বিশ্বসুন্দরীর মঞ্চে পাকিস্তানের ঐতিহাসিক অভিষেক!
newইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতার মঞ্চে দেখা যাবে দেশের প্রতিনিধিকে। স্বাধীনতার প্রায় ৭৪ বছর পর এই আন্তর্জাতিক আসরে পাকিস্তানের হয়ে অংশ নিতে চলেছেন ২৪ বছর বয়সি অনিকা জামাল ইকবাল। সম্প্রতি ‘মিস ওয়ার্ল্ড পাকিস্তান ২০২৬’-এর মুকুট জয়ের পর তাঁর সামনে খুলে গিয়েছে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার দরজা। এই ঘটনাকে পাকিস্তানের সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলেই মনে করা হচ্ছে।
অনিকার কাছে আন্তর্জাতিক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা অবশ্য নতুন নয়। এর আগে তিনি ‘মিস আর্থ’, ‘মিস গ্লোবাল’, ‘মিস কসমো’, ‘মিস ইকো ইন্টারন্যাশনাল’ এবং ‘মিস অরা ইন্টারন্যাশনাল’-এর মতো একাধিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন। ‘ফ্রিডম অফ দ্য ওয়ার্ল্ড’ প্রতিযোগিতায় চারটি খেতাবও জিতেছেন তিনি। তবে বিশ্বসুন্দরীর মঞ্চে পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ তাঁর কেরিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জন বলে মনে করছেন অনিকা।
পড়াশোনার দিক থেকেও সমান মনোযোগী এই তরুণী। বর্তমানে পাকিস্তানের দানিস বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাকাউন্টিং ও অডিটিং বিষয়ে স্নাতকোত্তর স্তরের পড়াশোনা করছেন তিনি। মডেলিংয়ের পাশাপাশি সমাজসেবামূলক কাজেও সক্রিয় অনিকা। তাঁর উদ্যোগে পরিচালিত ‘বিউটি উইথ পারপাস’ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের সাহায্য করা। পাশাপাশি লাহোরের একাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গে যুক্ত থেকে দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থ রোগীদের সহায়তায় কাজ করছেন তিনি।
‘মিস পাকিস্তান ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন’-এর তরফে জানানো হয়েছে, তাদের ২৫ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও প্রতিযোগী বিশ্বসুন্দরীর আসরে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলেন। সংস্থার প্রধান সোনিয়া আহমেদের মতে, এটি শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং পাকিস্তানের প্রতিভা, সংস্কৃতি এবং ইতিবাচক ভাবমূর্তি বিশ্বের সামনে তুলে ধরার বিরল সুযোগ।
তবে এই পথ মোটেও সহজ ছিল না। পাকিস্তানের মতো রক্ষণশীল সমাজে মডেলিংকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করা এখনও নানা বিতর্কের বিষয়। অনিকা নিজেও স্বীকার করেছেন, ছোটবেলা থেকেই জানতেন এই পেশায় এগোতে গেলে সমালোচনা ও বাধার মুখে পড়তে হবে। কিন্তু সেই সবকে উপেক্ষা করেই তিনি নিজের স্বপ্নপূরণের পথে এগিয়েছেন।
অনিকার কাছে বিশ্বসুন্দরীর মঞ্চ শুধু সৌন্দর্য প্রদর্শনের জায়গা নয়। তাঁর লক্ষ্য, এই আন্তর্জাতিক মঞ্চকে ব্যবহার করে থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য আরও বেশি সহায়তা ও সচেতনতা তৈরি করা। তিনি বিশ্বাস করেন, একজন প্রতিযোগীর দায়িত্ব শুধু নিজের দেশের প্রতিনিধিত্ব করা নয়, সমাজের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তাও তুলে ধরা।
পরিবারও বরাবর তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি। অনিকার বাবা-মা সবসময় মেয়ের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন এবং কখনও তাঁর স্বপ্নপূরণে বাধা হয়ে দাঁড়াননি। তাঁদের উৎসাহই আজ তাঁকে এই ঐতিহাসিক সাফল্যের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছে।
আগস্টের প্রথম সপ্তাহ থেকে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত ভিয়েতনামে অনুষ্ঠিত হবে এবারের বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতা। সেখানে অনিকা জামাল ইকবাল কেমন পারফরম্যান্স করেন, তা নিয়ে আগ্রহ এখন শুধু পাকিস্তানেই নয়, আন্তর্জাতিক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার অনুরাগীদের মধ্যেও। তাঁর অংশগ্রহণই ইতিমধ্যে পাকিস্তানের জন্য একটি নতুন ইতিহাস লিখে ফেলেছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?