পাকিস্তান-সৌদির ‘অশুভ আঁতাঁত’!
মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন তুলেছে United Arab Emirates-এর একটি বড় সিদ্ধান্ত। চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল তারা তেল উৎপাদনকারী দেশগুলির জোট OPEC ছাড়ার ঘোষণা করেছে। এই পদক্ষেপের পর থেকেই আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা—এ কি শুধুই অর্থনৈতিক কৌশল, না কি এর পিছনে রয়েছে গভীর রাজনৈতিক বার্তা?
বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তে পরোক্ষে চাপ তৈরি হয়েছে Saudi Arabia ও Pakistan-এর উপর। যদিও সরাসরি “অশুভ আঁতাঁত” ভাঙার দাবি প্রমাণিত নয়, তবু ঘটনাপ্রবাহে সম্পর্কের টানাপড়েন স্পষ্ট।
ওপেক দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সদস্য দেশগুলিকে নির্দিষ্ট উৎপাদন নীতি মেনে চলতে হয়। কিন্তু এই সীমাবদ্ধতা থেকে বেরিয়ে এসে ইউএই এখন নিজস্ব সিদ্ধান্তে তেল উৎপাদন বাড়াতে পারবে, যা তাদের আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করতে পারে।
এই সিদ্ধান্তের পিছনে রয়েছে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংঘাতও। Iran-এর সঙ্গে উত্তেজনার জেরে ইউএই-র তেল অবকাঠামো ও শহরগুলিতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। ফলে অর্থনৈতিক চাপ বেড়েছে, আর সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে দ্রুত উৎপাদন বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে। কিন্তু ওপেকের নিয়মে তা সম্ভব ছিল না।
এখানেই সামনে আসে সৌদি আরবের সঙ্গে মতভেদের প্রশ্ন। ওপেকের মধ্যে সৌদির প্রভাব অনেক বেশি। উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রে তাদের আপত্তি ইউএই-কে বিরক্ত করেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রেও প্রত্যাশিত সমর্থন না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
পাকিস্তানের ভূমিকাও আলোচনায় এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে ইসলামাবাদের অবস্থান এবং মধ্যস্থতার চেষ্টাকে ইউএই কতটা ইতিবাচকভাবে দেখেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কিছু বিশ্লেষকের মতে, এই কূটনৈতিক অবস্থান ইউএই-র অসন্তোষ আরও বাড়িয়েছে।
তবে এটাও মনে রাখা জরুরি—এই সিদ্ধান্তকে সরাসরি “যুদ্ধের পথে হাঁটা” বলা ঠিক হবে না। বরং এটি একটি কৌশলগত পদক্ষেপ, যেখানে অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার এবং আঞ্চলিক রাজনীতি—সব কিছুর হিসাব মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববাজারে এর প্রভাব পড়তে পারে। তেলের দাম অস্থির হতে পারে, আবার নতুন বাণিজ্যিক সুযোগও তৈরি হতে পারে। India-র মতো দেশগুলির জন্য এটি সুযোগও বয়ে আনতে পারে, কারণ দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে জ্বালানি আমদানি সহজ হতে পারে।
সব মিলিয়ে, ইউএই-র এই পদক্ষেপ শুধু একটি অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়—এটি মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির সমীকরণে নতুন বার্তা। তবে এর ভবিষ্যৎ প্রভাব কী হবে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপ ও আঞ্চলিক পরিস্থিতির উপর।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?