বিশ্বকাপে ফের VAR বিতর্ক!!
বিশ্বকাপে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) নিয়ে বিতর্ক যেন থামছেই না। কয়েক দিন আগেই জার্মানির একটি গোল বাতিল হওয়াকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠেছিল প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে। এবার একই বিতর্কের কেন্দ্রে বেলজিয়াম-সেনেগাল ম্যাচ। শেষ মুহূর্তে VAR-এর হস্তক্ষেপে পাওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করে নাটকীয় জয় তুলে নেয় বেলজিয়াম। তবে সেই সিদ্ধান্ত এখনও মেনে নিতে পারছে না সেনেগাল শিবির।
ম্যাচের ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল সেনেগাল। জয় তখন প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু মাত্র তিন মিনিটের ব্যবধানে দুটি গোল শোধ করে সমতা ফেরায় বেলজিয়াম। এরপর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। যখন সবাই টাইব্রেকারের অপেক্ষায়, ঠিক তখনই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত।
অতিরিক্ত সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে বক্সের মধ্যে একটি ক্রসে বল ধরতে এগিয়ে যান বেলজিয়ামের অধিনায়ক ইউরি টিয়েলেম্যানস। তাঁকে আটকাতে গিয়ে বল ক্লিয়ার করতে চান সেনেগালের লামিন কামারা। টিয়েলেম্যানস আগে বলের কাছে পৌঁছালেও কামারার পা তাঁর পায়ের পিছনে লাগে এবং বেলজিয়াম অধিনায়ক মাটিতে পড়ে যান। বেলজিয়ামের ফুটবলারেরা পেনাল্টির আবেদন করলেও মাঠের রেফারি প্রথমে খেলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন।
এরপর VAR কক্ষ থেকে রেফারিকে ঘটনাটি আবার দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। সাইডলাইনের মনিটরে রিপ্লে দেখতে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিবাদে ফেটে পড়েন সেনেগালের ফুটবলারেরা। তাঁরা ঘিরে ধরে রেফারিকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানান। কিন্তু রিপ্লে দেখার পর রেফারি নিজের আগের সিদ্ধান্ত বদলে পেনাল্টি দেন।
এই ঘোষণার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেনেগালের এক ফুটবলার পেনাল্টি স্পটের উপর বসে পড়েন এবং দাবি করেন, তাঁকে কনুই দিয়ে ধাক্কা মারা হয়েছে। আরও কয়েক জন ফুটবলার এসে প্রতিবাদে সামিল হন। অন্যদিকে পেনাল্টি স্পটের কোনও ক্ষতি হচ্ছে কি না, তা খেয়াল রাখছিলেন বেলজিয়ামের ফুটবলারেরা। কয়েক মিনিটের উত্তেজনার পর অবশেষে স্পট-কিক নিতে আসেন টিয়েলেম্যানস এবং গোল করে দলকে ৩-২ ব্যবধানে জেতান।
ম্যাচ শেষ হওয়ার পরও বিতর্ক থামেনি। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, কামারার ট্যাকল স্পষ্ট ফাউল ছিল এবং VAR-এর সাহায্যে রেফারির সিদ্ধান্ত বদলানোই সঠিক। আবার অন্য একটি মত বলছে, টিয়েলেম্যানস নিজেও বল নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি। তাই সেই পরিস্থিতিতে পেনাল্টি না দিলেও রেফারির সিদ্ধান্ত ভুল বলা যেত না। ফলে প্রযুক্তির ব্যাখ্যা ও প্রয়োগ নিয়েই নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
সেনেগালের কোচ পাপে চাও অবশ্য প্রকাশ্যে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে মন্তব্য করতে চাননি। ম্যাচের পর তিনি বলেন, “রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে আমি কিছু বলব না। ২-০ এগিয়ে থেকেও হারতে হয়েছে, সেটাই সবচেয়ে কষ্টের। পেনাল্টি নিয়ে অন্যরা আলোচনা করতে পারেন, কিন্তু আমি সে বিষয়ে কিছু বলতে চাই না।”
কোচের এই সংযমের কারণ নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, ম্যাচ অফিসিয়ালদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মন্তব্য করলে শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে বলেই তিনি বিতর্ক এড়িয়ে গিয়েছেন। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট— এই বিশ্বকাপে VAR-কে ঘিরে বিতর্ক এখনও থামার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?