ডিম্বাণু সংরক্ষণ নিয়ে মোনা সিংহের অকপট স্বীকারোক্তি!
বলিউডে ডিম্বাণু সংরক্ষণ এখন আর নতুন বা চমকপ্রদ বিষয় নয়। কাজ, ব্যক্তিগত জীবন আর মাতৃত্ব— এই তিনের মধ্যে ভারসাম্য খুঁজতেই বহু অভিনেত্রী এই পথ বেছে নিচ্ছেন। এর আগে প্রিয়ঙ্কা চোপড়া মাত্র ৩০ বছর বয়সে ডিম্বাণু সংরক্ষণ করিয়ে পরে মা হয়েছেন। এ বার সেই তালিকায় নিজের অভিজ্ঞতার কথা খোলাখুলি ভাবে জানালেন অভিনেত্রী মোনা সিংহ।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মোনা জানান, বিয়ের অনেক আগেই তিনি ডিম্বাণু সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেন। কেন এমন সিদ্ধান্ত? তাঁর কথায়, এটা ছিল পুরোপুরি সচেতন ও ভবিষ্যতমুখী এক ভাবনা। তখন তিনি নিজের কেরিয়ার ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য খুঁজছিলেন। ঠিক সেই সময়েই জীবনে এক গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ পান তিনি।
মোনা জানান, এক দিন তাঁর বাড়িতে নৈশভোজে এসেছিলেন এক স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ। কথায় কথায় উঠে আসে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মহিলাদের শরীরে ডিম্বাণুর সংখ্যা ও মান কমে যাওয়ার বিষয়টি। সেই আলোচনা থেকেই প্রথম ডিম্বাণু সংরক্ষণের কথা মাথায় আসে তাঁর। পরে বিষয়টি ভেবে-চিন্তে, কাজ থেকে সাময়িক বিরতি নিয়ে এই প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যান অভিনেত্রী।
তবে এই সিদ্ধান্ত যতটা বাস্তবসম্মত, তার পথটা যে মোটেই সহজ ছিল না, সে কথাও অকপটে স্বীকার করেছেন মোনা। তাঁর অভিজ্ঞতা শেয়ার করে তিনি বলেন, “শুরুর তিন থেকে ছ’মাস খুব কষ্টের ছিল। শরীরে বাইরে থেকে হরমোন ঢোকানো হয়, ফলে মাঝেমধ্যে পেট ফেঁপে যেত, শরীর ভারী লাগত। মানসিক চাপও কম ছিল না।” তবে তিনি এটাও জানান, এই কষ্ট স্থায়ী নয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কয়েক মাসের মধ্যেই শরীর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে যায়।
মোনার মতে, এই সিদ্ধান্তের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল— মাতৃত্বের সময়টা নিজের হাতে রাখা। তিনি বলেন, “মা হওয়ার সিদ্ধান্তটা যেন তাড়াহুড়োর না হয়। সন্তানের চাপে ভুল করে কাউকে বিয়ে করতে না হয়— অন্তত এই মানসিক শান্তিটুকু পাওয়া যায়।” তাঁর এই বক্তব্য অনেক মহিলার মনেই সাহস জোগাতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
কয়েক বছর অভিনয় জগৎ থেকে নিজেকে আড়াল করে রেখেছিলেন মোনা। টেলিভিশন থেকেও দূরে ছিলেন। এখন আবার সিনেমা ও ওটিটি— দুই মাধ্যমেই নিয়মিত দেখা যাচ্ছে তাঁকে। ২০১৯ সালে তিনি বিয়ে করলেও এখনও পরিবার পরিকল্পনা নিয়ে কোনও তাড়াহুড়ো নেই। নিজের শরীর, মন আর ভবিষ্যৎ— সব দিক ভেবেই এগোতে চান অভিনেত্রী।
মোনার এই খোলামেলা স্বীকারোক্তি শুধু এক অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের গল্প নয়, বরং আধুনিক নারীর নিজের জীবনের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখার এক বাস্তব উদাহরণ।
‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা