পুরভোটের আগেই মহাজুটির দাপট!
মহারাষ্ট্রে পুরসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই অঙ্ক কষা শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক শিবিরে। আগামী ১৫ জানুয়ারি বৃহন্মুম্বই পুরসভা (বিএমসি)-সহ রাজ্যের ২৯টি পুরসভার ভোট। তার আগেই বড়সড় সাফল্যের দাবি করেছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন শাসকজোট ‘মহাজুটি’— এনডিএ-র মরাঠী সংস্করণ। মনোনয়ন প্রত্যাহার পর্ব শেষ হতেই রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য বলছে, মোট ৬৮টি ওয়ার্ডে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেয়েছে এই জোট।
এই ৬৮টির মধ্যে একা বিজেপিই জিতেছে ৪৪টি আসনে। বাকি আসনগুলি গিয়েছে তাদের শরিকদের ঝুলিতে। তবে এই ‘সহজ জয়’ নিয়েই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। কংগ্রেস-সহ একাধিক বিরোধী দল অভিযোগ তুলেছে, বিরোধী প্রার্থীদের উপর চাপ সৃষ্টি এবং ভীতিপ্রদর্শনের কারণেই বহু জায়গায় মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছেন প্রার্থীরা।
রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব অবশ্য এই অভিযোগ মানতে নারাজ। তাদের বক্তব্য, সাংগঠনিক শক্তি এবং স্থানীয় স্তরে জনপ্রিয়তার ফলেই বিরোধীরা লড়াইয়ে নামতে সাহস পাচ্ছে না। কিন্তু বিরোধীদের পাল্টা দাবি, প্রশাসনিক প্রভাব এবং ক্ষমতার দাপট দেখিয়েই মাঠ ফাঁকা করা হয়েছে।
পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যাচ্ছে, কল্যাণ-ডোম্বিবলী পুরসভার ১০টি ওয়ার্ডে বিজেপি এবং শিন্দে শিবসেনার প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন। এ ছাড়া পুণে, পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড়, পনভেল, ভিওয়ান্ডি, ধুলে, জলগাঁও ও অহল্যানগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুরসভাতেও ভোটের আগেই জয়ের মুখ দেখেছে মহাজুটি।
তবে দেশের বৃহত্তম পুরসভা Brihanmumbai Municipal Corporation বা বিএমসিতে পরিস্থিতি আলাদা। এখানে ২২৭টি ওয়ার্ডের সব ক’টিতেই ভোট হচ্ছে। মোট প্রার্থী ১৭২৯ জন। অর্থাৎ, মুম্বইয়ের লড়াই এখনও পুরোপুরি খোলা এবং রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে।
এ বারকার পুরভোটে জোট রাজনীতির ছবিটাও বেশ জটিল। বিজেপি নেতৃত্বাধীন শাসক শিবিরে ভাঙন স্পষ্ট। মুখ্যমন্ত্রী Devendra Fadnavis-এর বিজেপি আসন সমঝোতা করেছে উপমুখ্যমন্ত্রী Eknath Shinde-র শিবসেনার সঙ্গে। কিন্তু অন্য উপমুখ্যমন্ত্রী Ajit Pawar-এর এনসিপি এই জোটের বাইরে থেকে ৩৭টি আসনে আলাদা ভাবে লড়ছে।
অন্য দিকে, বিজেপিকে ঠেকাতে বিরোধী শিবিরেও বিরল সমীকরণ। দু’দশকের পুরনো শত্রুতা ভুলে শিবসেনা (ইউবিটি) প্রধান Uddhav Thackeray হাত মিলিয়েছেন রাজ ঠাকরের মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনার সঙ্গে। সেই সঙ্গে কংগ্রেস এবং এনসিপি (শরদচন্দ্র পওয়ার) জোট বেঁধেছে দলিত নেতা Prakash Ambedkar-এর ‘বঞ্চিত বহুজন অঘাড়ী’-সহ একাধিক ছোট দলের সঙ্গে।
সব মিলিয়ে, ভোটের আগেই ৬৮টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় শাসক শিবিরকে মানসিক ভাবে এগিয়ে রাখলেও ভীতিপ্রদর্শনের অভিযোগ রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা যোগ করেছে। ১৫ জানুয়ারির ভোটই ঠিক করবে, এই আগাম সাফল্য আদৌ কতটা বাস্তব শক্তির প্রতিফলন, আর কতটা কৌশলগত সুবিধা।