আমেরিকার ভিসা না মেলায় চাপে ইরান ফুটবল দল!
বিশ্বকাপ ফুটবল শুরু হতে আর মাত্র ১৩ দিন বাকি। কিন্তু ঠিক এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে ইরান ফুটবল দল। কারণ, এখনও পর্যন্ত ইরানের কোনও ফুটবলার বা সাপোর্ট স্টাফকে ভিসা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। ফলে বিশ্বকাপে তাদের অংশগ্রহণ এবং প্রস্তুতি ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
২০২৬ সালের বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ইরানের সব ম্যাচই হওয়ার কথা আমেরিকার মাটিতে। সেই কারণে অনেক আগেই ভিসা প্রক্রিয়া শুরু করেছিল ইরান ফুটবল ফেডারেশন। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, বিকল্প পরিকল্পনা হিসেবেও কানাডার ভিসার জন্য আবেদন করতে হয়েছে দলটিকে।
নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক জটিলতার কথা মাথায় রেখে ইরান তাদের চূড়ান্ত প্রস্তুতি শিবির মেক্সিকোয় সরিয়ে নিয়েছে। তুরস্কে অনুশীলন শেষ করার পর পুরো দল মেক্সিকোয় যাবে। সেখান থেকে আমেরিকায় গিয়ে ম্যাচ খেলে আবার ফিরে আসার পরিকল্পনা ছিল। এই কারণে একাধিকবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি-সহ বিশেষ ধরনের ভিসার আবেদন করা হয়েছে।
ইরান জাতীয় দলের মুখপাত্র আবুলফজল জানিয়েছেন, দলের খেলোয়াড়দের বারবার আমেরিকায় ঢোকা এবং বেরোনোর প্রয়োজন হবে। তাই মাল্টিপল-এন্ট্রি ভিসা চাওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, তুরস্কে অবস্থানকালে যেসব ফুটবলার ও সাপোর্ট স্টাফ আগে আবেদন করতে পারেননি, তাঁরাও সাক্ষাৎকার দিয়ে ভিসার আবেদন সম্পূর্ণ করেছেন।
তবে সময় যত এগোচ্ছে, উদ্বেগও তত বাড়ছে। ইরান ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের অভিযোগ, অন্য দলগুলোর তুলনায় তারা সমান সুযোগ পাচ্ছে না। ভিসা জটিলতার কারণে পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।
আবুলফজল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা এখনও জানি না আমেরিকা আমাদের খেলোয়াড়দের ভিসা দেবে কি না। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে সব দেশের সমান সুযোগ পাওয়া উচিত। কিন্তু বাস্তবে আমরা সেই সুবিধা পাচ্ছি না।”
এরই মধ্যে কানাডার ভিসার আবেদন নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রে, তবুও দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠতে পারলে কানাডায় ম্যাচ খেলতে হতে পারে। সেই সম্ভাবনা মাথায় রেখেই আগাম প্রস্তুতি হিসেবে কানাডার ভিসা প্রক্রিয়াও শুরু করেছে ইরান।
বিশ্বকাপের মতো আসরের ঠিক আগে এমন প্রশাসনিক অনিশ্চয়তা যে কোনও দলের জন্যই বড় ধাক্কা। এখন দেখার বিষয়, শেষ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র ভিসা অনুমোদন করে কি না। কারণ, সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে, আর সেই সঙ্গে বাড়ছে ইরানের উদ্বেগও।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?