পুতিন-জ়েলেনস্কির অনড়তায় ট্রাম্পের হতাশা, যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা কি থেমে যাচ্ছে?

পুতিন-জ়েলেনস্কির অনড়তায় ট্রাম্পের হতাশা! রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে দ্বিতীয় দফায় প্রেসিডেন্টের আসনে বসেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি দাবি করেছিলেন, তাঁর নেতৃত্বেই এই ভয়াবহ সংঘাতের ইতি ঘটবে।…

August 24, 2025
1 min read

পুতিন-জ়েলেনস্কির অনড়তায় ট্রাম্পের হতাশা!

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে দ্বিতীয় দফায় প্রেসিডেন্টের আসনে বসেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি দাবি করেছিলেন, তাঁর নেতৃত্বেই এই ভয়াবহ সংঘাতের ইতি ঘটবে। কিন্তু মাসের পর মাস কেটে গেলেও যুদ্ধবিরতির দিকে এক পা-ও অগ্রসর হয়নি পরিস্থিতি। এতে বিরক্তি ও হতাশা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ওভাল অফিসে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের সামনে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আপাতত যুদ্ধ থামানোর চেষ্টা থেকে কিছুটা সরে আসছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘যুদ্ধের ব্যাপারটা নিয়ে আমি একেবারেই খুশি নই। একেবারেই না।’’ সঙ্গে এও জানিয়েছেন, আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যেই তিনি এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। যদিও ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক মহলে অনেকেই বলছেন, ‘দু’সপ্তাহ’ বলা ট্রাম্পের একটি বহুল ব্যবহৃত অভ্যাস। কোনও কঠিন সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিতে তিনি প্রায়ই এই সময়সীমা উল্লেখ করেন।

এদিকে, পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে পুতিন ও জ়েলেনস্কির অনমনীয় অবস্থানের কারণে। আলাস্কায় পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন ট্রাম্প, যা তিনি ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। সেই সময় ট্রাম্প আত্মবিশ্বাসী ছিলেন যে রুশ প্রেসিডেন্ট ইউক্রেনীয় নেতার মুখোমুখি আলোচনায় রাজি হবেন। প্রয়োজনে নিজে উপস্থিত থেকেও সমঝোতার চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বাস্তবে ক্রেমলিন বারবার জানিয়ে দিয়েছে, জ়েলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের কোনও সম্ভাবনা নেই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পুতিনের দিক থেকে এই অস্বীকৃতির পিছনে বড় কারণ রয়েছে। যদি রুশ প্রেসিডেন্ট ইউক্রেনীয় নেতার সঙ্গে একই টেবিলে বসেন, তবে তা কার্যত ইউক্রেনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সমান হবে। যা মস্কো শুরু থেকেই এড়িয়ে এসেছে। অন্যদিকে, জ়েলেনস্কিও যুদ্ধের ময়দানে ছাড় দিতে রাজি নন। ফলে সংঘাত থামানোর সব পথই আপাতত অচল হয়ে আছে।

অন্যদিকে, ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে দিন দিন বাড়ছে প্রাণহানি। যুদ্ধের ভয়াবহতা ইউরোপের নিরাপত্তা এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলছে। হোয়াইট হাউস সূত্রে খবর, এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, তিনি বারবার চেষ্টা করলেও মূল সমস্যার জায়গায় নড়াচড়া নেই। ফলে আপাতত তিনি অপেক্ষা করে দেখতে চান—পুতিন কি শেষমেশ আলোচনায় বসতে রাজি হন, নাকি যুদ্ধ আরও রক্তক্ষয়ী পথে এগিয়ে যায়।

সব মিলিয়ে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতির কেন্দ্রে। ট্রাম্প ধৈর্য ধরে আরও চেষ্টা চালাবেন, নাকি হতাশ হয়ে একেবারেই পিছিয়ে যাবেন—এমন প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে বিশ্ব কূটনীতির অন্দরমহলে।

এই অচলাবস্থার মধ্যে নজর এখন হোয়াইট হাউসের দিকে। আগামী দু’সপ্তাহ ট্রাম্পের ঘোষণার মতোই সত্যিই সিদ্ধান্তমূলক সময় হয়ে ওঠে কি না, সেটিই দেখার।

ট্রোলের জবাবে মৌনী রায়: ‘‘ভালবাসা শিখুন, নয়তো জীবন ব্যর্থ’’

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *