বুমরাহকে ছাপিয়ে ইতিহাস গড়লেন বরুণ!
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ভারতের বোলিং ঐতিহ্যে নতুন এক অধ্যায় যোগ করলেন বরুণ চক্রবর্তী। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে চতুর্থ টি-টোয়েন্টি ম্যাচের আগেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সদ্য প্রকাশিত র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে উঠে এলেন কলকাতা নাইট রাইডার্সের এই রহস্যময় স্পিনার। শুধু এক নম্বর হওয়াই নয়—বরুণ ভেঙে দিলেন জসপ্রীত বুমরাহের দীর্ঘদিনের রেকর্ডও।
আইসিসির সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বোলারদের ক্রমতালিকা অনুযায়ী, বরুণের রেটিং পয়েন্ট এখন ৮১৮। এই সংখ্যাই তাঁকে বিশ্বের সেরা টি-টোয়েন্টি বোলারের আসনে বসিয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন নিউ জ়িল্যান্ডের জেকব ডাফি, যার রেটিং পয়েন্ট ৬৯৯। তৃতীয় স্থানে আফগানিস্তানের তারকা স্পিনার রশিদ খান, তাঁর রেটিং পয়েন্ট ৬৯৪। সংখ্যাগুলিই বলছে, এই মুহূর্তে প্রতিদ্বন্দ্বীদের থেকে বরুণ কতটা এগিয়ে।
এই কৃতিত্বের তাৎপর্য আরও বাড়ে একটি বিশেষ কারণে। ২০১৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি আইসিসি যে র্যাঙ্কিং প্রকাশ করেছিল, সেখানে বুমরাহের রেটিং পয়েন্ট ছিল ৭৮৩। এত দিন সেটাই ছিল টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে কোনও ভারতীয় বোলারের সর্বোচ্চ রেটিং। প্রায় আট বছর পর সেই নজির ভেঙে দিলেন বরুণ চক্রবর্তী। ভারতের টি-টোয়েন্টি বোলিং ইতিহাসে এ এক নতুন মাইলফলক।
বরুণের এই উত্থান অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার গল্প। এক সময় ক্রিকেটজগতে তাঁর যাত্রা ছিল বেশ আঁকাবাঁকা। বয়সে তুলনামূলক দেরিতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে সুযোগ পেয়েছেন তিনি। কিন্তু সুযোগ পেয়ে নিজেকে যে ভাবে প্রমাণ করেছেন, তা প্রশংসার দাবি রাখে। বৈচিত্র্যপূর্ণ বোলিং, নিখুঁত লাইন-লেন্থ এবং চাপের মুহূর্তে উইকেট তুলে নেওয়ার ক্ষমতাই তাঁকে আলাদা করে তুলেছে।
আরও একটি উল্লেখযোগ্য দিক হল, প্রথম ১০ জনের তালিকায় এই মুহূর্তে আর কোনও ভারতীয় বোলারের নাম নেই। বরুণ একাই প্রতিনিধিত্ব করছেন ভারতকে শীর্ষস্তরে। ভারতীয়দের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন অক্ষর পটেল। ৬৩৬ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে তিনি আছেন ১৩ নম্বরে। তাঁর ঠিক পরেই অর্শদীপ সিংহ—৬৩২ পয়েন্ট নিয়ে ১৬তম স্থানে। অর্শদীপ চার ধাপ এগিয়েছেন, যা তাঁর ধারাবাহিক পারফরম্যান্সেরই ফল।
যদিও প্রথম ১৫ জন বোলারের অবস্থানে কোনও রদবদল হয়নি, তবু বরুণের শীর্ষে থাকা নিঃসন্দেহে আলাদা করে চোখে পড়ার মতো ঘটনা। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে এই র্যাঙ্কিং ভারতীয় শিবিরে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে বলেই মনে করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা।
সব মিলিয়ে, কেকেআরের স্পিনার এখন শুধু ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের তারকা নন, আন্তর্জাতিক মঞ্চেও তিনি শীর্ষে। বুমরাহের মতো তারকাকে ছাপিয়ে বরুণ চক্রবর্তীর এই সাফল্য প্রমাণ করে—ধৈর্য, পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাস থাকলে ক্রিকেটের যেকোনও মঞ্চেই ইতিহাস লেখা সম্ভব।