পাকিস্তান বয়কটের প্রশ্নে গম্ভীরের কড়া অবস্থান: সাত বছর আগে যে বার্তা দিয়েছিলেন, আজ তা ফের আলোচনায়

পাকিস্তান বয়কটের প্রশ্নে গম্ভীরের কড়া অবস্থান! ভারতের বিরুদ্ধে ১৫ ফেব্রুয়ারির ম্যাচ খেলবে না পাকিস্তান— এই ঘোষণার পরই ক্রিকেট দুনিয়ায় ফের তুঙ্গে উঠেছে বয়কট বিতর্ক। ঠিক এই আবহেই ভাইরাল হয়ে গিয়েছে…

February 3, 2026
1 min read

পাকিস্তান বয়কটের প্রশ্নে গম্ভীরের কড়া অবস্থান!

ভারতের বিরুদ্ধে ১৫ ফেব্রুয়ারির ম্যাচ খেলবে না পাকিস্তান— এই ঘোষণার পরই ক্রিকেট দুনিয়ায় ফের তুঙ্গে উঠেছে বয়কট বিতর্ক। ঠিক এই আবহেই ভাইরাল হয়ে গিয়েছে ভারতের বর্তমান কোচ গৌতম গম্ভীরের সাত বছর পুরনো একটি মন্তব্য। পুলওয়ামা হামলার পর পাকিস্তানের সঙ্গে সব রকম ক্রিকেটীয় সম্পর্ক ছিন্ন করার যে স্পষ্ট দাবি তিনি তুলেছিলেন, আজকের পরিস্থিতিতে সেই বক্তব্য নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে পাকিস্তান দল ইতিমধ্যেই শ্রীলঙ্কায় পৌঁছেছে। তবে ভারতের বিরুদ্ধে নির্ধারিত ম্যাচে নামবে না বলেই জানানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে প্রশ্ন, পাল্টা প্রশ্ন আর কূটনৈতিক টানাপড়েন চলছেই। এর মাঝেই অনেক পাকিস্তান সমর্থক গম্ভীরের পুরনো মন্তব্য তুলে ধরে বিতর্কে নতুন রং লাগিয়েছেন।

পটভূমিটা মনে করিয়ে দেওয়া দরকার। ২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি জম্মু ও কাশ্মীরের পুলওয়ামায় ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারান ভারতের ৪০ জন জওয়ান। বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি ঢুকে পড়েছিল সেনাবাহিনীর কনভয়ে। তদন্তে পরে পাকিস্তানের প্রত্যক্ষ মদতের প্রমাণ সামনে আসে। দেশ জুড়ে তখন ক্ষোভ আর শোকের আবহ।

এই ঘটনার এক মাস পর এক সাক্ষাৎকারে গম্ভীর বলেছিলেন, ক্রিকেট আর দেশের নিরাপত্তা— দু’টিকে এক পাল্লায় মাপা যায় না। তাঁর কথায়, “শর্তসাপেক্ষে নির্বাসন কখনও মানা যায় না। হয় পাকিস্তানকে সব দিক থেকে নির্বাসিত করুন, না হলে সব জায়গায় খেলুন।” তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, আইসিসি টুর্নামেন্টে পাকিস্তানকে বয়কট করা ভারতের পক্ষে কঠিন হতে পারে, কিন্তু এশিয়া কাপে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া অসম্ভব নয়।

গম্ভীর আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেছিলেন, “পাকিস্তানকে বয়কট করলে হয়তো আমরা সেমিফাইনালেও পৌঁছোতে পারব না। কিন্তু দু’পয়েন্টের চেয়েও দেশের সম্মান বড়। ক্রিকেট ম্যাচের থেকে পুলওয়ামায় শহিদ ৪০ জন জওয়ানের প্রাণ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তার জন্য বিশ্বকাপ ফাইনাল ছাড়তে হলেও দেশবাসীর সমর্থন থাকা উচিত।”

এই বক্তব্যে গম্ভীরের অবস্থান ছিল একেবারে পরিষ্কার— ক্রিকেটের আগে দেশ। সেই সময় তাঁর এই মন্তব্য অনেক প্রশংসাও কুড়িয়েছিল, আবার বিতর্কও তৈরি করেছিল। তবু বাস্তবে ২০১৯ বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ হয়েছিলই। সেই ম্যাচে বিরাট কোহলির নেতৃত্বে ভারত ৮৯ রানে জেতে। এরপর থেকে প্রতি বছরই আইসিসি বা এশিয়া কাপের মতো মঞ্চে দুই দলের মুখোমুখি হওয়া অব্যাহত থেকেছে, যদিও সব ম্যাচই হয়েছে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে।

আজ, সাত বছর পর, পাকিস্তানের ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্তে গম্ভীরের পুরনো মন্তব্য আবার সামনে আসায় প্রশ্ন উঠছে— সময় কি তবে তাঁর কথাকেই সত্যি প্রমাণ করছে? নাকি ক্রিকেট আর রাজনীতির এই জটিল সম্পর্ক আগের মতোই ধূসর থেকে যাবে? উত্তর দেবে সময়ই, তবে এক কথা স্পষ্ট— গম্ভীরের বক্তব্য আজও সমান তীব্র, সমান প্রাসঙ্গিক।

‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *