ভুয়ো ভিডিও ঘিরে বাড়ছে জল্পনা!
গত কয়েক দিন ধরে আন্তর্জাতিক মহলে এক অদ্ভুত জল্পনা দানা বেঁধেছে—ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu কি আদৌ বেঁচে আছেন? নাকি তাঁর মৃত্যু বা গুরুতর আহত হওয়ার খবর চাপা দিতে একের পর এক ‘সাজানো’ ভিডিও সামনে আনা হচ্ছে? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সমাজমাধ্যম থেকে রাজনৈতিক মহল—সব জায়গায়।
এই জল্পনার মূল উৎস একাধিক ভিডিও। গত কয়েক দিনে নেতানিয়াহুর নামে বিভিন্ন ক্লিপ প্রকাশ্যে এসেছে। কখনও তাঁকে কফি হাতে বক্তব্য রাখতে দেখা যাচ্ছে, কখনও আবার সাধারণ মানুষের সঙ্গে রাস্তায় হাঁটতে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, এই ভিডিওগুলিই সন্দেহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অনেকেই দাবি করছেন, এগুলি নাকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ‘ডিপফেক’।
বিশেষ করে ১৫ মার্চ প্রকাশিত একটি ভিডিওতে নেতানিয়াহুকে কফির কাপ হাতে বলতে শোনা যায়, তিনি জীবিত এবং সুস্থ আছেন। এমনকি তাঁর হাতের আঙুল নিয়েও যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তা খণ্ডন করতে তিনি ক্যামেরার সামনে হাত দেখান। কিন্তু তাতেও সংশয় কাটেনি। বরং কেউ কেউ বলছেন, এ সবই পরিকল্পিত প্রচেষ্টা—তাঁকে ‘জীবন্ত প্রমাণ’ করার জন্য।
এর পর আরও একটি ভিডিও সামনে আসে, যেখানে তাঁকে জেরুজালেমের রাস্তায় হাঁটতে দেখা যায়। কিন্তু নেটাগরিকেরা খুঁটিয়ে দেখে দাবি করেন, ভিডিওতে তাঁর হাতে থাকা আংটি বার বার অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে—যা ডিপফেকের লক্ষণ হতে পারে। ফলে জল্পনা আরও তীব্র হয়।
এমনকি, একটি ভিডিওতে তাঁকে ইরানের জনগণকে নওরোজ়ের শুভেচ্ছা জানাতেও দেখা গিয়েছে। পরে আর একটি ক্লিপে তিনি নিজেই রসিকতার সুরে বলেন, “আমি বেঁচে আছি।” তাঁর পাশে ছিলেন মার্কিন কূটনীতিকও। তবু সন্দেহ কাটেনি—বরং প্রশ্ন আরও বেড়েছে, এই ভিডিওগুলির সত্যতা আদৌ কতটা?
জল্পনা আরও উসকে দিয়েছে কিছু অস্বাভাবিক বিষয়। যেমন—গত কয়েক দিনে নেতানিয়াহুকে সরাসরি কোনও টেলিভিশন সম্প্রচারে দেখা যায়নি। পাশাপাশি, তাঁর পুত্র Yair Netanyahu, যিনি সাধারণত সমাজমাধ্যমে খুব সক্রিয়, তিনিও হঠাৎ করে নীরব। ৯ মার্চের পর থেকে তাঁর কোনও পোস্ট দেখা যায়নি। এই নীরবতাও নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।
শুধু তাই নয়, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের আবহে সাম্প্রতিক কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিসভার বৈঠকেও নেতানিয়াহুর অনুপস্থিতির খবর সামনে এসেছে। এতে তাঁর শারীরিক অবস্থান ও নিরাপত্তা নিয়ে আরও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
তবে ইজ়রায়েল সরকার এই সমস্ত জল্পনা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলেই দাবি করেছে। তাদের বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী সুস্থ আছেন এবং দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। কিন্তু একের পর এক বিতর্কিত ভিডিও এবং অস্পষ্ট পরিস্থিতি—সব মিলিয়ে রহস্য কাটছে না।
ফলত, সত্য-মিথ্যার সীমারেখা এখন বেশ ঝাপসা। এই ঘটনাই আবার মনে করিয়ে দিচ্ছে—ডিজিটাল যুগে তথ্য যত দ্রুত ছড়ায়, বিভ্রান্তিও ততটাই সহজে জায়গা করে নেয়। আর সেই বিভ্রান্তির মাঝেই ‘বিবি’-কে ঘিরে রহস্য যেন আরও গভীর হয়ে উঠছে।
ধীরে ধীরে কমান চিনির অভ্যাস: স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কার্যকর কয়েকটি সহজ উপায়