পুরুলিয়ায় পাহাড়প্রেমীদের জন্য নতুন ফি নিয়ম
পুরুলিয়ার পাহাড়ে শৈলারোহণ, ট্রেকিং ও পাখি দেখা, এইসব অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমী বাঙালির অন্যতম প্রিয় কার্যকলাপ। তবে সম্প্রতি পুরুলিয়া বন দফতরের নতুন নির্দেশিকায় এ ধরনের কার্যকলাপের জন্য ফি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেখে চিন্তিত হয়েছেন অনেকেই। বিশেষ করে, শৈলারোহণ এবং ট্রেকিংয়ে ফি বৃদ্ধি, তাঁবুতে থাকা এবং অন্যান্য পরিসেবার জন্য বাড়তি খরচ শুরু হয়ে যাওয়ায় অনেকের কাছে এটি একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এখন প্রতিদিন শৈলারোহণ করতে হলে মাথাপিছু ফি দিতে হবে ১৫০ টাকা, যা আগে ছিল মাত্র ২০ টাকা। স্কুলপড়ুয়া ছাত্রদের জন্য ফি ছিল ২০ টাকা, এখন সেটি ৭৫ টাকা করা হয়েছে। আর যদি তাঁবুতে থাকতে হয়, তাও ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ফি দিতে হবে। একইভাবে, পাখি দেখার জন্য এবং ট্রেকিং করার জন্যও ফি ধার্য করা হয়েছে ১৫০ টাকা। এই নতুন নিয়ম দেখে অনেক পাহাড়প্রেমী এবং ট্রেকিং ক্লাব সদস্যরা একে অত্যন্ত ‘মহার্ঘ’ ও ‘অস্বাভাবিক’ বলে মনে করছেন।
এদিকে, এই নতুন নির্দেশিকা নিয়ে প্রথমে অনেক গুঞ্জন উঠেছিল। তবে সোমবার পুরুলিয়ার বন দফতর থেকে জানানো হয়, নির্দেশিকায় কিছু অংশের ব্যাখ্যা ভুলভাবে প্রকাশিত হয়েছে, যার ফলে এই বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শৈলারোহণ ও ট্রেকিংয়ের জন্য ফি ২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ টাকা করা হয়েছে, যা আগের তুলনায় বেশ কম। আর সরকারি ডরমিটরিতে থাকার জন্য ফি ১৫০ টাকা হতে পারে, কিন্তু তাঁবু ভাড়া ও অন্যান্য খরচের বিষয়ে আরও স্পষ্টতা দেওয়ার জন্য শীঘ্রই নতুন নির্দেশিকা জারি করা হবে।
এছাড়া, আগের কয়েক বছরেও পুরুলিয়ার মাঠাবুরু পাহাড়ে শিবির আয়োজন করতে গিয়ে ফি কিছুটা বেশি নেওয়া হয়েছিল, তবে আপত্তি জানিয়ে তা কমানো হয়। পরবর্তী সময়ে সেখানে শিবির আয়োজনের জন্য ৪ হাজার টাকা ফি ধার্য করা হয়েছিল, তবে অনেকের আপত্তির পর তা কিছুটা কমানো হয়।
এবার নতুন নির্দেশিকায় যেভাবে ফি বাড়ানো হয়েছে, তাতে পুরুলিয়ার বিভিন্ন পাহাড়ে শৈলারোহণ শিবির বা ট্রেকিংয়ে অংশ নেওয়া অনেকেই এই বাড়তি খরচের ফলে অংশ নিতে আগ্রহী হচ্ছেন না। সোনারপুরের এক পর্বতারোহী ক্লাবের সদস্য রুদ্রপ্রসাদ হালদার বলেন, ‘‘২০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা! এত বড় ব্যবধান, এটা মেনে নেওয়া কঠিন। এই ভাবে ফি বাড়ানো হলে শিবিরের প্রতি মানুষের আগ্রহ কমে যাবে।’’
পুরুলিয়ার বন দফতর ও ক্রীড়া দফতরের সমন্বয়ে আলোচনা চলছে, এবং এই ফি বৃদ্ধির পরিমাণ আগের তুলনায় অনেকটা কমানো হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। রাজ্যের যুবকল্যাণ ও ক্রীড়া দফতরের ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস ফাউন্ডেশন’-এর পর্বতারোহণ উপদেষ্টা দেবদাস নন্দী জানান, ‘‘বিষয়টি নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে এবং খুব তাড়াতাড়ি নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ করা হবে।’’
শীতকালে পুরুলিয়ার পাহাড়ে শৈলারোহণ এবং ট্রেকিং শিবির আয়োজন করা হয়, যা বাঙালির মধ্যে জনপ্রিয় একটি অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস হয়ে উঠেছে। এই ফি বৃদ্ধির ফলে, আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষ এবং অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমী ক্লাবগুলির অংশগ্রহণ কমে যেতে পারে। নতুন ফি নিয়মে এভাবে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হলে পুরুলিয়ার এই পর্যটন কেন্দ্র দ্রুত বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
অতএব, এটি স্পষ্ট যে, একদিকে যেমন পাহাড়ের প্রকৃতি এবং অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ানো দরকার, তেমনই ফি বৃদ্ধি এমন পর্যায়ে না পৌঁছানো উচিত, যাতে সাধারণ মানুষ ও পর্যটকরা সেসব থেকে বঞ্চিত হন।