বাম-রাম, সিপেমূল না বিজেমূল!
লক্ষ্য একটাই— ভোট। আর সেই ভোট দখলের লড়াইয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ঘুরেফিরে বার বার উঠে আসছে এক পরিচিত শব্দ— ‘সেটিং’। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল, বিজেপি ও সিপিএম— তিন শিবিরই কার্যত একই লাইনে হাঁটছে। অঙ্ক আলাদা, ভাষা আলাদা, কিন্তু প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করতে অস্ত্র একটাই— বোঝাপড়ার অভিযোগ।
এই রাজনীতির শুরু নতুন নয়। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই তৃণমূল ‘বাম-রাম’ তত্ত্ব সামনে আনে। তাদের যুক্তি, বামেদের ভোট কমার সঙ্গে সঙ্গে বিজেপির ভোট বেড়েছে— অর্থাৎ সিপিএমের ভোটই গিয়েছে বিজেপির ঝুলিতে। এই হিসাব দেখিয়েই তৃণমূল বলছে, বাম আর রাম আসলে একে অপরের প্রতিচ্ছবি।
অন্য দিকে সিপিএমের পাল্টা অভিযোগ— বিজেপি আর তৃণমূলের মধ্যেই রয়েছে আসল বোঝাপড়া। এক সময় অটলবিহারী বাজপেয়ীর মন্ত্রিসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রী হওয়া থেকে শুরু করে, রাজ্যের দুর্নীতির মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তের ‘সীমাবদ্ধতা’— সব মিলিয়ে তারা বহু দিন ধরেই ‘বিজেমূল’ তত্ত্বে বিশ্বাসী। যদিও শব্দবন্ধটি এখন প্রকাশ্যে কম ব্যবহার করা হচ্ছে, কিন্তু ‘সেটিং’-এর অভিযোগ থেকে সিপিএম সরে আসেনি।
এই দুইয়ের মাঝখানে বিজেপি। সর্বভারতীয় স্তরে তৃণমূল ও সিপিএম ‘ইন্ডিয়া’ জোটে একসঙ্গে থাকায় পদ্মশিবির নতুন করে সামনে আনছে ‘সিপেমূল’ তত্ত্ব। বিজেপির দাবি, ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে বহু আসনে সিপিএম বিজেপির ভোট কেটে তৃণমূলকে জিততে সাহায্য করেছে। দমদম, ব্যারাকপুরের মতো কেন্দ্রের উদাহরণ টেনে বিজেপি নেতারা বলছেন, বামেরা আদতে তৃণমূলের ‘ভোটকাটুয়া’।
তিন পক্ষের এই তত্ত্বযুদ্ধের নেপথ্যে রয়েছে আলাদা আলাদা রাজনৈতিক লক্ষ্য। তৃণমূল চায় বিজেপি-বিরোধী বামমনস্ক ভোটারদের নিজের দিকে টানতে। বিজেপি চাইছে বাম শিবিরে এখনও যে ‘হিন্দু’ ভোট রয়েছে, তা দখল করতে। আর সিপিএম ‘সেটিং’ তত্ত্বকে ঢাল করে অন্তত কিছু ভোট ফিরে পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে, যাতে শূন্যের গেরো কাটে।
রাজনীতিতে অবিশ্বাস ছড়ানোর এই কৌশল নতুন নয়। ইতিহাসে বার বার দেখা গিয়েছে, যখন দলগুলি মানুষের মনে নিজেদের প্রতি আস্থা গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়, তখনই প্রতিপক্ষের সঙ্গে গোপন বোঝাপড়ার অভিযোগ সামনে আনে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপকরা মনে করেন, এটি আসলে রাজনৈতিক দুর্বলতারই প্রকাশ।
সব মিলিয়ে প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে— বাংলার রাজনীতিতে কি সত্যিই সবাই সবার সঙ্গে ‘সেটিং’ করছে, না কি ভোটের ময়দানে এটাই সবচেয়ে সহজ অস্ত্র? উত্তর যাই হোক, এক কথা নিশ্চিত— ২০২৬-এর আগে এই ‘সেটিং’ তত্ত্ব আরও জোরালোভাবেই ফিরবে, বার বার, নতুন মোড়কে।
‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা