দক্ষিণবঙ্গে বাড়ছে তাপ ও অস্বস্তি!
দক্ষিণবঙ্গে কয়েক দিনের ঝড়-বৃষ্টির পর অবশেষে স্বস্তির সেই পর্ব শেষ। তবে তার জায়গা নিতে চলেছে আর এক সমস্যা—তীব্র গরম ও আর্দ্রতা। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস বলছে, আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা দ্রুত বাড়বে, আর তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়বে অস্বস্তিও।
বিশেষ করে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় গরমের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আবহবিদদের মতে, ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি পর্যন্ত তাপমাত্রা বাড়তে পারে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি বেশি থাকবে।
এই পরিবর্তনের মূল কারণ হল শুষ্ক পশ্চিমি ও উত্তর-পশ্চিমি বায়ুর প্রবাহ। আগামী কয়েক দিন এই বায়ুই দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণ করবে। ফলে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণও বেড়ে যাবে, যা গরমকে আরও অসহ্য করে তুলবে। উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে আর্দ্রতা ৮০-৯০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছতে পারে, অন্য জেলাগুলিতে তা ৭০-৮০ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করবে।
২ এপ্রিল থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে কয়েকটি জেলায়—দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান ও পুরুলিয়া। এর সঙ্গে ৩ ও ৪ এপ্রিল যোগ হচ্ছে বীরভূম এবং কলকাতা। এই সময় আবহাওয়া হবে গরম, আর্দ্র এবং অস্বস্তিকর।
আবহাওয়া দফতর স্পষ্ট করে জানিয়েছে, সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বেরোনোই ভালো। বিশেষ করে শিশু ও প্রবীণদের জন্য এই সময়টা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই নিয়মিত জল খাওয়া, হালকা পোশাক পরা এবং রোদ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
গত কয়েক দিনে বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা কিছুটা কমে গিয়েছিল। যেমন, বুধবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৫.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের সামান্য বেশি। আবার আগের দিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৮.৭ ডিগ্রি, যা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটাই কম ছিল। এই সাময়িক স্বস্তি মূলত ঝড়বৃষ্টির জন্যই ছিল।
এমনকি বুধবারও কিছু জায়গায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হয়েছে। মুর্শিদাবাদ জেলার নবগ্রাম এলাকায় ঝড়বৃষ্টি হয়, যার প্রভাব পড়ে প্রশাসনিক কাজেও। খারাপ আবহাওয়ার কারণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর হেলিকপ্টার অবতরণে সমস্যা হয়, পরে তাঁকে সড়কপথে যাত্রা করতে হয়।
তবে এই ধরনের ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা আপাতত কম। আবহাওয়া ধীরে ধীরে শুষ্ক হয়ে উঠবে এবং গরমই প্রধান চরিত্র হয়ে উঠবে আগামী দিনে।
সব মিলিয়ে, দক্ষিণবঙ্গের মানুষকে এখন প্রস্তুত থাকতে হবে এক অস্বস্তিকর গরমের জন্য। হঠাৎ এই তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে শরীর খারাপের ঝুঁকি থাকে, তাই সতর্ক থাকাই একমাত্র উপায়।
শেষ লড়াইয়ের গল্প: জল থেকে তোলার পরও বেঁচে ছিলেন রাহুল, তবু বাঁচানো গেল না