বিজেপির কাছে কী চাইছেন টলিউডের ‘প্রাক্তন’ মুখেরা?
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকীর দিনেই বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় পরিবর্তনের সাক্ষী হতে চলেছে রাজ্য। দীর্ঘ সময় পর বাংলার ক্ষমতায় আসছে বিজেপি। আর সেই আবহেই নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন টলিউডের সেই সব তারকারা, যাঁরা একসময় গেরুয়া শিবিরে নাম লিখিয়েছিলেন, পরে আবার সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে সরে গিয়েছেন।
অনেকেরই প্রশ্ন, ক্ষমতার পালাবদলের পরে কি তাঁদের মনে কোনও আফসোস কাজ করছে? আবার কি বিজেপিতে ‘ঘর ওয়াপসি’র সম্ভাবনা রয়েছে? এই প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছিলেন অভিনেত্রী Parno Mittra, Tanushree Chakraborty, কাঞ্চনা মৈত্র, অনিন্দ্যপুলক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রূপা ভট্টাচার্য।
বর্তমানে নিজের নতুন ডক্যু-ফিল্ম নিয়ে ব্যস্ত Parno Mittra। তাঁর প্রযোজিত ‘স্পিরিট অফ দ্য ওয়াইল্ড লাইফ’ কান চলচ্চিত্র উৎসবে জায়গা পেয়েছে। ফলে রাজনৈতিক প্রসঙ্গে আপাতত মুখ খুলতে চাননি তিনি।
অন্য দিকে, Tanushree Chakraborty স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, রাজনীতিতে ফেরার কোনও ইচ্ছা তাঁর নেই। তাঁর কথায়, রাজনীতি তাঁর জন্য নয় বলেই তিনি দল ছেড়েছিলেন। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিবর্তনে তিনি আশাবাদী। তাঁর মতে, দীর্ঘ দিনের অসন্তোষের পর সাধারণ মানুষ হয়তো নতুন স্বস্তির আশা দেখছেন।
কাঞ্চনা মৈত্রর বক্তব্যে উঠে এসেছে অন্য বাস্তবতা। তিনি দাবি করেছেন, রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে টলিউডে কাজ পেতে সমস্যায় পড়েছিলেন। সংসার চালানোর চাপেই নাকি তাঁকে দল ছাড়তে হয়েছিল। একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন রূপা ভট্টাচার্য এবং অনিন্দ্যপুলক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে কাজের সুযোগ কমে গিয়েছিল।
অনিন্দ্যপুলক জানিয়েছেন, আদর্শগত কারণেই তিনি একসময় বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। যদিও এখন সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরার ইচ্ছা নেই তাঁর। বরং তিনি মনে করেন, ইন্ডাস্ট্রির উন্নয়নই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর প্রস্তাব, বাংলায় একটি আধুনিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হোক, যেখানে অভিনয় থেকে শুরু করে চিত্রনাট্য, গ্রাফিক্স— বিনোদন জগতের সব দিক শেখানো হবে। তাতে টলিউড আরও পেশাদার এবং শক্তিশালী হয়ে উঠবে।
রূপা ভট্টাচার্যের বক্তব্যও একই সুরে বাঁধা। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে যে উদ্দেশ্যে তাঁরা বিজেপির পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তা অনেকটাই পূরণ হয়েছে। তাই এখন নতুন করে দলে যোগ দেওয়ার প্রয়োজন দেখছেন না।
তবে কাঞ্চনার ব্যক্তিগত চাওয়া সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে। তাঁর দাবি, অতীতে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছিল এবং দীর্ঘ দিন আদালতে হাজিরা দিতে হয়েছে। নতুন সরকারের কাছে তাঁর প্রত্যাশা, সেই আইনি জটিলতা থেকে মুক্তি মিলুক। যদিও একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ব্যক্তিগত লাভের থেকেও বাংলার সামগ্রিক উন্নয়নই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে, টলিউডের এই ‘প্রাক্তনী’দের বক্তব্যে একদিকে যেমন রয়েছে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার তিক্ততা, তেমনই রয়েছে নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ঘিরে আশা এবং শিল্পজগতকে আরও স্বচ্ছ ও পেশাদার করে তোলার দাবি।
স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা