ইয়েমেনের হুথি বাহিনীর নতুন প্রত্যাঘাত
ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে ইয়েমেনের হুথি বাহিনী এক নতুন ধরণের হামলা চালিয়েছে। বুধবার দক্ষিণ ইজ়রায়েলের এইলাত শহরে হুথি সশস্ত্রগোষ্ঠীর ড্রোন আক্রমণে অন্তত ২০ জন গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এই হামলা ইজ়রায়েলের সঙ্গে ইয়েমেনের শিয়া বিদ্রোহী গোষ্ঠীর উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
হুথি বাহিনী ২০২৩ সালের অক্টোবরেই গাজ়ায় সংঘর্ষ শুরুর পর ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল। এরপর থেকে তারা ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। গত অগস্টে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় ইজ়রায়েলি হামলায় হুথি সরকারের প্রধানমন্ত্রী আহমেদ গালিব আল-রাহাবি নিহত হন। সেই ঘটনার পর থেকেই হুথি বাহিনী আরও তৎপর হয়ে উঠেছে।
হুথি বাহিনী ইরানের সহযোগিতায় শক্তি বৃদ্ধি করেছে। এছাড়া, পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সেনার সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টিকম) এই বছর থেকেই হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে। সৌদি আরবের মদতপুষ্ট ইয়েমেনের সুন্নি মুসলিম সরকারও শিয়া বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে। তবে রাজধানী সানা এবং উত্তর ইয়েমেনের কিছু অংশ এখনও হুথিদের নিয়ন্ত্রণে, এবং সেখান থেকেই তারা ইজ়রায়েল ও অন্যান্য লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে।
হুথিদের এই আক্রমণকে ইরানের নেতৃত্বাধীন ‘যৌথ প্রতিরোধমূলক কর্মসূচি’ বা অ্যাক্সিস অফ রেজ়িস্ট্যান্স-এর অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই জোটে গাজ়ার হামাস, লেবাননের হিজ়বুল্লা এবং ইরাকের ‘পপুলার মোবিলাইজ়েশন ফোর্স’ (এমপিএফ) রয়েছে। হুথি বাহিনী এই জোটের সঙ্গে মিলে ইজ়রায়েলের ওপর নিয়মিত আক্রমণ চালাচ্ছে।
গত বছরের ডিসেম্বরে হুথি বাহিনী ইজ়রায়েলের লক্ষ্যবস্তুতে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘প্যালেস্টাইন-২’ ব্যবহার করেছিল। এর পর থেকে ইজ়রায়েলও ইয়েমেনে হামলা চালাচ্ছে। তবে হুথি বাহিনী ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে যে তারা তেল আভিভের সঙ্গে কোনো সমঝোতার পথে হাঁটবে না। তারা বলেছে, ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান চলবে এবং প্রত্যাঘাত অব্যাহত থাকবে।
এই ড্রোন হামলার প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সতর্ক। হুথি বাহিনীর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা দক্ষিণ ইজ়রায়েলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে তীব্রভাবে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। আহতদের চিকিৎসা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিকে নজর দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
এভাবে, ইজ়রায়েল এবং ইয়েমেনের হুথি বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। শুধুমাত্র সামরিক দিকেই নয়, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে এই সংঘর্ষের প্রভাবও গভীর। ইজ়রায়েল ও ইয়েমেনের মধ্যে এই উত্তেজনা স্থায়ী সমাধানের পথে কতটা বাঁধা সৃষ্টি করবে, তা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বিশেষ নজরে রাখছেন।
এই নতুন হামলা ইয়েমেনের হুথি বাহিনীর ইজ়রায়েলের প্রতি প্রতিরোধ এবং আক্রমণের সংকল্পকে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।
ব্যালকনির উপর উড়ালপুল! নাগপুরের সেতু স্মরণ করাচ্ছে ভোপালের ৯০ ডিগ্রি রেলসেতুর ঘটনার কথা