কাতারে ইজ়রায়েলি হামলা থেকে সরে দাঁড়ালেন ট্রাম্প, নেতানিয়াহুর ঘাড়ে দোষ চাপালেন

নেতানিয়াহুর ঘাড়ে দোষ চাপালেন কাতারের রাজধানী দোহায় ইজ়রায়েলি সেনার বিমান হামলা ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। প্যালেস্টাইনি সংগঠন হামাসকে নিশানা করে চালানো এই অভিযানের দায়ভার একেবারেই নিজের কাঁধে নিতে চান…

September 10, 2025
0 min read

নেতানিয়াহুর ঘাড়ে দোষ চাপালেন

কাতারের রাজধানী দোহায় ইজ়রায়েলি সেনার বিমান হামলা ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। প্যালেস্টাইনি সংগঠন হামাসকে নিশানা করে চালানো এই অভিযানের দায়ভার একেবারেই নিজের কাঁধে নিতে চান না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। উল্টে তিনি সাফ জানালেন, এ সিদ্ধান্ত ছিল ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—আমেরিকার প্রশাসন কি এ ব্যাপারে অন্ধকারে ছিল? নাকি দায় এড়ানোর কৌশল নিচ্ছেন ট্রাম্প?

হামলার পরই দোহা থেকে ক্ষোভের সুর শোনা যায়। কারণ, হঠাৎ করে চালানো এই বিমান হামলায় শহর জুড়ে আতঙ্ক ছড়ায়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয় আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা। অনেকেই ধরে নেন, আমেরিকার মদত ছাড়া এমন পদক্ষেপ সম্ভব নয়। কিন্তু ট্রাম্পের বক্তব্য ভিন্ন। তাঁর দাবি, ‘‘দোহায় হামাসের উপর আঘাত করার সিদ্ধান্ত নেতানিয়াহুর। আমি আগে থেকে জানতাম না।’’ একই সঙ্গে তিনি কাতারকে আমেরিকার ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলে উল্লেখ করে বলেন, দেশটি শান্তি ফেরাতে দীর্ঘ দিন ধরে কঠোর পরিশ্রম করছে।

হামলার নিন্দা করলেও ট্রাম্প আবার হামাসের বিরুদ্ধে তাঁর কঠোর অবস্থানও স্পষ্ট করেন। তাঁর মতে, গাজ়া থেকে হামাসকে নির্মূল করাই লক্ষ্য। সেই সঙ্গে তিনি বন্দিদের মুক্তির বিষয়েও অনড় থাকবেন। তবে কাতারে ইজ়রায়েলি হামলাকে তিনি সমর্থন করেন না বলেই প্রকাশ্যে ঘোষণা করেন। তাঁর বক্তব্য, ‘‘নেতানিয়াহুর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। উনিও শান্তি চান। আমি মনে করি এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ভবিষ্যতে শান্তির পথ খুলে দিতে পারে।’’

অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট দাবি করেন, ইজ়রায়েলের পরিকল্পনা সম্পর্কে মার্কিন সেনা প্রশাসন ট্রাম্পকে আগেই জানিয়েছিল। সেই কারণেই প্রেসিডেন্ট তাঁর বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফকে কাতার সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। যদিও কাতারের বিদেশ দফতর তা মানতে নারাজ। তাঁদের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি জানিয়ে দেন, ‘‘হামলার আগে কোনও সতর্কবার্তা পাইনি। দোহা যখন বিস্ফোরণের শব্দে কাঁপছে, তখনই মার্কিন কর্তার ফোন আসে।’’

এই বিরোধপূর্ণ বক্তব্য আরও বিভ্রান্তি তৈরি করেছে। ট্রাম্প নিজেও স্বীকার করেছেন যে কাতার প্রশাসনকে জানাতে দেরি হয়েছিল। তাঁর কথায়, ‘‘যখন নির্দেশ দেওয়া হয়, তখন অনেকটাই দেরি হয়ে গিয়েছিল।’’ তবে তিনি আশ্বস্ত করেন, ভবিষ্যতে আর এ ধরনের ঘটনা কাতারের মাটিতে ঘটবে না। সেই সঙ্গে ঘোষণা করেন, কাতারের রাজা এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে এবং শিগগিরই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি চূড়ান্ত করতে মার্কিন বিদেশমন্ত্রীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে, দোহায় ইজ়রায়েলি সেনার হামলা নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিল কূটনৈতিক পরিস্থিতি। একদিকে ট্রাম্প দায় চাপাচ্ছেন নেতানিয়াহুর ঘাড়ে, অন্যদিকে কাতার আমেরিকার দাবি মানতে অস্বীকার করছে। শান্তি ফেরানোর আশ্বাস মিললেও, এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে যে নতুন অনিশ্চয়তার ছায়া নেমেছে, তা স্পষ্ট।

ওড়িশায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির তল্লাশি, ১৩৯৬ কোটির প্রতারণা মামলায় উদ্ধার কোটি টাকার সম্পদ

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *