বিশ্বকাপ ঘিরে সুর নরম ট্রাম্প!
ফুটবল বিশ্বকাপের আগে কূটনীতি আর খেলাধুলা—দুইয়ের টানাপোড়েন যেন একসঙ্গেই সামনে এল। একদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে নিয়ে আগের তুলনায় নরম সুরে কথা বললেন, অন্যদিকে FIFA-র মঞ্চেই ইজ়রায়েল-প্যালেস্টাইন প্রতিনিধিদের মধ্যে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হল।
কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে আয়োজিত ফিফা কংগ্রেসে সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো স্পষ্ট করে জানান, আসন্ন বিশ্বকাপে ইরান অংশ নেবে এবং তাদের ম্যাচ আমেরিকাতেই আয়োজন করা হবে। তাঁর কথায়, “ফুটবল বিশ্বকে এক করে—এই মঞ্চে বিভাজন নয়, ঐক্য দরকার।”
ইনফান্তিনোর এই বক্তব্যের পর ট্রাম্পও সুর নরম করেন। তিনি বলেন, ইনফান্তিনো যদি এই সিদ্ধান্ত নেন, তবে তাঁর আর কোনও আপত্তি নেই। এমনকি খানিক হালকা মেজাজে তিনি মন্তব্য করেন, ইরানকে খেলতে দেওয়া উচিত—যদিও দলের মান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। এতে বোঝা যায়, রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও বিশ্বকাপ নিয়ে আপাতত নমনীয় অবস্থান নিচ্ছে ওয়াশিংটন।
তবে যেখানে ঐক্যের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা, সেখানেই দেখা গেল বাস্তবের কঠিন চিত্র। ইনফান্তিনো একই মঞ্চে ডাকেন জিবরিল রাজুব এবং শেখ সুলিমান-কে। উদ্দেশ্য ছিল, অন্তত প্রতীকীভাবে দুই পক্ষকে একসঙ্গে দেখানো।
কিন্তু মঞ্চে ওঠার পরেই সেই প্রচেষ্টা ভেস্তে যায়। ইনফান্তিনোর সঙ্গে করমর্দন করলেও সুলিমানের দিকে হাত বাড়াননি রাজুব। শুধু তাই নয়, একসঙ্গে ছবি তুলতেও অস্বীকার করেন তিনি। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইনফান্তিনো বলেন, “এগুলো জটিল বিষয়, কিন্তু আমাদের একসঙ্গে কাজ করতেই হবে—বিশেষ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য।”
পরে প্যালেস্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাজুবের এই সিদ্ধান্ত ছিল রাজনৈতিক অবস্থানেরই বহিঃপ্রকাশ। তাঁর মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইজ়রায়েলের প্রতিনিধির সঙ্গে করমর্দন করা সম্ভব নয়।
সব মিলিয়ে, এই ঘটনাগুলি আবারও দেখাল—ফুটবল যতই ‘বিশ্বকে এক করার’ কথা বলুক, বাস্তবের ভূ-রাজনীতি এখনও সেই ঐক্যের পথে বড় বাধা। বিশ্বকাপের মঞ্চে তাই শুধু খেলা নয়, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সূক্ষ্ম সমীকরণও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?