জবাব দিলেন তন্বী লাহা রায়!
সম্প্রতি লাল বিকিনিতে একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এলেন অভিনেত্রী তন্বী লাহা রায়। সাধারণের চোখে ছোটখাটো এক ছবি, কিন্তু নেটিজেনদের মধ্যে বিতর্কের ঝড় তুলেছে সেই ছবিটি। একাংশ ব্যবহারকারী তন্বীর বোল্ড লুকে আক্রমণ শানিয়েছে, আবার অনেকে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির সীমাবদ্ধতাকেও প্রশ্ন করেছে।
তন্বী যে শুধু নিজের মতামত প্রকাশ করতে পিছপা নন, তা দেখিয়েছেন স্পষ্ট ভাষায়। তাঁর এই ছবি পোস্ট করার পর কয়েকজন নেটিজেন তাঁর পোশাক নিয়ে আপত্তি জানিয়ে মন্তব্য করেছিলেন, “উন্মুক্ত বক্ষ বিভাজিকা, কোমরের অংশ কেন এভাবে দেখান? এমন পোশাক পরার প্রয়োজন কী?”
এই ধরনের নেতিবাচক মন্তব্য কিন্তু তন্বীর কাছে মোটেও গৃহীত হয়নি। বরং তিনি একটি সচেতন বার্তা দিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি লিখেছেন, “আমি এখন যে দেশে আছি, সেখানে বিকিনি পরা খুবই স্বাভাবিক বিষয়। মোটা বা রোগা—যারা কেউই নির্বিশেষে এই ধরনের পোশাক পরেন। কিন্তু আমাদের সমাজে এখনও বিকিনি বা মনোকিনি পরা নিয়ে অনেক হেনস্থা হয়, যা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। কিন্তু আমাদের আত্মবিশ্বাস হারাতে দেওয়া চলবে না। এই ভাবনাকে সামনে রেখে আমি নিজেকে এই পোশাকে সাজিয়েছি।”
তন্বীর বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, তিনি শুধু নিজের শরীর নিয়ে অহংকার করেননি, বরং সমাজের প্রচলিত চিন্তাধারার বিরুদ্ধে সাহসিকতার সঙ্গে দাঁড়িয়েছেন। সম্প্রতি মিমি চক্রবর্তী ও মিশমি দাসের বিকিনি পরা নিয়েও নানা রকমের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে, যেখানে অনেকেই খোলামেলা পোশাকের কারণে নিন্দার শিকার হয়েছেন। তন্বী তাঁদেরই সেই তালিকায় নাম লেখিয়েছেন, যাঁরা নিজেদের পছন্দের পোশাক নিয়ে সমাজের বিচারক মানসিকতার মুখোমুখি হচ্ছেন।
তন্বী বর্তমানে জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’-এ কাজ করছেন। সেখানে তিনি মূলত নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করেন। কিন্তু রিয়েল লাইফে তার এই সাহসী ও আত্মবিশ্বাসী অবস্থান অনেকের কাছে অনুপ্রেরণার জায়গা হয়ে উঠেছে।
তন্বীর মতো অভিনেত্রীরা জানাচ্ছেন, নিজের শরীর নিয়ে হীনমন্যতা বা অন্যের মতামতকে বাড়াবাড়ি করার দরকার নেই। প্রতিটি মানুষ তার নিজের মতো করে জীবনযাপন করার অধিকার রাখে। বিকিনি বা অন্য কোনো পোশাক পরার ক্ষেত্রে মানসিকতার এই অবাধ বিচার বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।
শেষ পর্যন্ত, তন্বীর জবাব আমাদের একটি শিক্ষা দেয়—নিজের প্রতি ভালোবাসা আর আত্মবিশ্বাসকে কখনও দমিয়ে রাখা যাবে না। সমাজ যদি বেঁধে দেয় বাঁধন, সেটাকে ভাঙতে সাহস রাখতে হয়। আর তন্বী সেই সাহস দেখিয়েছেন। তিনি বললেন, “আমি যেমন নিজেকে ভালোবাসি, তেমনই নিজেকে প্রকাশের স্বাধীনতাও চাই।”
সুতরাং, খোলামেলা পোশাক, বিশেষ করে বিকিনি নিয়ে যতই নীতিপুলিশি হোক না কেন, তন্বীর মতো মানুষদের সাহসী বার্তা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, জীবন নিজের মতো করে বাঁচতেই হবে। সমাজের বিচার থেকে নিজেকে বাঁচাতে হবে আত্মবিশ্বাস ও ভালোবাসার শক্তিতে।
১০ জনের মোহনবাগান মহমেডানকে হারিয়ে ডুরান্ডে জয়লাভ, নায়ক লিস্টন কোলাসো