কোর কমিটির বৈঠকে অনুব্রত
দলের জেলা সভাপতির পদ হারিয়েছেন মাত্র একদিন আগে। অথচ রবিবার তৃণমূলের বীরভূম জেলা কোর কমিটির বৈঠকে যথারীতি হাজির অনুব্রত মণ্ডল। এই বৈঠকের মাঝেই আসে এক চমক— সরাসরি ফোন করেন স্বয়ং দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্ব আর বিভ্রান্তির আবহে এই ফোন যেন শান্তির বার্তা বয়ে আনে।
বৈঠকে ছিলেন কোর কমিটির চেয়ারপার্সন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, কাজল শেখ, বিকাশ রায়চৌধুরী, অভিজিৎ সিংহ-সহ একাধিক নেতা। তবে অনুপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ ও সাংসদ শতাব্দী রায়। আশিস জানিয়েছেন, তাঁরা আগেই ব্যক্তিগত কারণে জানিয়ে রেখেছিলেন যে উপস্থিত থাকতে পারবেন না।
দীর্ঘদিন পর বসা এই কোর কমিটির বৈঠকে উঠে আসে সাম্প্রতিক বিতর্কিত মিছিল প্রসঙ্গ। অনুব্রত আগেই ঘোষণা করেছিলেন ২৪, ২৫ ও ২৬ মে— রামপুরহাট, বোলপুর ও সিউড়িতে বড় মিছিল করবেন। প্রশ্ন উঠেছিল, কেন কোর কমিটির অনুমোদন ছাড়াই এমন কর্মসূচি ঘোষিত হল? বৈঠকে এই বিষয়েই আলোচনা হয় এবং সিদ্ধান্ত হয়, ঘোষিত কর্মসূচিগুলিকে স্বীকৃতি দেবে কোর কমিটি।
বৈঠকের মাঝেই অনুব্রতকে ফোন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় সূত্রের দাবি, মমতা তাঁকে মাথা ঠান্ডা রাখতে বলেন, পরামর্শ দেন সবাইকে নিয়ে কাজ করতে। তিনি জানান, দলের তরফে কোনও কর্মসূচি আয়োজনের দায়িত্ব এখন থেকে আশিসের উপরেই থাকবে এবং তা কোর কমিটিতে অনুমোদিত হতে হবে। যদিও একটি অংশ বলছে, দলনেত্রী ভবিষ্যতে অনুব্রত যেন নিজে কোনও মিটিং-মিছিল না ডাকেন, সে বিষয়েও কঠোর বার্তা দিয়েছেন।
অনুব্রত অবশ্য মমতার কথায় সম্মান রেখেই জানান, তিনি আর কোনও কর্মসূচি নিজে থেকে ডাকবেন না— আশিসই এখন থেকে দলের হয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। কোর কমিটির এই সিদ্ধান্তের পরই নেতাদের মুখে শোনা গেল ঐক্যের সুর।
বৈঠক শেষে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এখন আর কোনও বিভাজন নেই। দল চলবে সম্মিলিত সিদ্ধান্তে। কেউ যদি সামাজিক মাধ্যমে বিভাজনমূলক কিছু লেখেন, দল সেক্ষেত্রে আইনি ব্যবস্থা নিতে পিছপা হবে না।” একই কথা বলেন কাজল শেখও। তাঁর মন্তব্য, “আমরা সকলেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগত। কোর কমিটির নেতৃত্বেই আমরা পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনে জিতব।”
আগামী ১৪ জুন সিউড়িতে এবং ২৮ জুন বোলপুরে পরবর্তী কোর কমিটির বৈঠক হবে বলেও জানানো হয়েছে। সিদ্ধান্ত হয়েছে, নিয়ম করে প্রতি মাসে দু’বার করে বৈঠক হবে, যাতে সাংগঠনিক কাজ পরিচালনায় স্বচ্ছতা থাকে।
দলের অন্দরে ভাঙন, দ্বন্দ্ব, অনিশ্চয়তার জল্পনার মাঝে এই বৈঠক যেন এক নতুন বার্তা দেয়— নেতৃত্বের নির্দেশে সবাই একত্রে কাজ করতে প্রস্তুত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বীরভূমে দলের ভবিষ্যৎ রণনীতি নির্ধারণে এই বৈঠক ছিল এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়। আর মমতার ফোন যেন সেই রণনীতিতে স্থিরতা আনল, বলছে রাজনৈতিক মহল।
কন্যাকে বিশেষ কারণে কান-এ নিয়ে যান ঐশ্বর্যা! বিদেশি উৎসবে আরাধ্যার প্রিয় মুহূর্ত কী?