বিশ্বাস বনাম ব্যথা: চোট উপেক্ষা করেই অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে আলকারাজ়

চোট উপেক্ষা করেই অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে আলকারাজ়! অস্ট্রেলিয়ান ওপেন—এই গ্র্যান্ড স্ল্যামটা যেন এতদিন কার্লোস আলকারাজ়ের কাছে এক অজানা পাহাড়ই ছিল। বাকি তিনটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতেছেন, তাও আবার দু’বার করে। অথচ…

January 31, 2026
1 min read

চোট উপেক্ষা করেই অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে আলকারাজ়!

অস্ট্রেলিয়ান ওপেন—এই গ্র্যান্ড স্ল্যামটা যেন এতদিন কার্লোস আলকারাজ়ের কাছে এক অজানা পাহাড়ই ছিল। বাকি তিনটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতেছেন, তাও আবার দু’বার করে। অথচ মেলবোর্নে এসে বারবার থমকে যেতে হয়েছে তাঁকে। কখনও দ্বিতীয় রাউন্ড, কখনও তৃতীয় রাউন্ড, কখনও কোয়ার্টার ফাইনাল—ফাইনাল অধরাই থেকে গিয়েছিল। পাঁচ নম্বর চেষ্টায় অবশেষে সেই বৃত্ত ভাঙলেন স্প্যানিশ তরুণ। তাও আবার চোট নিয়েই।

শুক্রবার অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সেমিফাইনালে যা হল, তা শুধু একটি টেনিস ম্যাচ নয়—একটা মানসিক যুদ্ধ। ৫ ঘণ্টা ২৭ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে আলকারাজ় হারালেন তৃতীয় বাছাই জার্মান তারকা আলেকজ়ান্ডার জ়েরেভকে। স্কোরলাইন—৬-৪, ৭-৬, ৬-৭, ৬-৭, ৭-৫। ম্যাচ শেষে দুই খেলোয়াড়ই যেন নিঃশেষিত, কিন্তু হাত দু’টি তুললেন এক জনই—আলকারাজ়।

এই জয় আরও তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ইতিহাসটা তাঁর পক্ষে মোটেই সুখের নয়। ২০২১ সালে দ্বিতীয় রাউন্ডে ছিটকে গিয়েছিলেন। পরের বছর তৃতীয় রাউন্ডেই বিদায়। ২০২৩ সালে খেলেনইনি। গত দু’বছর কোয়ার্টার ফাইনালেই থেমেছে যাত্রা। সেমিফাইনাল তো দূরের কথা, ফাইনাল ছিল স্বপ্নের মতো। সেই স্বপ্নটাই এবার বাস্তব হল।

ম্যাচের প্রথম দু’টি সেটে আলকারাজ় দাপট দেখান। মনে হচ্ছিল, হয়তো চার সেটেই কাজ শেষ করবেন। কিন্তু তৃতীয় সেট থেকে চিত্র বদলাতে শুরু করে। পায়ে টান ধরা, ক্লান্তি, ব্যথা—সব মিলিয়ে আলকারাজ়ের গতি কিছুটা কমে যায়। সুযোগটা পুরোপুরি কাজে লাগান জ়েরেভ। টাইব্রেক জিতে তৃতীয় ও চতুর্থ সেট নিজের দখলে নেন তিনি। ম্যাচ তখন ২-২।

পঞ্চম সেটে নাটকীয়তা চরমে ওঠে। জ়েরেভ যখন ম্যাচ জেতার জন্য সার্ভ করছিলেন, তখনই আলকারাজ় ব্রেক করে ৫-৫ করেন। এরপর নিজের সার্ভিস ধরে রেখে এগিয়ে যান। শেষ গেমে আবারও জ়েরেভের সার্ভিস ভেঙে ম্যাচ পকেটে পুরে নেন তিনি।

পরিসংখ্যান বলছে, অনেক ক্ষেত্রেই জ়েরেভ এগিয়ে ছিলেন—বেশি ‘এস’, বেশি প্রথম সার্ভিস সফলতা, বেশি সার্ভিস পয়েন্ট। কিন্তু টেনিস শুধু সংখ্যার খেলা নয়। শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দিল মানসিক দৃঢ়তা। চাপের মুখে জ়েরেভের কিছু আনফোর্সড এররই ম্যাচ ঘুরিয়ে দিল।

ম্যাচ শেষে প্রাক্তন চ্যাম্পিয়ন জিম কুরিয়র জানতে চেয়েছিলেন—চোট আর ক্লান্তির সঙ্গে লড়ে কী ভাবে এমন প্রত্যাবর্তন সম্ভব হল? আলকারাজ়ের উত্তর ছিল এক শব্দে—“বিশ্বাস।” তিন বার সেই শব্দ উচ্চারণ করে তিনি বলেন, যত কঠিন পরিস্থিতিই আসুক, নিজের উপর বিশ্বাস হারাননি বলেই এই জয়।

রবিবার ফাইনালে তাঁর সামনে থাকবেন নোভাক জোকোভিচ অথবা জানিক সিনার। জিতলে সবচেয়ে কম বয়সে কেরিয়ার গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের রেকর্ড গড়বেন ২২ বছরের আলকারাজ়। কুরিয়র সেটা মনে করিয়ে দিতেই হেসে তাঁর জবাব—“ধন্যবাদ, এত তাড়াতাড়ি আমার উপর নতুন চাপ তৈরি করার জন্য।”

চাপ, চোট, ক্লান্তি—সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে এখন শুধু একটাই কথা বলছে আলকারাজ়ের টেনিস—বিশ্বাস থাকলে অসম্ভব বলে কিছু নেই।

‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *