অনুপম-প্রস্মিতার বৈশাখি দিনলিপি !
পয়লা বৈশাখ মানেই নতুন বছরের শুরু, আর সেই শুরুটা আরও স্পেশাল হয়ে ওঠে যদি থাকে সাহিত্য, গান আর ভালোবাসার পরশ। শিল্পী দম্পতি অনুপম রায় ও প্রস্মিতা পাল–এই শহরের অন্যতম প্রাণবন্ত জুটি। বিয়ের পর দ্বিতীয় নববর্ষে, কাজের ব্যস্ততার মাঝেও একটুখানি সময় নিজেদের জন্য রেখেছিলেন তাঁরা। আর সেই সময়টুকুতে আনন্দবাজারের ক্যামেরা গিয়ে ধরা দিল তাঁদের ঘরকন্নায়।
সাধারণ বহুতল, গেটে নেই কোনও গার্ড, চট করে বুঝে ওঠা মুশকিল যে এই ফ্ল্যাটেই থাকেন জনপ্রিয় গায়ক-সুরকার অনুপম রায়। তবে দরজা খুললেই চোখে পড়ে সাহিত্যের ছোঁয়া—ফ্ল্যাট নম্বর ‘2B’, আর নিচে লেখা “or not to be”—শেক্সপিয়রের হ্যামলেটের বিখ্যাত উক্তি!
বাঙালিয়ানায় ঘরজমি সাজানো
দোতলার ফ্ল্যাটে ঢুকতেই চোখে পড়ে এক গুচ্ছ শিল্পের ছোঁয়া। যামিনী রায়ের ছবির প্রতিলিপি, লন্ডন স্টেশন ঘড়ি, আর দেওয়ালে ছড়িয়ে থাকা বইয়ের রাজ্য। অনুপম জানান, ‘‘বাইরের কাউকে দিয়ে নয়, নিজেরাই যখন যেভাবে ইচ্ছা, তেমনভাবে ঘর সাজাই।’’
প্রস্মিতা শুধু গানেই নয়, আঁকাতেও দক্ষ। বসার ঘরের একটি ক্যানভাসে তাঁর আঁকা ছবি, আর অন্যটিতে অনুপমের বাবার হাতের ছোঁয়া। ঘরের কোণায় সুরের ঘর—যেখানে রয়েছে গিটার, ক্যাসেট আর মিউজিক প্র্যাকটিসের জিনিসপত্র।
সাজে-সাজানোয় নববর্ষের আমেজ
সেই দিনের সাজও ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রস্মিতা পরেছিলেন ঘিয়েরঙা হালকা শাড়ি, হাতে চুড়ি, কানে হাতে বোনা দুল। অনুপমের পরনে ছিল সবুজ পাঞ্জাবি। আর বছর শুরুর দিন সাদা লালপাড় গরদের শাড়িতে প্রস্মিতা হয়ে উঠলেন যেন ক্লাসিক বাঙালি বউ, পাশে ধুতি-পাঞ্জাবিতে অনুপম।
বই আর কথোপকথনের সংসার
বইই যেন অনুপমের প্রথম প্রেম। বাড়ির বইয়ের তাক ভর্তি—জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী, শরৎচন্দ্র, মুরাকামি থেকে স্টিফেন হকিংস পর্যন্ত সবই আছে সেখানে। প্রস্মিতা বলেন, ‘‘ওর সময় কাটে বইয়ের সামনে, আমার কাটে ল্যাপটপে কাজ করে। তবে খাওয়াটা আমরা একসঙ্গেই করার চেষ্টা করি।’’
খাবার-ঘরে দালির ছোঁয়া
ডাইনিং টেবিলের উপরে ঝুলছে স্যালভাদর দালির চমকপ্রদ পেইন্টিং। আলো, সাজসজ্জা আর ঘরের প্রতিটা কোণ যেন শিল্পের ছন্দে বাঁধা। রান্নাঘরেও প্রস্মিতা নিজে হাতে চা বানিয়ে অতিথি আপ্যায়নে ব্যস্ত। ফ্রিজে নানা দেশের ম্যাগনেট—ভ্রমণপিপাসু এই দম্পতির স্মৃতিচিহ্ন।
পেছনের গল্পেও ছোঁয়া বাঙালির নিজস্বতায়
বেঙ্গালুরুর চাকরি জীবন, অফিসে পাঞ্জাবি পরে যাওয়া, শহরের বাইরে বাঙালিত্ব প্রমাণের চেষ্টা—সেসব গল্প আজও জিইয়ে রাখেন অনুপম। বলেই ফেলেন, ‘‘কলকাতায় থাকলে বাঙালিয়ানা নিয়ে টানাপোড়েন নেই, তবে বেঙ্গালুরুতে সেই অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইটাও দারুণ ছিল!’’
শেষমেশ একটাই কথা—এই ঘর শুধু তারকাদের আবাস নয়, এটা ভালোবাসা, শিল্প, সাহিত্য আর একটুকরো শান্তির আশ্রয়।
📝 এক নজরে: অনুপম-প্রস্মিতা সংসার
| বিষয় | বিস্তারিত |
|---|---|
| বাসভবন | দক্ষিণ কলকাতার এক নিরিবিলি ফ্ল্যাট |
| বৈশাখের সাজ | প্রস্মিতা: গরদের শাড়ি, অনুপম: ধুতি-পাঞ্জাবি |
| প্রিয় কোণ | গানের ঘর ও লাইব্রেরি |
| ঘরের থিম | সাহিত্য-সংস্কৃতি-মিনিমালিজম |
| পছন্দ | একসঙ্গে খাওয়া, ঘর সাজানো, বই পড়া ও চা আড্ডা |
📌 এ সংসার দেখলে বোঝা যায়, সত্যিকারের শিল্প ভালোবাসা শুধু মঞ্চেই নয়, সংসারেও সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ে—শব্দে, ছবিতে, আলোয় আর চোখে পড়া এক একটি মুহূর্তে।
মুর্শিদাবাদে ধীরে ধীরে স্বস্তির হাওয়া, ঘরছাড়াদের ফেরাতে প্রশাসনের বিশেষ উদ্যোগ