে থেকে শেষ ষোলোয় পৌঁছে গেল ইউরোপের দলটি।
অন্য দিকে, ইরানের বিরুদ্ধে ১-১ ড্র করেও দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত করে নকআউটে জায়গা করে নিল মহম্মদ সালাহর মিশর। তবে কয়েক মিলিমিটারের অফসাইডের জন্য জয় হাতছাড়া হওয়ায় ইরানের বিশ্বকাপ স্বপ্ন বড় ধাক্কা খেল।
বেলজিয়ামের একতরফা দাপট
শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল বেলজিয়ামের হাতে। তবে প্রথম গোলের জন্য অপেক্ষা করতে হয় ২৮ মিনিট পর্যন্ত। কর্নার থেকে আসা বল জটলার মধ্যে থেকে জালে জড়িয়ে দেন লিয়ান্দ্রো ত্রোসার।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই নিজের দ্বিতীয় গোল করেন তিনি। কেভিন ডি ব্রুইনের দুর্দান্ত আক্রমণ গড়ার পর গোলরক্ষক প্রথম শট ঠেকালেও ফিরতি বলে ভুল করেননি ত্রোসার।
৬৬ মিনিটে নিজের নামও স্কোরশিটে তোলেন ডি ব্রুইন। একাধিক সুযোগ নষ্ট করার পর অবশেষে গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
৮৪ মিনিটে এলিজা জাস্টের জোরালো শটে একটি গোল শোধ করে নিউজ়িল্যান্ড। তবে সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। দু’মিনিট পর নিকোলাস রাসকিনের ক্রস থেকে হেডে গোল করেন রোমেলু লুকাকু। অতিরিক্ত সময়ে অ্যালেক্সিস পঞ্চম গোল করে বেলজিয়ামের বড় জয় নিশ্চিত করেন।
এই হারের ফলে গ্রুপের তলানিতে থেকে বিশ্বকাপ শেষ করল নিউজ়িল্যান্ড।
সালাহদের রুখেও জিততে পারল না ইরান
গ্রুপের অন্য ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে মিশর ও ইরান।
মাত্র পাঁচ মিনিটেই মাহমুদ সাবেরের গোলে এগিয়ে যায় মিশর। এটি বিশ্বকাপে মিশরের দ্রুততম গোল।
তবে পিছিয়ে পড়েও দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায় ইরান। ১৪ মিনিটে রামিন রেজাইয়ানের গোলে সমতা ফেরে।
শেষ দিকে জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে ইরান। সংযুক্ত সময়ে শুজায়ে খলিলজাদেহ বল জালে জড়িয়ে উচ্ছ্বাসে মাতেন সতীর্থদের সঙ্গে। প্রথমে গোলের সিদ্ধান্তও দেন রেফারি।
কিন্তু দীর্ঘ ভিএআর পর্যালোচনার পর দেখা যায়, কয়েক মিলিমিটারের জন্য অফসাইডে ছিলেন খলিলজাদেহ। ফলে গোল বাতিল হয়।
এই ড্রয়ের ফলে রানার্স হিসেবে নকআউটে উঠে যায় মিশর। তৃতীয় স্থানে শেষ করা ইরানকে এখন অন্য গ্রুপের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে।
স্পেনের জয়, বিদায় উরুগুয়ে
গ্রুপ ‘এইচ’-এ উরুগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে স্পেন।
প্রথমার্ধে আলেক্স বায়েনার তুলনায় সহজ একটি শট গোলরক্ষক ফার্নান্দো মুসলেরা হাত ফসকে জালে ঢুকতে দেন। সেটিই ম্যাচের একমাত্র গোল।
দ্বিতীয়ার্ধে জয় প্রয়োজন হলেও উরুগুয়ের খেলায় কাঙ্ক্ষিত আগ্রাসন দেখা যায়নি। শেষ দিকে গোল শোধের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পাশাপাশি লাল কার্ডও দেখেন আগস্টিন কাবানি।
পর পর দুই বিশ্বকাপেই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিতে হল দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
ইতিহাস গড়ে নকআউটে কাবো ভার্দে
প্রথম বার বিশ্বকাপ খেলেই ইতিহাস গড়েছে কাবো ভার্দে। সৌদি আরবের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র করে গ্রুপের দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত করেছে তারা।
৪০ বছর বয়সি গোলরক্ষক ভোজ়িনহা অন্তত তিনটি নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে দলের নায়ক হয়ে ওঠেন। শেষ ষোলোয় তাদের প্রতিপক্ষ লিয়োনেল মেসির আর্জেন্টিনা।
দেম্বেলের হ্যাটট্রিকে উড়ল নরওয়ে
গ্রুপ ‘আই’-এ উসমান দেম্বেলের ৩২ মিনিটের দুরন্ত হ্যাটট্রিকে নরওয়েকে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়েছে ফ্রান্স।
কিলিয়ান এমবাপের সঙ্গে দেম্বেলের অসাধারণ বোঝাপড়ায় শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় ফরাসিরা। বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্বিতীয় দ্রুততম হ্যাটট্রিক করে নজর কেড়েছেন দেম্বেলে।
সেনেগালের বড় জয়, তবু অনিশ্চয়তা
ইরাককে ৫-০ ব্যবধানে হারিয়েছে সেনেগাল। তবে গ্রুপে তৃতীয় হওয়ায় তাদের নকআউটে ওঠা নির্ভর করছে অন্য গ্রুপগুলির ফলাফলের উপর।
রেবিন সুলাকার লাল কার্ডে ১০ জনে নেমে আসা ইরাককে সহজেই ভেঙে দেয় সেনেগাল। হাবিব দিয়ারা, ইসমাইলা সার, পাপে গেয়ে (দু’টি) এবং ইলিমান এনদিয়ায়ের গোলে বড় জয় তুলে নেয় আফ্রিকার দলটি।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?