বয়স্কদের ‘স্ক্রিন আসক্তি’ বাড়ছে!
সকালের প্রাতঃভ্রমণ, বিকেলের আড্ডা, বই পড়া বা তাস খেলা—এক সময় বয়স্কদের অবসর কাটানোর মাধ্যম ছিল এমনই সৃষ্টিশীল ও আন্তরিক অভ্যাস। কিন্তু আজ? পরিবর্তন এসেছে অভ্যাসে, বদলে গেছে জীবনধারা। এখন মোবাইল আর টিভিই হয়ে উঠেছে সঙ্গী, অথচ এই ‘সঙ্গী’ই প্রতিদিন ডেকে আনছে একের পর এক শারীরিক ও মানসিক সমস্যা।
মোবাইলই একাকিত্বের সঙ্গী?
বহু বয়স্ক ব্যক্তি, যাঁদের সন্তান বিদেশে বা অন্য শহরে কর্মরত, তাঁদের সময় কাটানোর প্রধান উপায় হয়ে উঠেছে ফোনের স্ক্রিন। ওটিটি, ইউটিউব, ফেসবুক, রিল—এসব না দেখলে যেন রাতে ঘুমই আসে না! শহরের নানা পরিবারে দেখা যাচ্ছে, ঠাকুরমা-ঠাকুরদার স্ক্রিন টাইম পরিবারের টিনএজারদেরও ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, মোবাইল বা টিভির প্রতি এই আসক্তির মূল কারণ একাকিত্ব। বয়স্কদের অনেকেই বাড়িতে একা থাকেন, সামাজিক মেলামেশার সুযোগ কম, ফলে তারা ভার্চুয়াল দুনিয়াতেই হারিয়ে যাচ্ছেন।
কী কী সমস্যা ডেকে আনছে এই আসক্তি?
১. অনিদ্রা ও ঘুমের সমস্যা:
দিনের পর দিন ঘুমের ঠিক আগে মোবাইল স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকা অনিদ্রা ডেকে আনছে। রাতভর ঘুম না হলে পরের দিন ক্লান্তি, মনঃসংযোগের অভাব, এবং মানসিক উদ্বেগ বাড়ে।
২. চোখের সমস্যা:
ডিজিটাল স্ক্রিনের আলো চোখের উপর প্রভাব ফেলে। চোখ শুকিয়ে যাওয়া, জ্বালাভাব, এমনকি রেটিনার কোষের শক্তি কমে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা যাচ্ছে।
৩. মনঃসংযোগ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সমস্যা:
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে। তার উপর মোবাইলে একসঙ্গে অনেক বিষয় দেখার অভ্যাস (মাল্টিটাস্কিং) মনোযোগ নষ্ট করছে।
৪. পারিবারিক টানাপোড়েন:
বয়সভিত্তিক ভূমিকা বদলে গিয়ে অনেক পরিবারেই দেখা যাচ্ছে মা-বাবারা সারাক্ষণ স্ক্রিনে ডুবে, যা সম্পর্কের মধ্যেও দূরত্ব তৈরি করছে।
সমাধান কী?
চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ তনুশ্রী চক্রবর্তী বলেন, “স্ক্রিন টাইম কমাতে হলে একেবারে শুরু করতে হবে পরিবার থেকেই।” কিছু কার্যকর উপায়:
- নিয়ম করে স্ক্রিন টাইম নির্ধারণ করুন। দিনে ২-৩ ঘণ্টার বেশি যেন না হয়।
- প্রতি ৩০-৪০ মিনিট পর পর স্ক্রিন থেকে বিরতি নিন।
- রাত্রে ঘুমের আগে অন্তত ১ ঘণ্টা মোবাইল বন্ধ রাখার অভ্যাস গড়ুন।
- বই পড়া, বাগান করা, হস্তশিল্পের মতো বিকল্প আগ্রহ গড়ে তুলুন।
- পরিবারের ছোটদের সঙ্গে সময় কাটান।
শেষ কথা
মোবাইল বা টিভি আমাদের বিনোদনের মাধ্যম ঠিকই, কিন্তু সেই বিনোদন যেন নির্ভরতার ফাঁদে পরিণত না হয়। বয়স্কদের একাকিত্ব দূর করতে শুধু স্ক্রিন নয়, প্রয়োজন আরও মানবিক সংযোগ, পারিবারিক আন্তরিকতা এবং জীবনমুখী বিকল্প। অভ্যাস বদলে সুস্থ থাকাই হোক সবার লক্ষ্য।
ক্যাস্টর অয়েল চুলের জন্য চমৎকার, তবে কীভাবে ব্যবহার করবেন? জানুন ৫ সহজ উপায়