পুজোর ছুটি শেষে পড়াশোনায় মন বসাতে সমস্যা?
দূর্গাপুজো শেষে ছোটদের পড়াশোনায় মন বসানো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। ছুটির মজা, বন্ধুবান্ধবের আড্ডা আর প্যান্ডেল ভ্রমণের আনন্দ শেষ হলেও সন্তানদের মন সহজে পুরনো রুটিনে ফিরে আসে না। এর সঙ্গে বাবা-মায়ের দুশ্চিন্তাও বাড়ে—“ছেলে বা মেয়ের পড়াশোনায় কীভাবে আগ্রহ ফিরিয়ে আনা যায়?”
বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকটি কৌশল অনুসরণ করলে শিশুর মনকে আবার পড়াশোনার দিকে ফেরানো সম্ভব।
১) ঘুমের রুটিন ঠিক করুন:
ছুটির সময়ে ছোটদের ঘুমের সময় ও ওঠার সময় পরিবর্তিত হয়ে থাকে। পুজোর পর যত দ্রুত সম্ভব পুরনো ঘুমের রুটিনে ফিরতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমোতে যাওয়া ও উঠার অভ্যাস পুনরায় তৈরি করলে স্কুল শুরু হলে তাদের সমস্যা কম হবে এবং মনও পড়াশোনার জন্য প্রস্তুত থাকবে।
২) খাওয়ার সময় ও অভ্যাস ঠিক করুন:
ছুটির সময়ে খাওয়ার সময়ও পরিবর্তিত হয়। পুজোর পর সন্তানকে পুরনো সময়সূচিতে ফিরিয়ে আনা জরুরি। নিয়মিত খাবারের সময় বজায় রাখলে দেহ এবং মস্তিষ্ক বুঝতে পারবে যে ছুটি শেষ, ফলে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ নতুন করে তৈরি হবে।
৩) প্রথমে ছোট বিরতি দিন:
ছোটদের একসঙ্গে দীর্ঘ সময় পড়তে বসানো ঠিক নয়। প্রথম দিকে ২০–৩০ মিনিট পড়ার সময় ঠিক করা যেতে পারে। এর পর ছোট্ট বিরতি দেওয়া যেতে পারে। এই সময় তাদের পছন্দের বিষয় বা সহজ বিষয় পড়ানোর চেষ্টা করলে তারা বিরক্ত হবে না, বরং ধীরে ধীরে আগ্রহ ফিরে পাবে।
৪) স্কুল ও বন্ধুবান্ধবকে মনে করান:
ছোটদের মধ্যে অনেকেই ছুটির পরে স্কুলে যেতে অনিচ্ছুক হয়। বাবা-মা স্কুলের বন্ধু, শিক্ষক এবং খেলার স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে উৎসাহ জাগাতে পারেন। পরিবারের মধ্যে স্কুল ও পড়াশোনা সম্পর্কে ইতিবাচক কথোপকথন শিশুর মনে আগ্রহ ফিরিয়ে আনে।
৫) পড়ার জায়গা সাজিয়ে নিন:
ছুটির সময়ে পড়ার টেবিলে ধুলো জমে থাকে। সন্তানকে নিজেই টেবিল গুছিয়ে রাখতে দিন। বই, খাতা ও কলম দেখে তারা আগের বিষয়গুলো মনে করতে পারবে। এতে পড়াশোনার প্রতি মনোযোগও স্বাভাবিকভাবে তৈরি হবে।
ছুটির পরে শিশুর মনকে আবার পড়াশোনার দিকে ফিরিয়ে আনা সময়সাপেক্ষ হলেও সম্ভব। প্রয়োজন শুধু ধৈর্য, ধাপে ধাপে রুটিন ফিরিয়ে আনা এবং ইতিবাচক উৎসাহ। বাবা-মা যদি এই পাঁচটি কৌশল মানেন, তবে সন্তানকে নতুন উদ্দীপনা দিয়ে পড়াশোনার সঙ্গে পুনরায় যুক্ত করা যাবে।
ছোটদের মনকে চাপ না দিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে আনা, নিয়মিত ঘুম-খাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখা এবং পড়ার পরিবেশ সুষম রাখা—এটাই মূল চাবিকাঠি। এর মাধ্যমে শিশুরা আনন্দের ছুটি কাটিয়ে আবার পড়াশোনায় মনোযোগী হতে শিখবে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?