রাজনীতির মাঠে নামলেন লাল সাহেবের মেয়ে আলিফা!
কর্পোরেট দুনিয়ার কাঁচচকচে কনফারেন্স রুম ছেড়ে ঘামে ভেজা মাটির পথে পা রাখলেন এক তরুণী—নাম আলিফা আহমেদ। পেশায় প্রকৌশলী, কর্পোরেট সাফল্যের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা এই নারী এবার পা রাখছেন সরাসরি রাজনীতির ময়দানে। আর এই পদক্ষেপে অনেকেই দেখছেন আর এক মহুয়া মৈত্রের ছায়া।
বাবার রাজপথে মেয়ের নতুন যাত্রা
আলিফা নদিয়ার প্রয়াত বিধায়ক নাসিরুদ্দিন আহমেদ—অর্থাৎ ‘লাল সাহেব’-এর মেয়ে। বাবার মৃত্যুর পরে তৃণমূল কংগ্রেস তাঁকে কালীগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করেছে। বাবা যেমন আইনজীবী এবং রাজনীতিক ছিলেন, তেমনই মেয়ে একজন দক্ষ প্রযুক্তিবিদ। বর্তমানে তিনি টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেসে (TCS) ‘প্রজেক্ট ম্যানেজার’ পদে কর্মরত।
কর্পোরেট থেকে রাজনীতিতে: মিল মহুয়ার সঙ্গে
তাঁর এই রূপান্তর অনেকের মনেই তুলনা টেনেছে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রর সঙ্গে। মহুয়া ছিলেন একটি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ব্যাংকের কর্মী। কর্পোরেট জীবন ত্যাগ করে রাজনীতিতে এসে হয়েছেন লোকপ্রিয় মুখ। আলিফার পথও অনেকটা সেইরকম—তবে প্রতিটি ধাপই তাঁর কাছে এক নতুন চ্যালেঞ্জ।
আলিফা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “আমি রাজনীতিতে নতুন হতে পারি, কিন্তু রাজনীতি আমার নতুন নয়। বাবা হাতে ধরে অনেক কিছু শিখিয়েছেন।” ২০১১ সাল থেকে তিনি বাবার সঙ্গে ভোট পরিচালনায় যুক্ত। এমনকি ২০১৮ সালে নদিয়া জেলা পরিষদে জিতে তৃণমূলের হয়ে কাজও করেছেন।
দায়িত্বের ভার, আত্মবিশ্বাসের উচ্চতা
প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার পরেই আলিফা জানিয়েছেন, “দল যে আমাকে এত বড় দায়িত্ব দেবে ভাবিনি। তবে দায়িত্ব নিতে আমি প্রস্তুত, জয় নিয়েও আত্মবিশ্বাসী।” যিনি এত দিন ডিল করতেন ক্লায়েন্ট আর ডেলিভারির মাঝে, তিনিই এখন রাস্তায় ঘুরে মানুষের দরজায় কড়া নাড়ছেন। কর্মজীবনের অধিকাংশ সময় কাটলেও কলকাতায়, তিনি জানিয়ে দিয়েছেন—ভবিষ্যৎ এখন কালীগঞ্জেই।
রাজনীতির আসল পাঠ এখন মাঠে
এক সময় যেখানে তাঁর কাজ ছিল সংখ্যায়, গ্রাফে, পরিকল্পনায়—এখন সেখানে দরকার জনসংযোগ, সহানুভূতি ও সেবামূলক দৃষ্টিভঙ্গি। এক তৃণমূল নেতার মন্তব্য, “আলিফা জানেন, গ্রামের মানুষদের দুঃখ-সুখ কর্পোরেট মেট্রিক্সে মাপা যায় না। মাঠে নামতে হবে, বুঝতে হবে। সেটাই তাঁর নতুন প্রজেক্ট।”
ব্যক্তিগত জীবন ও শিকড়ের টান
আলিফার স্বামী ডা. তাজিরুল ইসলাম, বর্ধমানের কেতুগ্রামের বাসিন্দা। তাঁদের দুই ছেলে রয়েছে—ইহান ও আরিয়ান। পরিবারসহ থাকেন কলকাতায়, তবে রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনের জন্য এখন পুরোদমে মনোযোগ দিচ্ছেন কালীগঞ্জে। তাঁর ভাই সাহিল আহমেদও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে কর্মরত।
দলীয় আশ্বাস ও জনতার প্রত্যাশা
তৃণমূলের মতে, আলিফা হচ্ছেন সেই নতুন প্রজন্মের মুখ, যারা কর্মজগতের শৃঙ্খলা ও দক্ষতা নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত। দলের এক শীর্ষ নেতা বলেন, “মহুয়া পথ দেখিয়েছেন, এখন আলিফার সময় ‘আস্থার সেতু’ গড়ার। শুধু কর্পোরেট স্মার্টনেস দিয়ে নয়, দরকার মানুষের পাশে থেকে লড়ার মন।”
নদিয়ার রাজনীতিতে আগামী ১৯ জুন আলিফার জন্য হবে এক বড় পরীক্ষা। এখন দেখার, কর্পোরেট থেকে আসা এই প্রার্থী রাজনীতির মাঠে কতটা জায়গা করে নিতে পারেন।
কবিতা না কি যুদ্ধ? নুসরতের রহস্যঘেরা পোস্টে কি সম্পর্ক পুনর্মিলনের ইঙ্গিত?