বিজেপির নতুন টিমে বড় রদবদল!
বিজেপির নতুন সর্বভারতীয় ‘টিম’ ঘোষণা হতেই দলের অন্দরে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। সভাপতি নিতিন নবীন দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় সাত মাস পরে সোমবার নতুন পদাধিকারীদের তালিকা প্রকাশ করেছেন। সেখানে যেমন একাধিক নতুন মুখ জায়গা পেয়েছেন, তেমনই ফিরে এসেছেন দলের কয়েক জন পুরনো ও প্রভাবশালী নেতা। সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়লকে কোষাধ্যক্ষ করা, বসুন্ধরা রাজে, স্মৃতি ইরানি ও রাম মাধবের প্রত্যাবর্তন এবং অমিত মালবীয়ের বিদায়।
পীযূষের নতুন পদ কি আদৌ পদোন্নতি?
কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়লকে দলের সর্বভারতীয় কোষাধ্যক্ষ করা হয়েছে। এর আগে ২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত অমিত শাহের সভাপতিত্বের সময়ও এই দায়িত্বে ছিলেন তিনি। তাঁর বাবা বেদপ্রকাশ গোয়লও দীর্ঘ সময় বিজেপির কোষাধ্যক্ষ ছিলেন।
তবে এ বার প্রশ্ন উঠেছে, এই নিয়োগ কি পীযূষের পদোন্নতি, নাকি মন্ত্রিত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত? বিজেপির ‘এক ব্যক্তি, এক পদ’ নীতি কার্যকর হলে কোষাধ্যক্ষ হওয়ার পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় তাঁর থাকা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।
দলের অন্দরে অবশ্য অন্য জল্পনাও রয়েছে। বাণিজ্য ও শুল্ক সংক্রান্ত বিষয়ে আমেরিকার ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে এখনও চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়া এবং বিভিন্ন সময়ে তাঁর মন্তব্য নিয়ে নেতৃত্ব অসন্তুষ্ট বলেও দাবি করছেন বিজেপির একাংশ।
বসুন্ধরার প্রত্যাবর্তনের অর্থ কী?
রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজের প্রত্যাবর্তনও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২৩ সালে তাঁকে সরিয়ে প্রথম বার বিধায়ক হওয়া ভজনলাল শর্মাকে মুখ্যমন্ত্রী করেছিল বিজেপি। তার পর থেকে দলের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে বসুন্ধরাকে অনেকটাই আড়ালে দেখা গিয়েছিল।
কিন্তু রাজস্থানে তাঁর জনপ্রিয়তা এখনও যথেষ্ট। ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দলের সাফল্যের পিছনে তাঁর ভূমিকার কথা বিজেপির অনেক নেতাই মনে করেন। ফলে ভজনলাল সরকারের মেয়াদের মাঝপথে বসুন্ধরাকে ফের সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া রাজনৈতিক ভারসাম্যের বার্তা বলেই মনে করা হচ্ছে।
স্মৃতির ফেরায় বাড়ল মহিলাদের গুরুত্ব
২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদীর প্রথম মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছিলেন স্মৃতি ইরানি। ২০১৯ সালে অমেঠীতে রাহুল গান্ধীকে হারিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে বড় চমক দিয়েছিলেন তিনি। যদিও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে অমেঠীতে পরাজয়ের পর তাঁকে আর তেমন সক্রিয় রাজনীতিতে দেখা যায়নি।
এ বার তাঁকে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক করে ফেরানো হয়েছে। ফলে দলীয় সংগঠনে মহিলা নেত্রীদের গুরুত্ব বাড়ানোর ইঙ্গিতও দেখা যাচ্ছে। বাজপেয়ী-আডবাণী জমানায় সুষমা স্বরাজ ও সুমিত্রা মহাজনের মতো নেত্রীরা এই দায়িত্ব সামলালেও সাম্প্রতিক সময়ে ছবিটা অনেকটাই আলাদা ছিল।
রাম মাধবের প্রত্যাবর্তনে সঙ্ঘের ছাপ
রাম মাধবও ফিরেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সংগঠনে। ২০১৪ সালে সঙ্ঘ থেকে বিজেপিতে এসে গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব সামলেছিলেন তিনি। কাশ্মীর ও উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজনীতিতে তাঁর ভূমিকা বিশেষ ভাবে আলোচিত হয়েছিল।
২০২০ সালে জেপি নড্ডা সভাপতি হওয়ার পর সংগঠন থেকে সরে যেতে হয়েছিল তাঁকে। পাঁচ বছর পরে তাঁর প্রত্যাবর্তনকে বিজেপির সঙ্গে সঙ্ঘের সমন্বয়ের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসাবেই দেখছেন অনেকে।
কেন সরলেন অমিত মালবীয়?
সবচেয়ে বড় চমক সম্ভবত অমিত মালবীয়ের বিদায়। ২০১৫ সাল থেকে বিজেপির সমাজমাধ্যম ও ডিজিটাল প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ মুখ ছিলেন তিনি। কিন্তু তরুণ প্রজন্মের মধ্যে রাজনৈতিক প্রচারের ধরন বদলে যাওয়ার সঙ্গে বিজেপির ডিজিটাল কৌশল নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল।
তাঁর জায়গায় ছত্তীসগঢ়ের দীপক মাস্কেকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে বিজেপির ডিজিটাল যোগাযোগে আরও উদ্ভাবনী পরিবর্তন আনার লক্ষ্যই যে রয়েছে, মালবীয় নিজেও তাঁর বিদায়ী বার্তায় সেই ইঙ্গিত দিয়েছেন।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।