পুজোয় শ্রীমার মণ্ডপ পরিক্রমা!
ছোটপর্দার জনপ্রিয় মুখ শ্রীমা ভট্টাচার্য আজ টেলিভিশনের সীমা ছাড়িয়ে বড়পর্দা আর ওটিটিরও প্রিয় অভিনেত্রী। পুজোর সময়ে কাজের চাপ বেড়ে যায় ঠিকই, তবু এই সময়টা তিনি নিজের মতো করে উপভোগ করেন। মণ্ডপে মণ্ডপে আমন্ত্রণ, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া— সব মিলিয়ে সময় যেন উড়ে যায়। তবে ব্যস্ততার মাঝেই শ্রীমা সময় বের করেন পরিবারের সঙ্গে কাটানোর জন্য।
শৈশবের পুজোর স্মৃতিতে ভরপুর তিনি। হাসতে হাসতে জানালেন, “ছোটবেলায় বাবা খুব কড়া ছিলেন। দমদম পার্ক থেকে লেকটাউন বা শ্রীভূমি পর্যন্তই ঠাকুর দেখতে যাওয়া যেত। সপ্তমীতে পুরো পরিবার একসঙ্গে বেরোতাম। ফেরার পথে হাঁটতে হাঁটতেই নানা জিনিসের জন্য বায়না করতাম। বাবা পরে সবই ধরে ফেলেছিলেন।”
পুজোর সময়ে আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে উপহারের অপেক্ষায় থাকতেন ছোট্ট শ্রীমা। জামাকাপড়ের চেয়ে নগদ টাকা বেশি পছন্দ করতেন তিনি। “৫০ বা ১০০ টাকা পেলেই নিজের হাতখরচ মিটে যেত,” বললেন তিনি হেসে। ছোটবেলার দুষ্টুমিও মনে আছে তাঁর। ঠাকুর দেখার লাইনে দাঁড়িয়ে লেজার বন্দুক দিয়ে অন্যদের বিরক্ত করতেন, বাবার বকুনিও খেতে হয়েছে এজন্য। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্যাপ বন্দুকের প্রতি আকর্ষণ বেড়েছিল, যা নিয়ে তিনি আর তাঁর ভাই প্রচুর মজা করতেন।
শ্রীমা ভীষণ ঈশ্বরবিশ্বাসী। অষ্টমীর দিন যত মণ্ডপে সম্ভব, অঞ্জলি দিতে যান। “ছোটবেলায় সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী— প্রতিদিন অঞ্জলি দিতাম। বিশ্বাস করতাম যত বেশি অঞ্জলি দেব, তত বেশি আশীর্বাদ পাব। এখন শুধু অষ্টমীতে পারি। গত বছর অসুস্থ থাকার কারণে প্রথমবার অঞ্জলি দিতে পারিনি, খুব কষ্ট হয়েছিল,” জানালেন তিনি।
এই অঞ্জলির পথ ধরেই পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হয় তাঁর। পুজোর অষ্টমীর দুপুরে প্রায় ২০-২২ জনের দল হয়ে যায়, যাদের সঙ্গে তিনি প্রিয় বন্ধুর বাড়িতে যান। সেখানেই কাকিমা বিশেষ ভোগ রান্না করেন। “লুচি, তরকারি, পোলাও, আলুর দম— আমরা সবাই মিলে খেয়ে ফেলি। কাকিমা জানেন, আমি মানেই ভিড়!”
পুজোর আনন্দের কথা বলতে গিয়ে শ্রীমা আরও যোগ করলেন, “পুজোয় ডায়েট আমার কাছে পাপ! এই পাঁচ দিন খাই-দাই আর মণ্ডপে ঘুরি। কখনও বাইক নিয়ে বেরিয়ে পড়ি, কখনও আবার হেঁটেই মণ্ডপ থেকে মণ্ডপে।”
শ্রীমার কাছে পুজো মানে শুধু দেবী দর্শন নয়, বরং স্মৃতি, বন্ধুদের সঙ্গে হাসি-আড্ডা আর পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর এক অনন্য উৎসব। ব্যস্ত জীবনের ফাঁকেও তিনি প্রতি বছর এই আনন্দটুকু উপভোগ করতে ভুল করেন না।
চিনের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়নে দৃঢ় সংকল্প ভারত, এসসিও শীর্ষবৈঠকে নতুন কূটনৈতিক দিশা খুঁজছেন মোদী