পুজোয় প্রতিমার সঙ্গেই চিরবিদায় প্রবাসী ইঞ্জিনিয়ারের
দুর্গাপুজোর আনন্দ উৎসবের মধ্যেই বালুরঘাটে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ঘটনা। অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে কর্মরত প্রবাসী ইঞ্জিনিয়ার অংশুমান নন্দী পুজোর ছুটিতে বাড়ি এসে প্রতিমা নিরঞ্জনের সময় দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। সোমবার বিকেল তিনটার দিকে আত্রেয়ী নদীতে প্রতিমা নিরঞ্জন করতে গিয়ে জলে ডুবে যান তিনি। ২৬ ঘণ্টা পর, আজ সকালে তার মৃতদেহ খিদিরপুর শ্মশানঘাট এলাকায় ভেসে ওঠে।
সোমবার বিকেলে প্রতিমা নিরঞ্জনের জন্য পরিবারের সাথে বালুরঘাটের কাঁঠালপাড়া ঘাটে যান অংশুমান। দেবীর প্রতিমা জলে ঠেলে দেওয়ার সময় তিনি ও তার সঙ্গে আরও দুই ব্যক্তি জলে তলিয়ে যেতে থাকেন। উপস্থিত লোকজনের প্রচেষ্টায় বাকি দুজনকে কোনো রকমে উদ্ধার করা গেলেও, অংশুমান নন্দীকে সেদিন উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
উদ্ধার কাজের জন্য জেলা প্রশাসন থেকে ডুবুরি ও স্পিডবোট নামানো হয়েছিল, কিন্তু দীর্ঘ তল্লাশির পরও কোনও খোঁজ মেলেনি। অবশেষে আজ সকালে স্থানীয়রা নদীর ধারে বসে থাকা অবস্থায় কিছু একটা ভাসতে দেখে পুলিসকে খবর দেন। পুলিস এসে তার মৃতদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য বালুরঘাট হাসপাতালে পাঠানো হয়।
অংশুমান নন্দী গত সাত বছর ধরে সিডনিতে কর্মরত ছিলেন এবং এই দুর্গাপুজোর সময় ছুটিতে বাড়ি ফিরেছিলেন। শ্বশুরবাড়ির পারিবারিক পুজোয় অংশ নিতে এসেছিলেন এবং সেই সময় প্রতিমা নিরঞ্জন করতে গিয়ে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। তার মৃত্যুর খবরে কাঁঠালপাড়া এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
অংশুমান নন্দীর সঙ্গে জলে তলিয়ে যাওয়া আরও একজন, শ্যামল কুমার দত্ত, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনার পর থেকে এলাকার মানুষ ও তার পরিবারের সদস্যরা নদীর ধারে অপেক্ষায় ছিলেন, যদিও বেঁচে থাকার কোনও আশা প্রায় নেই বলেই ধরে নেওয়া হয়েছিল।
এই দুর্ঘটনাটি বালুরঘাটের মানুষদের জন্য এক বিশাল আঘাত, যেখানে উৎসবের আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদের মধ্যে রূপ নেয়। পরিবারের সদস্যরা এই মর্মান্তিক ঘটনার জন্য শোকস্তব্ধ, এবং শহর জুড়ে মানুষের মাঝে গভীর শোক ও বেদনার বাতাবরণ ছড়িয়ে পড়েছে।