দেরিতে মাতৃত্বের পরিকল্পনা?
কাজ, কেরিয়ার, ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত—সব মিলিয়ে অনেক মহিলাই এখন মাতৃত্বের সময়টা কিছুটা পিছিয়ে দিতে চাইছেন। সেই জায়গায় চিকিৎসাবিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হয়ে উঠেছে ডিম্বাণু সংরক্ষণ বা এগ ফ্রিজ়িং। কেউ কেউ আরও এক ধাপ এগিয়ে ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর নিষেক ঘটিয়ে ভ্রূণ তৈরি করে সেটি সংরক্ষণ করছেন। কিন্তু দু’টির মধ্যে পার্থক্য কোথায়? কার জন্য কোন পদ্ধতি বেশি উপযোগী?
সম্প্রতি ডিম্বাণু সংরক্ষণের প্রসঙ্গ নতুন করে আলোচনায় এসেছে মার্কিন কংগ্রেসের নেত্রী আলেকজ়ান্দ্রিয়া ওকাসিয়ো কোর্তেজ়ের একটি ভিডিয়ো ঘিরে। সেখানে তাঁকে ডিম্বাণু সংরক্ষণের জন্য হরমোন ইঞ্জেকশন নিতে দেখা যায়। এর আগে বহু তারকাও দেরিতে মাতৃত্বের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে ডিম্বাণু সংরক্ষণের সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ্যে এনেছেন।
ডিম্বাণু সংরক্ষণ বনাম ভ্রূণ সংরক্ষণ
মহিলাদের বয়স বাড়ার সঙ্গে ডিম্বাণুর সংখ্যা ও গুণমান কমতে থাকে। তাই ভবিষ্যতে মা হওয়ার পরিকল্পনা থাকলে তুলনামূলক কম বয়সে ডিম্বাণু সংরক্ষণ একটি বিকল্প হতে পারে। অন্য দিকে, ভ্রূণ সংরক্ষণে মহিলার ডিম্বাণু ও পুরুষের শুক্রাণু নিষিক্ত করে ভ্রূণ তৈরি করা হয়, তার পর সেটি হিমায়িত করে রাখা হয়।
ডিম্বাণু সংরক্ষণ কারা ভাবতে পারেন?
- যাঁরা এখনই বিয়ে বা সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন না।
- ভবিষ্যতে মা হতে চান, কিন্তু বয়স বাড়ার আগে প্রজননক্ষমতা সংরক্ষণ করতে চান।
- ক্যানসারের চিকিৎসার আগে প্রজননক্ষমতা রক্ষা করতে চান এমন মহিলারা।
- কিছু ক্ষেত্রে পিসিওএস, এন্ডোমেট্রিয়োসিস বা অল্প বয়সে মেনোপজের পারিবারিক ইতিহাস থাকলেও চিকিৎসকের পরামর্শে এই পদ্ধতি বিবেচনা করা যেতে পারে।
ভ্রূণ সংরক্ষণ কার জন্য?
যাঁদের নির্দিষ্ট সঙ্গী রয়েছেন এবং ভবিষ্যতে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ভ্রূণ সংরক্ষণ একটি বিকল্প। শুক্রাণুর সংখ্যা বা গুণমান কম থাকলেও আইভিএফ ও প্রয়োজনীয় সহায়ক পদ্ধতিতে ভ্রূণ তৈরি করে সংরক্ষণ করা যায়। জিনগত রোগের পারিবারিক ইতিহাস থাকলে ভ্রূণের জিনগত পরীক্ষা করার সুযোগও রয়েছে।
কী ভাবে করা হয়?
ডিম্বাণু সংরক্ষণের ক্ষেত্রে হরমোন ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে একাধিক ডিম্বাণু পরিণত করার চেষ্টা করা হয়। পরে আলট্রাসাউন্ডের সাহায্যে ডিম্বাণু সংগ্রহ করে ‘ভিট্রিফিকেশন’ পদ্ধতিতে অত্যন্ত কম তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা হয়। ভ্রূণ সংরক্ষণেও একই ধরনের হিমায়ন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।
চিকিৎসকদের মতে, বর্তমানে ‘সোশ্যাল ফ্রিজ়িং’-এর প্রবণতাও বাড়ছে। অর্থাৎ, চিকিৎসাগত সমস্যা না থাকলেও কেরিয়ার বা ব্যক্তিগত কারণে ভবিষ্যতের মাতৃত্বের সম্ভাবনা ধরে রাখতে অনেকে আগে থেকেই ডিম্বাণু বা ভ্রূণ সংরক্ষণ করছেন।
খরচ কত?
কলকাতার বিভিন্ন হাসপাতাল ও ফার্টিলিটি ক্লিনিকে ডিম্বাণু সংরক্ষণের একটি সাইক্লে আনুমানিক দেড় থেকে আড়াই লাখ টাকা খরচ হতে পারে। ভ্রূণ তৈরির ক্ষেত্রে আইভিএফ-সহ প্রাথমিক খরচ প্রায় আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এর সঙ্গে বার্ষিক সংরক্ষণ খরচও যোগ হয়।
তবে কোন পদ্ধতি কার জন্য উপযুক্ত, তা ব্যক্তিভেদে বদলে যায়। তাই বয়স, স্বাস্থ্য, ডিম্বাণুর মান এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিবেচনা করে ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।