বৃষ্টির দাপটে কাবু দক্ষিণবঙ্গ!
বর্ষার মৌসুম যেন এবার কলকাতা এবং দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় একেবারে জমিয়ে শুরু হয়েছে। শনিবার সকাল থেকেই মেঘে ঢাকা আকাশ ও থেমে থেমে বৃষ্টির মধ্যেই দিন শুরু হয় শহরবাসীর। আর আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস বলছে, সামনের কয়েক দিন এই বৃষ্টির ধারা আরও জোরালো হতে চলেছে। কারণ, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার সঙ্গে বঙ্গোপসাগরের উপর তৈরি হচ্ছে একটি নতুন নিম্নচাপ অঞ্চল, যার প্রভাব পড়বে রাজ্যের একাধিক জেলায়।
আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ৩০ জুন উত্তর বঙ্গোপসাগরের উপর তৈরি হবে নিম্নচাপ। তার আগেই, ২৯ জুন থেকেই সমুদ্র হয়ে উঠবে উত্তাল। ঘণ্টায় ৩৫ থেকে ৪৫ কিলোমিটার গতিবেগে বইবে ঝোড়ো হাওয়া। এই কারণে উপকূলবর্তী অঞ্চলের মৎস্যজীবীদের আগাম সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। যদিও এখনই মৎস্যজীবীদের জন্য আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা জারি হয়নি।
আগামী সপ্তাহের শুরুতে ছ’টি জেলায় জারি হয়েছে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা। হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম এবং উত্তর ২৪ পরগনায় রবিবার ও সোমবার অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। একইসঙ্গে, রবিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পুরুলিয়া, দুই বর্ধমানেও চলবে ভারী বৃষ্টি। কলকাতা ও হাওড়াতেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে সোমবারের মধ্যে। সঙ্গে বইতে পারে ঘণ্টায় ৩০–৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া।
কলকাতার জন্য যদিও শনিবার আলাদা করে কোনও বিশেষ সতর্কতা নেই, তবে রবিবার থেকে শহরে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সোমবার থেকে মঙ্গলবারের মধ্যে কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টি হতে পারে কলকাতায়। মঙ্গলবারের পর থেকে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে সপ্তাহের প্রথম ভাগ জুড়ে দক্ষিণবঙ্গের অনেক জেলাকেই অস্বস্তিকর আবহাওয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে।
এদিকে, উত্তরবঙ্গেও সমানতালে বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। শনিবার থেকেই দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দার্জিলিঙে এই পরিস্থিতি থাকতে পারে সোমবার পর্যন্ত, জলপাইগুড়িতে বৃষ্টি চলবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত, আর কালিম্পংয়ে রবিবার পর্যন্ত চলবে ভারী বৃষ্টির ধারা। এ ছাড়া, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহেও বিক্ষিপ্ত বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
সব মিলিয়ে, বর্ষার শুরুতেই রাজ্যজুড়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে প্রাকৃতিক আবহ। অতিরিক্ত বৃষ্টিতে কোথাও জলজটের আশঙ্কা থাকায় প্রশাসনও সতর্ক রয়েছে। শহরবাসীকে অপ্রয়োজনে বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।