মিশরের কোচের ‘এক্স’ ইঙ্গিতে মেসিকে ঘিরে বর্ণবিদ্বেষের জল্পনা!
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নাটকীয় প্রত্যাবর্তন করে মিশরকে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। কিন্তু ম্যাচের ফলের থেকেও বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে লিয়োনেল মেসিকে ঘিরে নতুন বিতর্ক। ম্যাচ শেষে মিশরের কোচ হোসেম হাসানের একটি অঙ্গভঙ্গিকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে বর্ণবিদ্বেষের অভিযোগ নিয়ে জল্পনা। যদিও এখনও পর্যন্ত এই অভিযোগের পক্ষে কোনও প্রত্যক্ষ প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।
ম্যাচের এক পর্যায়ে আর্জেন্টিনা তৃতীয় গোল করার পর মেসিকে মিশরের ডাগআউটের সামনে গিয়ে হাসানের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। ঠিক তার পরেই হাসান দুই হাত দিয়ে ইংরেজি অক্ষর ‘X’-এর মতো একটি চিহ্ন দেখান। ফুটবলে এই ‘X’ ইঙ্গিতটি বর্ণবিদ্বেষ-বিরোধী প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সেই কারণেই অনেকের ধারণা, তিনি হয়তো কোনও বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্যের অভিযোগ জানাতে চেয়েছিলেন।
তবে বিষয়টি নিয়ে এখনও কোনও সরকারি অভিযোগ দায়ের হয়নি। ফিফাও এ বিষয়ে কোনও বিবৃতি দেয়নি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, মেসি ঠিক কী বলেছিলেন, তার কোনও অডিয়ো বা ভিডিও এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করার মতো কোনও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ আপাতত নেই।
মেসিকে ঘিরে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে ম্যাচের পর প্রতিপক্ষের বেঞ্চের সামনে তাঁর উচ্ছ্বাস ও অঙ্গভঙ্গি নিয়েও বিস্তর আলোচনা হয়েছিল। সেই ঘটনার পর আবারও তাঁর আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও, বর্তমান বিতর্কে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। কারণ এখানে অভিযোগটি বর্ণবিদ্বেষের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে।
২০২৪ সালে বর্ণবিদ্বেষ রুখতে ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে ‘X’ সংকেত চালু করে। কোনও ফুটবলার, কোচ বা ম্যাচ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যদি বর্ণবিদ্বেষমূলক আচরণের শিকার হন, তাহলে তিনি এই সংকেত দেখিয়ে রেফারিকে বিষয়টি জানাতে পারেন। নিয়ম অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতিতে রেফারি খেলা সাময়িকভাবে বন্ধ করতে পারেন এবং স্টেডিয়ামে ঘোষণা করে বর্ণবিদ্বেষমূলক আচরণ বন্ধ করার আবেদন জানানো হয়। প্রয়োজন হলে ম্যাচ স্থগিতও করা যেতে পারে।
তবে আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচে এমন কোনও পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। খেলা বন্ধ করা হয়নি, রেফারিও কোনও তদন্তের ঘোষণা দেননি। ফলে হাসানের ইঙ্গিতের প্রকৃত অর্থ কী ছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এর আগেও ম্যাচ শেষে হাসান আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে দাবি করেছিলেন, তাঁদের দল অন্যায্য সিদ্ধান্তের শিকার হয়েছে। সেই আবহেই তাঁর এই অঙ্গভঙ্গি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তবে নির্দিষ্ট প্রমাণ বা ফিফার আনুষ্ঠানিক অবস্থান সামনে না আসা পর্যন্ত মেসির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে নিশ্চিত বলে ধরা যাচ্ছে না। বর্তমানে পুরো বিষয়টি জল্পনার স্তরেই রয়েছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?