বিএনপি নেতার তীব্র আক্রমণ
বাংলাদেশের রাজনীতিতে তুমুল উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও আইনজীবী এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর একটি তীব্র মন্তব্য। তিনি সম্প্রতি বলেছেন, “দরদ বেশি হলে শেখ হাসিনাকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বানান,” যা একে অপরকে আক্রমণের নতুন দিক উন্মোচন করেছে। এমন মন্তব্য বাংলাদেশে কূটনৈতিক রীতিনীতির বিরুদ্ধাচারণ হিসেবে দেখা হয়েছে, কারণ এটি ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
বাংলাদেশে চলমান হিন্দু নির্যাতনের প্রেক্ষাপটে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবসে সরব হন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি ও সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকার দৃঢ় অবস্থান নেবে। তবে তার এই বিবৃতি বিএনপি নেতার তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। বিএনপি নেতা দুলু বলেন, “শেখ হাসিনা ভারত থেকে যে প্রেম পান, তা দেখে মনে হয়, তাকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বানানো উচিত। মোদির এত দরদ কেন? এক গণহত্যাকারী স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার জন্য কেন এত ভালোবাসা?” তিনি আরও বলেন, “এটা কি প্রমাণিত হয়নি যে, শেখ হাসিনা ভারতকে ভোটের কৌশল শিখাতে পারেন, যেখানে রাতারাতি ভোট হয়, ভোটার ছাড়াই নির্বাচন জয়ী হয়?”
দুলুর এই মন্তব্যটি আরও তীব্র হয়ে ওঠে যখন তিনি দাবি করেন যে, শেখ হাসিনা এবং তার দল ভারতীয় মাটিতে বসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। ভারতীয় উগ্রবাদীরা বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
এদিকে, শেখ হাসিনা নিজেও রাজনীতির ময়দানে ফিরে এসেছেন। তিনি তার ছেলে সজীব ওয়াজেদকে মাধ্যমে এক বিবৃতি প্রকাশ করেছেন, যেখানে তিনি বলেন, “যারা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছে, তাদের প্রতিরোধ করা হবে।” তিনি ক্ষমতাচ্যুত সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন যে, তারা বাংলাদেশে সাধারণ মানুষের উপর অমানবিক নিপীড়ন চালাচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সব মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
বিএনপি নেতা দুলুর তীব্র আক্রমণ এবং হাসিনার এই বিবৃতি দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতির আরও জটিল করে তুলেছে। বর্তমানে সরকারের বিরুদ্ধে দেশে তীব্র সমালোচনা চলছে। নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না সরকারের বিরুদ্ধে কটাক্ষ করে বলেছেন, “বর্তমান সরকারের লোকেরা ভালো মানুষ হলেও তারা কাজের মানুষ নয়।” তিনি আরও বলেছেন, “এক চোরের দল বিদায়ের পর আরেক দল লুটপাট শুরু করেছে।”
এখন দেখার বিষয় হবে, বিএনপির এই ধরনের আক্রমণ এবং শেখ হাসিনার তীব্র প্রতিক্রিয়া দেশের রাজনীতির গতিপথে কী প্রভাব ফেলে।