৩৩ হাজার পাতার গোপন নথি ঘিরে তোলপাড় আমেরিকা
কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনের রহস্যময় অতীত এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে বরাবরই জল্পনা ছিল চরমে। অবশেষে সেই আলোচিত নথির একাংশ প্রকাশ্যে আনল মার্কিন কংগ্রেসের হাউস ওভারসাইট কমিটি। ভারতীয় সময় অনুযায়ী মঙ্গলবার রাতে প্রকাশিত হয়েছে মোট ৩৩,২৯৫ পাতার একটি বিশাল ডিজিটাল ফাইল, যাতে রয়েছে এপস্টিনের যাবতীয় ফ্লাইট রেকর্ড, জেলের ভিতরের সিসিটিভি ফুটেজ, আদালতের নথি, অডিয়ো রেকর্ডিং এবং ইমেল সংক্রান্ত তথ্য।
কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কমার জানিয়েছেন, এই পদক্ষেপ মূলত স্বচ্ছতার জন্য। তাঁর কথায়, “আমার মনে হয় নথিগুলিতে নতুন কিছু নেই। তবে এই মামলার সব তথ্য জনগণের জানা উচিত। তাই আমরা এগুলি অনলাইনে প্রকাশ করেছি।” প্রকাশিত নথির মধ্যে রয়েছে ২০১৯ সালের ৯ অগস্ট রাত থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত নিউ ইয়র্কের জেলে এপস্টিনের সেলের বাইরের ১৩ ঘণ্টারও বেশি সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ। এই সময়ের মধ্যেই এপস্টিনের মৃত্যু হয়, যা নিয়ে এখনও বিতর্ক থামেনি।
যদিও এই বিশাল নথিপত্রে কারও নাম আলাদা করে উল্লেখ করা হয়নি। মার্কিন বিচারবিভাগ ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে, এপস্টিনের সঙ্গে যোগাযোগ থাকা বহু প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের নাম থাকলেও কোনও ‘গ্রাহক তালিকা’ মেলেনি। এ বছরের জুলাইয়ে বিচারবিভাগ পরিষ্কার জানায়, প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-সহ একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে এপস্টিনের যোগাযোগ ছিল, কিন্তু তাঁদের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগের প্রমাণ নেই। তাই নতুন প্রকাশিত এই নথি থেকেও অনেকের প্রত্যাশিত “বড়সড় তথ্য ফাঁস” হয়নি।
তবুও এই ফাইলের প্রকাশে নতুন করে সরগরম হয়েছে মার্কিন রাজনীতি। দীর্ঘদিন ধরে চলা এপস্টিন মামলা বরাবরই আমেরিকান রাজনীতি ও বিনোদন জগতের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এই নথিতে বিল ক্লিন্টন, স্টিফেন হকিং, মাইকেল জ্যাকসন, ল্যারি পেজের মতো নামও রয়েছে। তবে তাঁদের কারও বিরুদ্ধেই গুরুতর অপরাধ প্রমাণিত হয়নি। ট্রাম্প নিজেও দাবি করেছেন, তিনি এপস্টিনের অপরাধমূলক কার্যকলাপ সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। হোয়াইট হাউস থেকেও ট্রাম্পের এই বক্তব্য সমর্থন করা হয়েছে।
এই মামলাকে ঘিরে রাজনীতির আঁচ ক্রমশ চড়ছে। এপস্টিনের সঙ্গে নিজের নাম জড়ানোয় ক্ষুব্ধ ট্রাম্প সম্প্রতি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বিরুদ্ধে এক হাজার কোটি ডলারের মানহানির মামলা করেছেন। ভারতীয় মুদ্রায় যা ৮৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এদিকে বিরোধীরা এই মামলাকে হাতিয়ার করে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলছে।
জেফ্রি এপস্টিনের মৃত্যু নিয়েও রহস্য এখনও কাটেনি। সরকারি ভাবে এটি আত্মহত্যা হিসেবে ঘোষণা করা হলেও বহু মানুষ মনে করেন, এটি ছিল পরিকল্পিত হত্যা, যাতে প্রভাবশালী মহলের কেলেঙ্কারি গোপন রাখা যায়। এই ৩৩ হাজার পাতার নথি প্রকাশ্যে আসায় সেই বিতর্ক আরও উসকে উঠবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, এটাই নথি প্রকাশের শেষ নয়। আরও গোপন ফাইল জনসমক্ষে আনার প্রক্রিয়া চলবে। তবে এই ফাইলের মাধ্যমে এপস্টিন মামলা নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহল আরও বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য।
ওড়িশায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির তল্লাশি, ১৩৯৬ কোটির প্রতারণা মামলায় উদ্ধার কোটি টাকার সম্পদ