প্রাতরাশের নিমন্ত্রণ ঘিরে নতুন উত্তাপ, রাষ্ট্রপতিকে না বলল তৃণমূল

রাষ্ট্রপতিকে না বলল তৃণমূল! কেন্দ্র–রাজ্য টানাপড়েনের আবহে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে ঘিরে বিতর্ক যেন থামছেই না। উত্তরবঙ্গ সফর নিয়ে যে অস্বস্তি এবং রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছিল, তারই রেশ এ বার পৌঁছে…

March 14, 2026
1 min read

রাষ্ট্রপতিকে না বলল তৃণমূল!

কেন্দ্র–রাজ্য টানাপড়েনের আবহে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে ঘিরে বিতর্ক যেন থামছেই না। উত্তরবঙ্গ সফর নিয়ে যে অস্বস্তি এবং রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছিল, তারই রেশ এ বার পৌঁছে গেল রাষ্ট্রপতি ভবনের প্রাতরাশের আমন্ত্রণ পর্যন্ত। আগামী সোমবার সব রাজনৈতিক দলের সাংসদদের নিয়ে রাষ্ট্রপতি ভবনে এক প্রাতরাশের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে রাষ্ট্রপতি নিজে উপস্থিত থাকার কথা। কিন্তু সেই আসরে যোগ দেবে না তৃণমূল কংগ্রেস।

শুক্রবার রাষ্ট্রপতি ভবনকে তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের আমন্ত্রিত সাংসদেরা ওই কর্মসূচিতে থাকবেন না। দলের তরফে যে কারণ জানানো হয়েছে, তাও রাজনৈতিক মহলে আলাদা করে নজর কেড়েছে। তৃণমূল বলেছে, এখন রমজান মাস চলছে। এই সময়ে দেশের বহু মুসলিম মানুষ দিনভর রোজা পালন করেন। সেই ধর্মীয় অনুভূতির কথা মাথায় রেখেই তারা রাষ্ট্রপতির ডাকা প্রাতরাশের অনুষ্ঠানে যোগ দেবে না। এই সিদ্ধান্তকে তাই দল শুধু রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে নয়, সংবেদনশীলতার প্রশ্ন হিসেবেও তুলে ধরতে চাইছে।

এই ঘটনাকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই, কারণ এর ঠিক আগেই আর-একটি পর্ব নিয়ে তৃণমূল এবং রাষ্ট্রপতি ভবনের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আদিবাসী সমাজের জন্য কী কী কাজ হয়েছে, সেই বিষয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে বিস্তারিত জানাতে চেয়েছিলেন তৃণমূলের সাংসদেরা। কিন্তু সেই আবেদন গ্রহণ করা হয়নি। তার পরেই রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণে তৃণমূলের না-যাওয়ার সিদ্ধান্ত, স্বাভাবিক ভাবেই বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে।

পুরো ঘটনার পটভূমিতে রয়েছে রাষ্ট্রপতির সাম্প্রতিক উত্তরবঙ্গ সফর। আন্তর্জাতিক আদিবাসী কনফারেন্সে যোগ দিতে পশ্চিমবঙ্গে এসে দ্রৌপদী মুর্মুর অনুষ্ঠানস্থল বদলানো নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। নিরাপত্তার কারণে শিলিগুড়ির বিধাননগরের বদলে বাগডোগরার কাছে গোঁসাইপুরে অনুষ্ঠান করার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এই পরিবর্তন নিয়ে রাষ্ট্রপতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পরে তিনি বিধাননগরে পৌঁছে রাজ্য প্রশাসন ও মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কেন মুখ্যমন্ত্রী বা তাঁর মন্ত্রিসভার কোনও সদস্য বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাতে গেলেন না, সেই প্রশ্নও সামনে আনেন। এর পর বিজেপি তৃণমূলের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতিকে অপমান করার অভিযোগ তোলে, এবং বিষয়টি দ্রুত বড় রাজনৈতিক সংঘাতে পরিণত হয়।

অন্য দিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা দাবি করেন, রাষ্ট্রপতির সফরে রাজ্য সরকারের তরফে কোনও প্রোটোকল ভাঙা হয়নি। তাঁর অভিযোগ ছিল, এই ইস্যুকে রাজনৈতিক ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি দলকে নির্দেশ দেন, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে রাজ্যের তফসিলি জাতি, জনজাতি ও পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের উন্নয়নে সরকারের পদক্ষেপগুলি তুলে ধরতে। কিন্তু সেই পথও বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর, রাষ্ট্রপতির প্রাতরাশের নিমন্ত্রণ ফিরিয়ে দিয়ে তৃণমূল যেন নিজের রাজনৈতিক অবস্থান আরও স্পষ্ট করল।

সব মিলিয়ে, একটি প্রাতরাশের অনুষ্ঠান এখন আর শুধু সৌজন্যের বিষয় নয়। তা পরিণত হয়েছে রাজনৈতিক বার্তা, পারস্পরিক অস্বস্তি এবং কেন্দ্র–রাজ্য সম্পর্কের নতুন এক প্রতীকে। সোমবারের অনুপস্থিতি তাই নিছক প্রোটোকলের ঘটনা নয়, বরং বৃহত্তর রাজনৈতিক দ্বন্দ্বেরই আর-একটি প্রকাশ।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *