রক্ত থেকেই ডিম্বাণু তৈরিতে বড় সাফল্য!
বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় যুগান্তকারী সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিলেন বিজ্ঞানীরা। গবেষণাগারে মানুষের রক্তের কোষ থেকেই প্রাথমিক স্তরের ডিম্বাণু তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার একদল গবেষক। যদিও এই গবেষণা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, তবু বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে এটি সন্তানধারণে সমস্যায় ভোগা বহু মানুষের জন্য আশার আলো হয়ে উঠতে পারে।
ক্যালিফোর্নিয়ার বায়োটেক সংস্থা ‘কনসেপশন’-এর গবেষকেরা জানিয়েছেন, তাঁরা ‘ইন ভিট্রো গ্যামেটোজেনেসিস’ প্রযুক্তির সাহায্যে রক্তের কোষকে ধাপে ধাপে এমন অবস্থায় নিয়ে গিয়েছেন, যেখান থেকে প্রাথমিক স্তরের ডিম্বাণু তৈরি সম্ভব হয়েছে। এই প্রযুক্তির মূল ভিত্তি স্টেম সেল। প্রথমে রক্তের কোষকে প্লুরিপোটেন্ট স্টেম সেলে রূপান্তর করা হয়। পরে বিশেষ জৈব-রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সেই কোষ থেকে তৈরি করা হয় ‘প্রাইমরডিয়াল জার্ম সেল’, যা ভবিষ্যতে শুক্রাণু বা ডিম্বাণুতে পরিণত হতে পারে।
এর আগে ২০১৬ সালে জাপানের বিজ্ঞানীরা ইঁদুরের ক্ষেত্রে এমন সাফল্য পেয়েছিলেন। তবে মানুষের ডিম্বাণুর গঠন ও বিকাশ অনেক বেশি জটিল হওয়ায় এই গবেষণাকে দীর্ঘ দিন ধরেই কঠিন বলে মনে করা হচ্ছিল। সাম্প্রতিক এই অগ্রগতি সেই দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন গবেষকেরা।
এই আবিষ্কারের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায়। বর্তমানে আইভিএফ বা টেস্টটিউব বেবি পদ্ধতিতে ডিম্বাণু সংগ্রহের জন্য একাধিক হরমোন ইনজেকশন এবং অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়। ভবিষ্যতে যদি রক্ত থেকেই কার্যকর ডিম্বাণু তৈরি করা সম্ভব হয়, তা হলে এই জটিল ও কষ্টসাধ্য প্রক্রিয়ার অনেকটাই সহজ হয়ে যেতে পারে।
শুধু তা-ই নয়, বেশি বয়সে মাতৃত্বের ক্ষেত্রেও এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নারীদের ডিম্বাণুর সংখ্যা ও গুণগত মান কমতে থাকে। এর ফলে গর্ভধারণের সম্ভাবনা কমে এবং গর্ভাবস্থায় জটিলতার ঝুঁকি বাড়ে। গবেষকেরা আশা করছেন, ভবিষ্যতে রক্তের কোষ থেকে সুস্থ ডিম্বাণু তৈরি করা সম্ভব হলে এই সমস্যারও অনেকটা সমাধান হতে পারে।
ক্যানসারজয়ীদের জন্যও এই প্রযুক্তি নতুন আশা জাগাচ্ছে। কেমোথেরাপি বা রেডিয়োথেরাপির কারণে অনেক মহিলার প্রজনন ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গবেষণা সফল হলে তাঁদের ক্ষেত্রেও মাতৃত্বের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এ ছাড়া বারবার গর্ভপাতের পিছনে ডিম্বাণুর ক্রোমোজোমগত ত্রুটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হয়ে দাঁড়ায়। গবেষকেরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে সুস্থ ডিম্বাণু তৈরি করা গেলে সেই ঝুঁকিও কমানো সম্ভব হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি আরও পরিণত হলে সমকামী দম্পতিদের নিজেদের জিনগত বৈশিষ্ট্য বহনকারী সন্তান লাভের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। তবে আপাতত গবেষণা একেবারে প্রাথমিক স্তরে রয়েছে। রক্ত থেকে তৈরি এই ডিম্বাণু নিষিক্ত হয়ে সুস্থ ভ্রূণ ও সন্তানের জন্ম দিতে সক্ষম কি না, তা নিশ্চিত হতে আরও দীর্ঘ গবেষণা, পরীক্ষা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের অপেক্ষা করতে হবে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?