অনুরাগ কাশ্যপকে নিয়ে খোলাখুলি কল্কি !
বলিউডে এমন অনেক সম্পর্ক আছে যেগুলো ভেঙে গেলেও রয়ে যায় এক গভীর বন্ধুত্বের রেশ। ঠিক তেমনই এক সম্পর্ক কল্কি কেঁকলা ও অনুরাগ কাশ্যপের। এক সময় প্রেম, তারপর বিয়ে—শেষমেশ সেই দাম্পত্য ভেঙে গেলেও, আজও একে অপরের জীবনে রয়েছেন তারা, বন্ধুত্বের মাধুর্যে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অকপটভাবে মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী কল্কি। জানিয়েছেন, বিচ্ছেদের পরে জীবনে শুধু শূন্যতা আসেনি, এসেছে অনেক পাওয়াও। তাঁর কথায়, “অনুরাগের সঙ্গে বিচ্ছেদের পরেও জীবনে অনেক সুন্দর জিনিস পেয়েছি। সেই সম্পর্ক থেকে অনেক কিছু শিখেছি, অনেক নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হয়েছি। অনুরাগের জন্যই বলিউডের ৩০০-৪০০ জন মানুষকে আমি চিনি।”
অনুরাগ কাশ্যপের সঙ্গে সম্পর্কে থাকার পরে কল্কি তাঁকে বিয়ে করেন। কিন্তু সে সম্পর্ক বেশি দিন টেকেনি। তবু মন খারাপের বদলে কল্কি বেছে নিয়েছেন ইতিবাচকতা। তাঁর মতে, “জীবনে কিছু সম্পর্ক থাকে যেগুলো রূপ বদলায়, কিন্তু শেষ হয়ে যায় না। অনুরাগের সঙ্গে আমার সম্পর্ক বন্ধুত্বের জায়গায় গিয়ে থেমেছে। সেই বন্ধুত্বটাই আজ অনেক কিছু এনে দিয়েছে।”
সম্প্রতি অনুরাগ কাশ্যপের কন্যা আলিয়ার বিয়েতে গিয়েছিলেন কল্কি, আর তাতেই শুরু হয় কটাক্ষের ঢল। কিন্তু তাতে বিশেষ বিচলিত নন তিনি। কল্কি বলেন, “আলিয়া আমার খুব প্রিয় একজন মানুষ। ওর বড় হওয়ার সময় থেকেই আমি পাশে ছিলাম। ওর বিয়েতে না যাওয়ার কোনও কারণ ছিল না। বরং ওর জীবনের আনন্দের দিনে পাশে থাকতে পেরে আমি গর্বিত।”
এই সাক্ষাৎকারে কল্কি আরও জানিয়েছেন, বিচ্ছেদের পরে এক সময় অনুরাগের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বন্ধ ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পুরনো রাগ-ক্ষোভ ধুয়ে যায়, এবং সম্পর্ক আবার নতুনভাবে গড়ে ওঠে।
প্রাক্তন জীবনসঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক থাকলেও, কল্কি নিজের জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে। ২০২০ সালে মা হন তিনি, এবং ২০২৪ সালে বিয়ে করেন গাই হার্সবার্গকে। বিয়ের আগে মা হওয়াতেও কম সমালোচনার মুখে পড়তে হয়নি তাঁকে। কিন্তু সব কটাক্ষ, কুৎসা ঝেড়ে ফেলে আজ কল্কি নিজের মতো করে বাঁচছেন, গাই ও মেয়েকে নিয়ে এখন তাঁর স্থায়ী ঠিকানা গোয়ার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ।
কল্কির এই খোলামেলা বক্তব্য আবারও প্রমাণ করে, বিচ্ছেদ মানেই জীবন থেমে যাওয়া নয়। বরং নতুনভাবে জীবনকে দেখার আরেকটি জানালা খুলে যায় অনেক সময়। সম্পর্ক, বন্ধুত্ব, পরিবার—সব কিছু একসঙ্গে টানাটানি না করে যদি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে ইতিবাচক দিকটা নেওয়া যায়, তাহলে জীবন আরও সমৃদ্ধ হয়—কল্কির জীবন সে কথাই যেন বলে।
বিরাটের বিদায়ের পর অনুষ্কার আবেগ, ব্যথিত মাইকেল ভন ও ক্রিকেটের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা