পহেলগাঁও কাণ্ডে জ্যোতির ভূমিকা খতিয়ে দেখছে পুলিশ
সমাজমাধ্যমের দুনিয়ায় জনপ্রিয় মুখ জ্যোতি মলহোত্রা। নিজের ভ্রমণকাহিনি, রঙিন জীবন ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেই তিনি নজর কেড়েছেন বহু মানুষের। কিন্তু সম্প্রতি এক ভয়ংকর অভিযোগের মুখে পড়েছেন এই নেটপ্রভাবী। তাঁর বিরুদ্ধে উঠেছে পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ। শুধু তাই নয়, পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের ঠিক আগে তিনি ঘুরে এসেছেন পাকিস্তান থেকে।
পহেলগাঁও কাণ্ড ও পাক সফর— কাকতালীয় না ষড়যন্ত্র?
হরিয়ানা পুলিশের দাবি, ভারত-পাকিস্তান সাম্প্রতিক উত্তেজনার সময়েও পাকিস্তানের কিছু সন্দেহভাজন চর সংস্থার সঙ্গে জ্যোতির যোগাযোগ ছিল। পহেলগাঁওর ঘটনায় তাঁর কোনও ভূমিকা ছিল কি না, কিংবা পাকিস্তান সফরের সঙ্গে এই ঘটনার কোনও যোগ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হিসার জেলার পুলিশ সুপার শশাঙ্ককুমার সবন্ত জানিয়েছেন, তদন্ত চলছে পূর্ণ উদ্যমে।
জানা গিয়েছে, জ্যোতির সামাজিক মাধ্যমে কয়েক মাস আগেই কাশ্মীর ঘুরে আসার ভিডিয়ো আপলোড করা হয়েছিল। তাঁর পাকিস্তান সফরের বিষয়টিও ধরা পড়েছে সেই সমস্ত পোস্টে ও পাসপোর্ট যাচাইয়ের পর। একা নন, আরও কয়েকজন নেটপ্রভাবীর বিরুদ্ধেও পাকিস্তানের চর সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার সন্দেহ প্রকাশ করেছে পুলিশ।
কেন সমাজমাধ্যম প্রভাবীদের টার্গেট করছে গুপ্তচরেরা?
পুলিশ সুপারের কথায়, আধুনিক যুদ্ধ আর কেবল সীমান্তে সীমাবদ্ধ নেই। তথ্য, ভাবমূর্তি এবং মনস্তত্ত্বের লড়াই এখন বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। সমাজমাধ্যম প্রভাবীরা হয়ে উঠছেন এক একটি ‘ডিজিটাল অস্ত্র’। ‘লাইক’, ‘ভিউ’ এবং ‘শেয়ার’-এর লোভে অনেকে নিজের অজান্তেই বিপজ্জনক পথে হাঁটছেন। পাকিস্তানি গুপ্তচররা এই সুযোগকেই কাজে লাগাতে চাইছে— ভারতের ভাবমূর্তি খারাপ করতে, ভুল তথ্য ছড়াতে।
তদন্তে কী উঠে আসছে?
জ্যোতির মোবাইলে পাওয়া গেছে কিছু সন্দেহজনক নম্বর, যেগুলির মধ্যে ‘জাট রনধাওয়া’ নামে একটি নামও ছিল সংরক্ষিত। এছাড়াও তাঁর ওড়িশা সংযোগ, পুরীর এক প্রভাবশালীর সঙ্গে যৌথ পাকিস্তান সফর, এমন নানা দিক ঘিরে তদন্ত চলছে। তাঁর ব্যাঙ্ক লেনদেন, ভ্রমণের তথ্য, এমনকি চিন সফরও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
হরিয়ানা পুলিশ জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গে মিলে তারা কাজ করছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসবে বলে আশা।
সতর্কবার্তা সকলের জন্য
এই ঘটনার পর পুলিশের তরফ থেকে এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও দেওয়া হয়েছে— সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারীদের সচেতন থাকতে হবে। কখন, কী তথ্য প্রকাশ করছেন, সেটি যে কোনও সময়ে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। পুলিশের কথায়, “আপনি যা সাধারণ বলে মনে করছেন, সেটিই দেশের জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।”
জ্যোতির ঘটনা শুধুই এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়— এটি এক বড় প্রশ্ন তুলে দেয় আমাদের ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সচেতনতার প্রতি। আজকের দিনে জনপ্রিয়তা যেমন সম্মান আনে, তেমনি ভুল পদক্ষেপ ভয়ঙ্কর বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে।
কন্যাকে বিশেষ কারণে কান-এ নিয়ে যান ঐশ্বর্যা! বিদেশি উৎসবে আরাধ্যার প্রিয় মুহূর্ত কী?