মোদীর ব্রাজ়িল সফরের মাঝেই হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের!
ব্রিক্স সম্মেলনের মঞ্চে যখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিচ্ছেন এবং ইরানে সামরিক হামলার বিরোধিতা জানাচ্ছেন, ঠিক সেই সময়ই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়ে দিলেন নতুন করনীতির সিদ্ধান্ত। সোমবার সকালে (ভারতীয় সময়) তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, যে সব দেশ ব্রিক্স-এর ‘আমেরিকাবিরোধী’ নীতিতে যুক্ত থাকবে, তাদের আমেরিকান পণ্যে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত কর দিতে হবে। তাঁর এই ঘোষণায় বিশ্ব কূটনৈতিক মহলে উত্তেজনা তুঙ্গে।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, সোমবার (আমেরিকার ইস্টার্ন টাইম অনুযায়ী দুপুর ১২টা) থেকেই বিভিন্ন দেশের কাছে পৌঁছবে শুল্ক সংক্রান্ত নথিপত্র বা বাণিজ্যচুক্তির খসড়া। তাঁর দাবি অনুযায়ী, কোনও দেশের জন্য থাকছে নতুন চুক্তি, আবার কারও জন্য থাকছে সরাসরি শুল্কের চিঠি। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লেখেন, “ব্রিক্স-এর আমেরিকাবিরোধী অবস্থানে যদি কোনও দেশ যুক্ত হয়, তাদের উপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ কর বসবে— কোনও ব্যতিক্রম হবে না।”
মোদীর বক্তব্য, ব্রিক্স-এর বিবৃতি এবং ট্রাম্পের পাল্টা কৌশল
ব্রিক্স সম্মেলনের উদ্দেশ্যে এখন ব্রাজ়িলের রিও ডি জেনেইরো শহরে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানে তিনি বলেন, “সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে নিন্দা করা উচিত সকলের, সেটা নিজের সুবিধা অনুযায়ী হওয়া চলবে না। ভারত সন্ত্রাসের শিকার, আর পাকিস্তান তার মদতদাতা।” তাঁর বক্তব্যের পরে ব্রিক্স জোটের পক্ষ থেকে এক যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়, যেখানে ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে হওয়া জঙ্গি হামলার তীব্র নিন্দা করা হয় এবং সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতি গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
একইসঙ্গে, ওই ঘোষণাপত্রে ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযানেরও কড়া সমালোচনা করা হয়েছে, যেটিকে রাষ্ট্রসংঘের সনদের লঙ্ঘন বলেই ব্যাখ্যা করেছে ব্রিক্স দেশগুলি। তাতে বলা হয়, “একতরফা শুল্কনীতি বা বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা বিশ্ব অর্থনীতিকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেয়।” যদিও আমেরিকার নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি, তবে ইঙ্গিত যে ট্রাম্পের দিকেই, তা স্পষ্ট।
বাণিজ্যচুক্তির টানাপড়েন ও ভারতের চিন্তা
২০২৫ সালে ক্ষমতায় ফিরে ট্রাম্প ইতিমধ্যেই ভারত-সহ একাধিক দেশের উপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করেছেন। ভারতের ক্ষেত্রে এই শুল্কের পরিমাণ ২৬ শতাংশ। যদিও তিন মাসের জন্য তা স্থগিত রাখা হয়েছিল এবং সেই মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৯ জুলাই। এই সময়ের মধ্যে নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোনও স্থায়ী বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি।
এর মধ্যেই ট্রাম্পের এই ঘোষণা দিল্লির কূটনৈতিক মহলের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে। কারণ, ভারত যেমন ব্রিক্স-এর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য, তেমনই আবার আমেরিকার সঙ্গে তার কৌশলগত বাণিজ্যিক সম্পর্কও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শেষ কথা
ট্রাম্পের নতুন করনীতির হুঁশিয়ারি ব্রিক্স-কে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাল বলেই মনে করছে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল। বিশ্ব বাণিজ্যে কী প্রভাব পড়বে এই পদক্ষেপে, তা এখন সময়ই বলবে। তবে আপাতত মোদীর ব্রাজ়িল সফর এবং ব্রিক্স-এর ঐক্যবদ্ধ বার্তার প্রেক্ষিতে ট্রাম্পের পাল্টা অবস্থান বিশ্বরাজনীতিতে উত্তেজনার পারদ আরও চড়িয়ে দিল।