‘বাঁধ দিলেই উড়িয়ে দেব!’ — আমেরিকায় দাঁড়িয়ে ভারতকে ফের পরমাণু হুমকি পাকিস্তানি সেনাপ্রধানের

আমেরিকায় দাঁড়িয়ে ভারতকে ফের পরমাণু হুমকি পাকিস্তানি সেনাপ্রধানের! ভারতের সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিতের পর চার মাস কাটতে না কাটতেই, ফের উস্কানিমূলক এবং আগ্রাসী সুরে কথা বললেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল…

August 12, 2025
1 min read

আমেরিকায় দাঁড়িয়ে ভারতকে ফের পরমাণু হুমকি পাকিস্তানি সেনাপ্রধানের!

ভারতের সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিতের পর চার মাস কাটতে না কাটতেই, ফের উস্কানিমূলক এবং আগ্রাসী সুরে কথা বললেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। এই বার তিনি শুধু রাজনৈতিক নয়, সরাসরি পরমাণু হামলার হুমকি দিয়েছেন ভারতকে। তাঁর বক্তব্য, “ভারত যদি সিন্ধু নদীর ওপর বাঁধ তৈরি করে, তবে আমরা ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ে সব গুঁড়িয়ে দেব।”

এই মন্তব্য তিনি করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার টাম্পায়, এক বেসরকারি নৈশভোজে অংশ নিয়ে, যেখানে গোপনীয়তা বজায় থাকলেও পরে বিভিন্ন সূত্র মারফত সেই কথা প্রকাশ্যে এসেছে।

সেনাপ্রধানের হুমকি: পরমাণু অস্ত্রের ছায়ায় ‘জল-যুদ্ধ’

সেখানে মুনির বলেন, “সিন্ধু ভারতের পৈতৃক সম্পত্তি নয়। ওরা যতই বাঁধ তৈরি করুক, আমাদের হাতে ক্ষেপণাস্ত্রের কোনো অভাব নেই।” তিনি তুলনা টেনে বলেন, “ভারত মার্সেডিজ গাড়ির মতো, আর পাকিস্তান নুড়িভর্তি ট্রাক— যদি ধাক্কা লাগে, কার ক্ষতি বেশি হবে?” এমন একটা মন্তব্য, যা কূটনৈতিক সৌজন্যের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

সিন্ধু চুক্তি ও জলের রাজনীতি

স্মরণীয়, এ বছরের এপ্রিল মাসে কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় পর্যটক-সহ ২৬ জনের মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার পরে ভারত ৬৫ বছরের পুরনো সিন্ধু জল চুক্তি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখে। এই চুক্তির আওতায় সিন্ধু ও তার উপনদীর জল কীভাবে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ভাগ হবে, তা নির্ধারিত ছিল।

পাকিস্তানের মূল উদ্বেগ—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নদী (সিন্ধু, বিতস্তা, চন্দ্রভাগা) দেশটির কৃষিকাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের বাঁধ নির্মাণ যদি সত্যিই শুরু হয়, তবে পাকিস্তানে জলসঙ্কট ভয়াবহ হতে পারে। সেই আশঙ্কাই মুনিরের মতো নেতাদের এমন চরম হুঁশিয়ারির জন্ম দিচ্ছে।

ভারতের জবাব: মাথা নোয়াবে না নয়াদিল্লি

তবে নয়াদিল্লি পাকিস্তানের এই ‘আণবিক ব্ল্যাকমেল’-কে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক বিবৃতিতে বলেন,
“আমরা পরমাণু হুমকির সামনে কখনও মাথা নোয়াব না। পাকিস্তান তাদের পরমাণু অস্ত্রকে ব্যবসার প্রধান চালিকাশক্তি করে তুলেছে।”
তিনি আরও জানান, এমন মন্তব্য একটি তৃতীয়, বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের মাটি থেকে করা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং দুঃখজনক।

জল ব্যবস্থাপনায় ভারতের ‘গেম-চেঞ্জার’ পদক্ষেপ

সূত্রের খবর অনুযায়ী, নয়াদিল্লি ইতিমধ্যেই সিন্ধু অববাহিকার নদীগুলিকে সংযোগকারী একটি সম্ভাব্য খাল প্রকল্পের কাজ শুরু করেছে। এর মাধ্যমে বিপাশা, শতদ্রু এবং চন্দ্রভাগার জল দেশের পঞ্জাব, হরিয়ানা ও রাজস্থানে সরিয়ে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। জলশক্তি মন্ত্রকের দাবি, এই পদক্ষেপ ‘সিন্ধু চুক্তি’-র কোনও লঙ্ঘন নয়, বরং ভারত তার ন্যায্য অধিকার অনুযায়ীই জল ব্যবহার করছে।

উপসংহার: হুমকির ভাষায় নয়, সমঝোতার পথে সমাধান

সেনা-প্রধানের এই বক্তব্য স্পষ্টতই রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ানোর চেষ্টা। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানের এই ধরনের হুমকি দেশের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। অন্য দিকে, ভারত এখন ‘জল’কে নিজের অর্থনীতির চাবিকাঠি করতে চায়— পরমাণু নয়, পরিকল্পনা দিয়েই জবাব দিতে প্রস্তুত নয়াদিল্লি।

কয়েক সপ্তাহ ধরে নতুন অভ্যাস শুরু করেছেন সোহা আলি খান, শরীর ভালো রাখতে খালি পেটে কী খান তিনি?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *