পুজোর আগেই কলকাতার বাজারে বাংলাদেশের ইলিশ, প্রথম দফায় এল ৫০ মেট্রিক টন

প্রথম দফায় এল ৫০ মেট্রিক টন দুর্গাপুজোর আগে প্রতিবারই বাঙালির আড্ডার অন্যতম বিষয় হয় ইলিশ। পদ্মার রুপালি সেই ইলিশ এ বছরও এসে পৌঁছল কলকাতার বাজারে। মঙ্গলবার গভীর রাতে বনগাঁ সীমান্ত…

September 18, 2025
1 min read

প্রথম দফায় এল ৫০ মেট্রিক টন

দুর্গাপুজোর আগে প্রতিবারই বাঙালির আড্ডার অন্যতম বিষয় হয় ইলিশ। পদ্মার রুপালি সেই ইলিশ এ বছরও এসে পৌঁছল কলকাতার বাজারে। মঙ্গলবার গভীর রাতে বনগাঁ সীমান্ত পেরিয়ে ঢোকে মাছভর্তি ট্রাক। প্রথম দফায় এসেছে ৫০ মেট্রিক টন ইলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে কলকাতা ও হাওড়ার মাছ ব্যবসায়ীরা নিলামে অংশ নেন। এরপর থেকেই খুচরো বাজারে বিক্রি শুরু হয়েছে। প্রতি কেজি ইলিশের দাম পড়ছে গড়ে ১৬০০ থেকে ১৭০০ টাকা। তবে ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, চাহিদা বাড়লে দাম আরও বাড়তে পারে।

বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রক কয়েকদিন আগেই ঘোষণা করেছিল, শারদোৎসবের আগে ভারতে পদ্মার ইলিশ পাঠানো হবে। সেই প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতেই মঙ্গলবার রাতে বাংলাদেশ থেকে ১০টি গাড়ি সীমান্ত পার হয়ে কলকাতায় পৌঁছয়। ক্রেতাদের ভিড়ও দেখা যায় কলকাতার বাজারে। অনেকেই খোঁজ নিচ্ছেন, ঠিক কবে থেকে দোকানে মিলবে পদ্মার ইলিশ।

‘ফিস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন’-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে ধাপে ধাপে ইলিশ আমদানির পরিমাণ বাড়বে। সব মিলিয়ে প্রায় ১২০০ মেট্রিক টন পদ্মার ইলিশ ভারতে আসবে বলে আশা। ফলে পুজোর বাজারে ইলিশের ঘাটতি হবে না বলেই মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

তবে ইলিশের রফতানি নিয়ে ইতিহাস বেশ উত্থান-পতনের। ২০১৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের জাতীয় রফতানি নীতি অনুযায়ী শর্তসাপেক্ষে রফতানি পণ্যের তালিকায় জায়গা পায় ইলিশ। যদিও বিদেশে ইলিশ রফতানির প্রথম অনুমতি দেওয়া হয় ২০১৯ সালে। তখন থেকেই প্রতি বছর দুর্গাপুজোর সময়ে কিছু পরিমাণ ইলিশ ভারতে আসতে থাকে।

২০১৯ থেকে ২০২১ পর্যন্ত নিয়মিতভাবে ভারতে ইলিশ পাঠানো হলেও পরবর্তীতে শেখ হাসিনার সরকার রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। তবুও পুজোর সময়ে ছাড়পত্র মেলে। গত বছর বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রক প্রথমে ৩,০০০ টন ইলিশ রফতানির সিদ্ধান্ত নিলেও পরে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ২,৪২০ টনে। এ বছর অন্তর্বর্তী সরকার আরও কমিয়ে ১,২০০ টনের অনুমতি দিয়েছে।

প্রতি কেজি ইলিশ ন্যূনতম সাড়ে ১২ ডলারে রফতানি করা হবে, যা ভারতীয় মুদ্রায় দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১,০৫৭ টাকা। তবে আমদানি শুল্ক, পরিবহন ও ব্যবসায়ীদের লাভ যোগ হয়ে কলকাতার খুচরো বাজারে এর দাম অনেকটাই বেশি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তাই সাধারণ বাঙালি ক্রেতার পকেট কিছুটা চাপে পড়লেও পুজোর আগে পদ্মার ইলিশের স্বাদ নেওয়ার লোভ সামলানো সত্যিই কঠিন।

প্রথম দফার ৫০ মেট্রিক টন ইলিশ পৌঁছনোর পর বাজারে রুপালি মাছের দেখা মিলতেই খুশি ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা। কেউ কিনছেন পরিবারের জন্য, কেউ আবার আত্মীয়স্বজনদের পাঠানোর জন্য। পুজোর আগে ইলিশের আগমন যেন উৎসবের আমেজকে আরও বাড়িয়ে দিল।

সব মিলিয়ে বলা যায়, সীমিত পরিমাণ হলেও পুজোর মরসুমে পদ্মার ইলিশ আসায় খুশির হাওয়া বইছে বাঙালির রান্নাঘরে। দাম বেশি হলেও বাঙালির মনে ইলিশের টান আগের মতোই অটুট।

ওড়িশায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির তল্লাশি, ১৩৯৬ কোটির প্রতারণা মামলায় উদ্ধার কোটি টাকার সম্পদ

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *